নকলা শেরপুর প্রতিনিধি; | সোমবার, ১১ মার্চ ২০২৪ | প্রিন্ট
শেরপুরের নকলায় কথিত সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা (স্থানীয় আজকের বাংলাদেশ পত্রিকা থেকে সদ্য বহিস্কৃত) কর্তৃক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল মুনসুর আহমেদ এর গায়ে হাত তোলাসহ অশোভন আচরণ করায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১১ মার্চ) সকালে মানবন্ধনের যৌথ আয়োজন করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, সার বীজ ডিলার সমিতি, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষনা পরিষদ, নকলা প্রেসক্লাব, উপজেলা শ্রমিক ফেডারেশনসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্ধ। এর সাথে একত্বতা ঘোষণা করেন নকলায় কর্মরত সকল সাংবাদিকবৃন্ধ।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল মুনসুর আহমেদ এর নেতৃত্বে এ মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার ও ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী, জেলা পরিষদের সদস্য সানোয়ার হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান সুজা, দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সোহেল, সার বীজ ডিলার সমিতির সভাপতি জয়েন উদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বিদ্যুৎ, নকলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন সরকার বাবু, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো: খোরশেদ করিম শ্যামল প্রমুখ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার গায়ে হাত দেওয়া মানে সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের গায়ে হাত দেওয়া। তার ৬ মাসের সাঁজা কম হয়েছে। ৬ বছরের সাঁজা হওয়া উচিৎ ছিল। রানা একজন চাঁদাবাজ। সে কখনোই সংবাদ মাধ্যমে খবর করে না। তার নিজস্ব ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন লেখা লিখে মানুষকে হয়রানী করতেছে দীর্ঘদিন যাবৎ। মানুষকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করাই তার কাজ। নকলায় এমন হলুদ ও চাঁদাবাজ সাংবাদিকের প্রয়োজন নেই। তিনি মুক্তিযোদ্ধার গায়ে হাত দিয়েছে মানে সারা দেশের গায়ে হাত দিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদকর্মীদের কাছে অনুরোধ প্রকৃত ঘটনা আপনারা তুলে ধরুন। আংশিক বা কোন বিকৃত ঘটনা না। কথিত সাংবাদিক রানার যদি উপযুক্ত বিচার না হয় তাহলে আমরা রাজপথে নেমে পড়ব এবং কঠিন আন্দোলনের ডাক দিব।
উল্লেখ্য, কথিত সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সরকারি অফিসে অনুপ্রবেশ করে হট্টগোল, সরকারি কাজে অন্যায়ভাবে বাধাদান করা, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল তছনছ করে ফাইল ছিড়াসহ বিভিন্ন ফাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও অসদাচরণ করে এবং এক নারী কর্মচারীকে উত্তক্ত সহ অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এর আগে ব্যক্তিগত কাজে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল মুনসুর আহমেদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। ওই সময় ঘটনাক্রমে রানাকে উত্তেজিত দেখে থামতে বলেন এবং সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু রানা মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুর আহমেদের গায়ে হাত দিয়ে ধাক্কা দেওয়াসহ রক্তচক্ষু দেখায়। পরে জেলা পরিষদের সদস্য মো. সানোয়ার হোসেন রানাকে শান্ত হতে বললে তাকেও অপমানজনক কথাবার্তা বলে। এ ঘটনায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া উম্মুল বানিন বলেন, ‘সাংবাদিক রানা তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন ফেব্রুয়ারীর ১৮ তারিখে। ঘটনার দিন নতুন করে তথ্যের আবেদন বা তথ্য চাওয়ার কোন বিষয় ছিল না। পূর্বের আবেদনের তথ্য তিনি সেদিন চেয়েছিলেন। আমি বলি তথ্যগুলো প্রস্তুত করতেছি। আমার হাতে তথ্য দেওয়ার জন্য ২০ দিন সময় আছে। কিন্তু রানা সিএ শীলার কাছে থাকা তথ্যের ফাইল টানাটানি করেন এবং নানা ধরনের অশালীন ভাষায় কথাবর্তা বলেন। তিনি অসদাচরণ করেছেন। এতে অফিসের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তাই আমি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে বলেছি
Posted ৬:৪০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১১ মার্চ ২০২৪
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।