মোঃ আলতাফ হোসেন বাবু, বিভাগীয় চিফ, রাজশাহী | মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট
উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কেন্দ্র হিসেবে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) বহু বছর ধরে রাজশাহীতে অবস্থান করছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক সমন্বয়ের একটি স্বাভাবিক কাঠামো তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী বাসীর বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে প্রশ্ন এখন যদি হঠাৎ করে বলা হয় প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় নেওয়া হবে, তাহলে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—কেন?
রাজশাহী থাকলে কী সমস্যা হচ্ছে?
বগুড়ায় নিলে দেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা বা জনগণের সেবায় কী বাস্তব উন্নতি হবে?
এই প্রশ্নগুলোর কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো আমরা পাইনি।
কেবল স্থান বদলালে কি বিদ্যুৎ সেবা উন্নত হবে?
কেবল অফিস সরালেই কি গ্রাহকের সমস্যা কমবে?
নাকি এটা হবে শুধু একটি শহরের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক শক্তি কমিয়ে অন্য শহরে স্থানান্তর করা?
এমনকি একদিন বলা হবে রাজশাহী বিভাগই অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া দরকার?
রাষ্ট্র পরিচালনা এমন অনিশ্চয়তা ও সিদ্ধান্তহীনতার জায়গা হতে পারে না।
একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর মানে শুধু একটি সাইনবোর্ড বদলানো নয়। এর সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান, স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনিক ভারসাম্য।
যদি সত্যিই স্থানান্তরের প্রস্তাব থাকে, তাহলে আগে জাতির সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে—
এই সিদ্ধান্তে দেশের কী লাভ হবে, জনগণের কী উপকার হবে, এবং কেন রাজশাহী আর উপযুক্ত নয়।
তার আগে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ মানে হবে একটি ঐতিহাসিক শহরের প্রাপ্য মর্যাদা ও অবদানকে অস্বীকার করা।
আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—
যুক্তি ছাড়া কোনো স্থানান্তর নয়।
উন্নয়নের নামে প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট করা যাবে না।
রাজশাহীর গণমানুষের নেতা ও মাননীয় ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু “এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখান করে বলেন, রাজশাহীর অধিকার নিয়ে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা মেনে নেওয়া হবে না এবং নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকতে হবে এ বিষয়ে কোন আপোষ নেই। “
Posted ৬:৪৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।