স্টার রিপোর্টার নিপা | বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট
সাব-রেজিষ্ট্রার কে না জানিয়ে দলিল রেজিস্ট্রী করা, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করা, দলিলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে স্টাফদের এমনকি পরোক্ষভাবে সাব-রেজিষ্ট্রারকে হুমকিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে চরফ্যাশন সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সহকারী নাহিদা পারভীনের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে উঠা অনিয়মের কারণে ভোলা জেলা রেজিষ্ট্রার গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে চরফ্যাশন থেকে ভোলা জেলা রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করেন।
ভোলা জেলা রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে নাহিদা পারভীন, তার দুই বোন ও বোনের স্বামীসহ ৫জন মিলে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে লালমোহন সাব-রেজিষ্টারের অফিস কক্ষে গিয়ে সাব-রেজিষ্টার মো. মঞ্জুরুল ইসলামের রুমে প্রবেশের চেষ্টা করলে অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত তিনি রুম বন্ধ করে দেন। এরপর তারা তাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। এ ব্যাপারে সাব-রেজিষ্টার মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লালমোহন থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
ঘটনার ব্যাপারে লালমোহনের সাব-রেজিষ্টার মো. মঞ্জুরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি এখানে আসার পর দেখি অফিস সহকারী নাহিদা পারভীন এখানে বিভিন্ন অনিয়ম করে যাচ্ছ। কিন্তু হঠাৎ সে চরফ্যাশন সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসে বদলি হয়ে যায়। গত ২৫ জানুয়ারি ভোলা জেলা রেজিষ্টার আমাকে চরফ্যাশন অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেন। আমি ২৭ জানুয়ারি রেজিষ্ট্রেশন কার্য পরিচালনার জন্য চরফ্যাশন অফিসে যাই। ওখানে মামলা সংক্রান্ত কোন দলিল রেজিষ্ট্রি করা হয়না। ওই দিন নাহিদা পারভীন কে আমি বলে দিয়েছিলাম মামলা সংক্রান্ত কোন দলিল হবে না। কিন্তু নাহিদা পারভীন কৌশলে তথ্য গোপন করে মামলা সংক্রান্ত দলিল রেজিষ্ট্রি করে নেন। এটি পরে যাচাই বাছাই করে ধরা পড়লে আমি ভোলা জেলা রেজিষ্টার মহোদয়কে ৩/২/২০২৬ তারিখে তার অনিয়মের ফিরিস্তি সহ লিখিত ভাবে জানালে নাহিদা পারভীনের অনিয়মের কারণে তাকে ভোলা জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে সংযুক্ত করেন।
নাহিদা পারভীন ভোলায় সংযুক্ত হওয়ার পর আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নাহিদা পারভীন তার বোন সাহিদা পারভীন যিনি বর্তমানে জেলা রেজিস্ট্রারী অফিস ঝালকাঠিতে প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন। তার আরেক বোন জাহিদা পারভিন যিনি বর্তমানে বোরহানউদ্দিন সাব রেজিস্ট্রার অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে আছেন। নাহীদার স্বামী চরফ্যাশন সাব রেজিস্ট্রি অফিসের একজন দলিল লিখক। তার বাবা মোতাহার হোসেন ও বোনের স্বামীসহ ৫জন মিলে আমার কর্মস্থল লালমোহন সাব-রেজিষ্টারের অফিস কক্ষে গিয়ে আমার রুমে প্রবেশের চেষ্টা করলে আমি অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আমার রুম বন্ধ করে দেই। এরপর তারা আমাকে পরোক্ষভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করে। এরপর এই বিষয়ে আমি আই আর ও মহোদয়কে, মৌখিকভাবে জানাই এবং তার হস্তক্ষেপ কামনা করি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাহিদা পারভীন এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ভাই ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় জেনে বলেন আপু অসুস্থ কোন বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন না। এ বিষয়ে জেলা সাব রেজিস্ট্রার এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাওয়ার কারণে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্তধীন রয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
Posted ১২:১০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।