বুধবার ২৪ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীর আলোকবালীর ৫০ হাজার মানুষের দুর্ভোগের নাম ‘সেতুহীনতা’

সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫   প্রিন্ট  

নরসিংদীর আলোকবালীর ৫০ হাজার মানুষের দুর্ভোগের নাম ‘সেতুহীনতা’
নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াত মাধ্যম নৌপথ। চারদিকে মেঘনা নদী পরিবেষ্টিত এ চরাঞ্চলে যুগ যুগ ধরে সেতুর অভাবে মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জেলা শহরের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার হলেও তা পার হতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। এতে জীবন ঝুঁকি, দুর্ঘটনা ও যাতায়াত ব্যয় বহুগুণে বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আলোকবালী ইউনিয়নে ৯টি গ্রাম রয়েছে। কৃষক, জেলে, শিক্ষার্থী, রোগী—সবাইকে প্রতিদিন নদী পার হতে হয়। নৌপথে যাত্রা শুধু সময়সাপেক্ষই নয়, বর্ষায় কিংবা কচুরিপানার মৌসুমে তা হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী। অতিরিক্ত কচুরিপানার কারণে মাঝেমধ্যে ঘণ্টার পথেও সময় লাগে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত।
আলোকবালী গ্রামের বাসিন্দা রুবেল আহমেদ বলেন, “সেতু না থাকায় রোগীদের ঠিকমতো হাসপাতালে নিতে পারি না। অনেক সময় প্রসূতি নারীরা মাঝপথেই সন্তান প্রসব করেন। কৃষিপণ্য ঠিকমতো বাজারজাত করতে পারছি না। শিক্ষার্থীরাও চরম দুর্ভোগে আছে। মাত্র ৩০০-৩৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু হলে এ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হতো।”
বাখরনগর গ্রামের আহমদ মিয়া জানান, “গত ১০ জানুয়ারি রাত আড়াইটায় আমার বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়। নদীপথ কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় কেউ নৌকা চালাতে রাজি হয়নি। ভোরে এক নৌকায় দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাই। কিন্তু ততক্ষণে বাবার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। ঢাকায় নেওয়ার পর হাসপাতালের গেইটেই তাঁর মৃত্যু হয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো বাবা বেঁচে যেতেন।”
একটি সেতুর অভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, প্রশাসনসহ মৌলিক অধিকারের অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন এই ইউনিয়নের মানুষ। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেতু নির্মাণ করে এই দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে হবে।
এ বিষয়ে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, “অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন দুর্ভোগে আছে। আমি নৌপথে গিয়ে নিজে পরিস্থিতি দেখেছি। সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
নরসিংদী এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা বলেন, “আমি নিজেই কচুরিপানায় তিন ঘণ্টা নৌকায় আটকে ছিলাম। বিষয়টি আমি উপলব্ধি করেছি। আলোকবালী থেকে করিমপুরের শ্রীনগর পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অর্ধলক্ষ মানুষের জীবনকে কতদিন আর ঝুঁকির মুখে ফেলে রাখা হবে? উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় চরাঞ্চলের এই মানুষগুলোর অধিকার নিশ্চিত করাটাই এখন সময়ের দাবি।
Facebook Comments Box

Posted ০৩:০১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

dainikbanglarnabokantha.com |

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
সম্পাদক : রুমাজ্জল হোসেন রুবেল
বাণিজ্যিক কার্যালয়

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮

ই-মেইল: [email protected]