খন্দকার আমির হোসেন
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট
নরসিংদীর মাধবদীতে এক হৃদয়বিদারক ও চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র সামনে এসেছে। কুলখানি অনুষ্ঠানের মতো একটি ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন, যেখানে মানুষের মধ্যে শোক ও সম্মান প্রদর্শনের পরিবেশ থাকার কথা সেখানেই ঘটেছে বিশৃঙ্খলা, হুড়োহুড়ি এবং অবহেলার নির্মম পরিণতি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর ভগিরথপুর হাজী লাল মিয়া মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। কিন্তু এমন বিপুল জনসমাগমের জন্য ছিল না কোনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, না ছিল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। গেইট খুলতেই শুরু হয় হুড়োহুড়ি মানুষ মানুষকে পিষে সামনে এগোতে থাকে। সেই বিশৃঙ্খলায় অন্তত ১৫ জন আহত হন, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে। এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি স্পষ্ট অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার ফল।
প্রশ্ন উঠছে, কেন এত বড় আয়োজনের আগে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হলো না? কেন জননিরাপত্তার বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হলো? একজন প্রভাবশালী শিল্পপতির পারিবারিক অনুষ্ঠানে যদি এ ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকার্তা ও মাধবদী পৌর প্রশাসক আসমা জাহান সরকার বলেন, ভগিরথপুর হাজী লাল মিয়া মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কুলখানি অনুষ্ঠান করার জন্য পূর্বানুমতি নেয়া হয়নি। পদদলিত হয়ে আহত হওয়ার ঘটনা আমার জানা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা নেই বলা দায়িত্ব এড়ানোর সামিল। এমন ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি, না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশান আরা কবির বলেন, এ ঘটনায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে চারজনকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় শুধু আয়োজন বড় হলেই হয় না, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। মানুষের জীবন কোনোভাবেই অবহেলার শিকার হতে পারে না।
Posted ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Shanto Banik
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]