নিপা আক্তার
শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫ প্রিন্ট
কেরানীগঞ্জে মাকে প্রয়োজনীয় ভরণ-পোষণের খরচ না দিয়ে উল্টো নিজেদের নামে এককভাবে বাড়ি-ভিটার সকল জায়গা জমি নেয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করায় দুই ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মা সালেহা বেগম।
১৪ মে রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ফয়েজনগর গ্রামের সালেহা বেগম তার দুই ছেলে মোঃ মহসিন (৪০) সোহেল তাজ (৩৬) এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় আসলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মামলটি না নিলে বাধ্য হয়ে তিনি মহামান্য আদালতে গেলে তার জবানবন্দি নিয়ে মামলাটি রেকর্ড করেছেন। যাহার মামলা নাম্বার ৭২৬/২০২৫ ইং।
সালেহা বেগম কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিঞ্জিরা মান্দাইল ফয়েজনগর এর মৃত মোহাম্মদ হোসেনের স্ত্রী।
উল্লেখিত থানার অভিযোগ ও কোর্ট এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ হোসেন মারা যাওয়ার পর দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মা সালেহা বেগম জীবন যাপন করতে থাকেন। স্বামীর অর্জিত সম্পদের বাড়ির ভাড়া ও অর্থ সম্পদ ছেলেরা ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু বৃদ্ধ মায়ের কোন খোঁজ খবর নিচ্ছে না। ছেলেদেরকে তার ওষুধ ও যাবতীয় খরচের কথা বল্লেই শুরু করেন মায়ের প্রতি অত্যাচার।
তার দুই ছেলে মহসিন ও সোহেল তাজকে নিয়ে শেষ জীবনটা শান্তিতে কাটাবেন বলে আশা করলেও তা দূরাশায় পরিণত হয়। ছেলেরা ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে, মায়ের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য একেবারে ভুলে যায়। এক পর্যায়ে তাদের বৃদ্ধা মায়ের ভরণ-পোষণের খরচ দেয়া বন্ধ করে দেয়। স্বামীর শেষ সম্বল জায়গা জমি আমার মেয়ে কে না দিয়ে এককভাবে নিজেদের নামে দলিলপত্র করে নেয়ার জন্য সালেহা বেগম এর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাতে থাকে।
কিন্তু তার মা সালেহা বেগম অত্যাচারী ছেলেদের কে বাড়ির দলিলপত্র করে দিতে রাজী না হওয়ায় এবং তার স্বামীর সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে বলায় ছেলে মহসিন ও সোহেল তাজ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এমন অবস্থায় বাধ্য হয়ে মা সালেহা বেগম একমাত্র মেয়ে জামাইয়ের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।
এ ব্যাপারে ছেলেদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার ও ভরণ-পোষণ চেয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, থানায় অভিযোগসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানালেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে আদালতে গিয়ে নিজে বাদী হয়ে ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তার মেয়ে ভাইদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের জানান, আমার বড় ভাইদের অত্যাচারে মা তার বাড়িতে টিকতে পারে না। অত্যাচার করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। কোনো ভরণ-পোষণ দেয়া দূরের কথা, ওই বাড়ি-ভিটার দলিল করে নেয়ার জন্য মায়ের ওপর অত্যাচার করে আসছে। আমি এর বিচার চাই।
এ ব্যাপারে আদালতে মামলাটি দায়ের করায় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।
Posted ০৫:০৯ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫
dainikbanglarnabokantha.com | Shanto Banik
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]