বুধবার ২৪ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষের বিনিময়ে রিপোর্টের অভিযোগ

অডিট ডিভিশনের বিষফোঁড়া চক্রে জিম্মি অগ্রণী ব্যাংক

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬   প্রিন্ট  

অডিট ডিভিশনের বিষফোঁড়া চক্রে জিম্মি অগ্রণী ব্যাংক

রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের অগ্রণী ব্যাংকের অডিট ডিভিশনের এক শ্রেণির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অডিট করার নামে এই অসাধু চক্রটি মাঠ পর্যায়ের শাখা ব্যবস্থাপক ও অফিসারদের জিম্মি করে অনৈতিক সুবিধা আদায় করছে। চাহিদামতো টাকা না দিলে ছোট ভুলকে বড় করে দেখানো, এমনকি অস্তিত্বহীন ভুল বানিয়ে নেগেটিভ রিপোর্ট দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চলছে এই ‘বাণিজ্য’।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অডিট ডিভিশনের নির্দিষ্ট কিছু অডিটর ও কর্মকর্তার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অডিট চলাকালীন সময়ে এই চক্রটি বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাদের ওপর চরম চাপ প্রয়োগ করে। টাকা দিলে বা সিন্ডিকেটের চাহিদা মেটালে রিপোর্ট আসে ‘পজিটিভ’, অন্যথায় রিপোর্ট হয় ‘নেগেটিভ’। অডিট ডিভিশনের কিছু অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ অডিটরের কারণে ব্যাংকের মাঠ পর্যায়ে গভীর হতাশা ও স্থবিরতা নেমে এসেছে। এই ডিভিশনে দায়িত্বরতদের কাছে ভুক্তভোগীরা কোনো ধরনের পেশাদার সহযোগিতা পান না। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, মনে হয় তারা ব্যাংক থেকে কোনো বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন না; বরং তাদের একমাত্র মিশন হলো গ্রাহক ও শাখার অফিসারদের টার্গেট করে হয়রানি করা এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শাখা ব্যবস্থাপক জানান, অডিটের নামে এমন হয়রানি ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। অনেক ক্ষেত্রে অডিট টিম গায়ের জোরে ছোট ছোট অনিয়মকে বিশাল অডিট আপত্তি হিসেবে দেখাচ্ছে, যা পরবর্তীতে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বা সিএল (CL) বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। এর ফলে ব্যাংকটির মুনাফাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সাধারণ অফিসারদের মতে, অডিট ডিভিশনের কিছু দুষ্টু চক্রের খামখেয়ালিপনার কারণে একদিকে যেমন শাখার কাজের গতি কমছে, অন্যদিকে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। অনেক গ্রাহক হয়রানির শিকার হয়ে অন্য ব্যাংকে চলে যাচ্ছেন, যা ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের একজন জিএম-এর প্রত্যক্ষ মদদ ও ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন যাবত এই পুরো চক্রটি পরিচালিত হচ্ছে। অডিট টিমগুলো ওই জিএম-এর পছন্দসই এবং তার বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টাকা সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়। অডিট ডিভিশন এখন সেবার পরিবর্তে অর্থ উপার্জনের একটি ‘হাতিয়ারে’ পরিণত হয়েছে।

ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অডিট বিভাগের কাজ হলো ভুল ধরিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কিন্তু অডিট যখন নিজেই বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে, তখন তা পুরো প্রতিষ্ঠানের জন্য বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়। অবিলম্বে অডিট ডিভিশনের এই দুষ্টু চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অগ্রণী ব্যাংকের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করে মৌখিকভাবে অগ্রণী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ব্যাংকের অডিট বিভাগের স্বচ্ছতা ফেরাতে জরুরি ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box

Posted ০৮:৫২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

dainikbanglarnabokantha.com |

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
সম্পাদক : রুমাজ্জল হোসেন রুবেল
বাণিজ্যিক কার্যালয়

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮

ই-মেইল: [email protected]