বুধবার ২৪ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীনগরের শ্রীঘর উত্তর পাড়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬   প্রিন্ট  

নবীনগরের শ্রীঘর উত্তর পাড়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীঘর উত্তর পাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। এই সড়কটি শুধু একটি মহল্লার যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এলাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের একমাত্র পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল খায়ের মদন মিয়া সাহেবের বাড়ি সংলগ্ন স্থান থেকে শুরু হওয়া এই সড়কের পাশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শ্রীঘর কালিবাড়ী, যেখানে প্রতিবছর হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী কালীমেলা। অথচ বছরের পর বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

এর কিছু দূরে অবস্থিত শ্রীঘর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান। প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য হাজার হাজার মুসল্লিকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়ে ঈদগাহে যেতে হয়। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এই পথ চলা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
একই সড়কের শেষপ্রান্তে রয়েছে শ্রীঘর কেন্দ্রীয় কবরস্থান। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে কবরস্থানে যাতায়াত প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি মহল্লার মধ্যে অবস্থিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান—শ্রীঘর কালিবাড়ী, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান এবং কেন্দ্রীয় কবরস্থান—প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষের চলাচলের কেন্দ্রবিন্দু হলেও আজ পর্যন্ত এখানে একটি টেকসই রাস্তা ও প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ করা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নবীনগর-আশুগঞ্জ এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান যেন দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাদের মতে, একটি পাকা সড়ক এবং একটি উপযুক্ত কালভার্ট নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং হাজারো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
এলাকাবাসী আরও জানান, রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিবছর অনেক বয়স্ক মানুষ ঈদগাহে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন না। তাই জনস্বার্থে এবং ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সড়ক সংস্কার ও স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা—শ্রীঘর উত্তর পাড়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটবে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সহকারী অধ্যাপক, ডক্টর মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, একটি এলাকার উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের শ্রীঘর এলাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান—শ্রীঘর কালিবাড়ী, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান এবং কেন্দ্রীয় কবরস্থান—প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া সত্ত্বেও আজও একটি টেকসই রাস্তা ও প্রয়োজনীয় কালভার্টের অভাবে ভুগছে।
ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক প্রয়োজনে এই স্থানগুলোতে প্রতিনিয়ত নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের যাতায়াত করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে, যা জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ নবীনগরের এমপি মহোদয় এ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান সাহেব ও সমাজের সচেতন মহলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি, জনগণের দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শ্রীঘর কালিবাড়ী, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান ও কেন্দ্রীয় কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তা পাকাকরণ এবং প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দাবি নয়; এটি পুরো এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি। জনস্বার্থে এই উন্নয়ন কাজ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে এলাকার সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে।

Facebook Comments Box

Posted ০৫:৩৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

dainikbanglarnabokantha.com |

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
সম্পাদক : রুমাজ্জল হোসেন রুবেল
বাণিজ্যিক কার্যালয়

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮

ই-মেইল: [email protected]