সোহেল রানা
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ প্রিন্ট
অসুস্থ সহযোদ্ধার স্ত্রীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গিয়ে ‘হয়রানি, দুর্ব্যবহার ও পরিকল্পিত অপপ্রচারের’ শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও, ফটোকার্ড ও অভিযোগের জবাবে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি করেন।
হিমেলের ভাষ্য অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুর রহমান নিক্সনের স্ত্রী গুরুতর গাইনি জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড)-এর জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওয়ার্ডে ভর্তির ব্যবস্থা না হওয়ায় রোগীর স্বজনরা চরম উদ্বেগ ও হতাশার মধ্যে পড়েন।
তিনি দাবি করেন, প্রায় তিন ঘণ্টা রোগীকে জরুরি বিভাগের মেঝেতে রাখা হয়েছিল। বারবার অনুরোধের পরও তাকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়নি। পরিস্থিতির খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে হাসপাতালে ছুটে যান তিনি।
হিমেলের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। বরং কিছু কর্মকর্তার কাছ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমনকি হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নম্বর চাইলে সেটিও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পরবর্তীতে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। তবে হিমেলের দাবি, তারা পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও একটি পক্ষ সংঘবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে ‘মব’ তৈরির উদ্যোগ নেয় এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে।
ঘটনার একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি কোনো হামলা, ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলার দৃশ্য নয়; বরং সেটি একজন অসুস্থ রোগীর স্বজনদের অসহায় আর্তনাদ ও চিকিৎসা পাওয়ার আকুতির মুহূর্ত। অথচ ঘটনাটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য, বিভ্রান্তিকর বর্ণনা এবং ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহযোদ্ধার বিপদের সময় পাশে দাঁড়াতে গিয়ে যদি আমাকে মবের শিকার হতে হয়, তবুও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব থেকে আমি কখনো সরে আসব না। মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকাই আমার রাজনীতির মূল শিক্ষা।”
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে হিমেলের দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে জনগণ সত্য জানতে পারবে এবং অপপ্রচারের মুখোশ উন্মোচিত হবে।
Posted ০৭:৪৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Shanto Banik
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]