ড. মোঃ এনায়েত হোসেন | মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট
০৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংস্কারের প্রশ্নে গণভোট এখন মুখ্য আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। গণভোট শব্দটি ইংরেজি জবভবৎবহফঁস শব্দের প্রতিরূপ। জবভবৎবহফঁস শব্দটির উৎপত্তি সুইজারল্যান্ডে। ষোড়শ শতাব্দির ক্যান্টন গ্রাউবুনডেন থেকে শুরু। ১৮৪৮ খ্রি. সুইজারল্যান্ডেই প্রথম আধুনিক গণভোটের সূচনা হয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ যেমন সংবিধান সংশোধন,আইন প্রণয়ন কিংবা শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি মতামত নেয়ার মাধ্যমই হলো গণভোট। আরো সহজ করে বলা যায়- সাংবিধানিক বা রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রশ্নের মীমাংসার জন্য সর্বসাধারণের প্রত্যক্ষ ভোট গ্রহণ করাকে গণভোট বলা হয়। পর্যায়ক্রমে গণভোট গণতন্ত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকে পরিণত হয়। ব্যালটে শুধু “হ্যাঁ” বা “না” দুটি বিকল্প থাকে। এই “হ্যাঁ” বা “না” চিহ্নে ছাপ দিয়ে ভোট দেবার ব্যবস্থা থাকে। এই “হ্যাঁ” বা “না” একটি মাত্র ভোটই নির্ধারণ করে জাতির দিক নির্দেশনা।
বাংলাদেশে গণভোটের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট ঃ
বাংলাদেশ ভূ-খন্ডে এ কাল যাবত চারটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে সিলেট জেলাকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ১ম গণভোট হয় ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনকালে। ২য় গণভোট হয় ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে সামরিক শাসক জেনারেল হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের আমলে এবং ৩য় গণভোট হয় ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে।
১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে সিলেট জেলাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত গণভোট ভারতীয় উপমহাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আজকের সিলেট জেলা প্রাচীনকাল থেকে পূর্ববাংলা তথা আজকের বাংলাদেশের সাথে যুক্ত থাকলেও ১৮৭৪ খ্রি. থেকে ১৯৪৭ খ্রি. পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের আসাম প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভারত বিভাগের সময় সিলেট জেলা পাকিস্তানের পূর্ববাংলার সাথে থাকবে, না ভারতের আসাম প্রদেশের সাথে যুক্ত হবে এ প্রশ্নে ১৯৪৭ খ্রি. সিলেটে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার কেবিনেট মিশন গঠন করে ভারতীয়দের নিকট ক্ষমতা ছাড়ার লক্ষ্যে দেশ বিভাগের পরিকল্পনা করে। নব গঠিতব্য রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণে কংগ্রেস ও মুসলিমলীগ ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে সিলেট জেলাকে কেন্দ্র করে গণভোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সিলেট জেলা হয় ভারতের আসাম প্রদেশে না হয় পাকিস্তানের পূর্ববাংলা প্রদেশে যুক্ত হবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। এই গণভোটের তারিখ নির্ধারিত হয় ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৬ ও ৭ জুলাই।
এই গণভোটকে কেন্দ্র করে সিলেটে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। মুসলিমলীগ সিলেট জেলাকে পাকিস্তানের পুর্ববাংলার সাথে যুক্ত করতে চ্য়া। অপর দিকে কংগ্রেস সিলেট জেলাকে আসাম প্রদেশের অংশ হিসেবে ভারতের সাথে যুক্ত করতে চায়। সিলেটের গণভোট প্রশ্নে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস,জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ,কমিউনিস্ট পার্টি এবং হিন্দু মহাসভা প্রবল প্রতিপক্ষ হয়ে দাড়ায়। এই চার দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। কারণ এ দল ছিল মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী(১৮৭৯-১৯৫৭ খ্রি.) দ্বারা গঠিত রাজনৈতিক দল। সিলেট গণভোটের বিরোধিতা করেন এ দলের সিলেট জেলার নেতৃবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে মাওলানা আব্দুল মোসাব্বির,মাওলানা আব্দুল হক প্রমুখ উল্লেখযোগ্য ছিলেন। সিলেটের জনসাধারণের ওপর এদের প্রভাব ছিল অধিক। এসব বিশিষ্ট আলিম-উলামা যখন সিলেট জেলার পাকিস্তান ভুক্তির বিরুদ্ধে রায় (মত) প্রকাশ করেন তখন জনগণের মনে দ্বিধা-সন্দেহ সৃষ্টি হয়।
গণভোটের প্রচারকে কেন্দ্র করে বাংলা থেকে সিলেটে আসা মুসলিম ন্যাশনাল গার্ড এবং ছাত্র নেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি আসামপন্থী অমুসলিমদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ সিলেট জেলায় এসে সিেিলটের পাকিস্তানের সাথে সংযুক্তির পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চলায়। সিলেট জেলা মুসলিম অধ্যুষিত হলেও গণভোটের ফলাফল বিষয়ে মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের যথেষ্ট আশঙ্কা ছিল। আসাম সরকারের মধ্যে হিন্দু মন্ত্রীগণ বিশেষ করে সিলেটের বসন্ত কুমার দাস এবং বৈদ্যনাথ মুখার্জী সিলেটের আসামে থেকে যাওয়ার পক্ষে সক্রিয় প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করেন। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নেতা মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানীর অনুসারীবৃন্দ সিলেটে যাদের সংখ্যা বেশী ছিল, তারাও সিলেটের পাকিস্তানের সংগে যুক্ত হবার বিপক্ষে প্রচারনা চালায়।
সিলফোর্স গঠন ঃ
সিলেটের গণভোটকে কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য এবং গণভোটের আগে ও গণভোটকালীন এবং গণভোটের পরে সন্ত্রাস সৃষ্টি রোধের জন্য সেনাবাহিনী নামানোর অনুমোদন দেয়া হয়। লে. ক. মহিন্দর সিং চোপরাকে প্রধান করে সিলফোর্স নামে একটি গণভোট সংক্রান্ত নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করা হয়। সিলফোর্স তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করায় নির্বিঘ্নভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটকে কেন্দ্র করে গোলযোগের আশঙ্কা থাকলেও শান্তিপূর্ণভাবে দুদিনব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে পূর্ববাংলার পক্ষে ২,৩৯৬১৯ ভোট এবং আসামের পক্ষে ১,৮৪,০৪১ ভোট পড়ে। ৫৫,৫৭৮ ভোটের ব্যবধানে সিলেটের পাকিস্তানভুক্তির পক্ষদল জয়লাভ করে। ফলে সিলেট জেলা পাকিস্তানের পূর্ববাংলার সাথে যুক্ত হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরে বাংলাদেশে তিনটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক কারণে এবং একটি সাংবিধানিক ছিল।
প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মে। এ গণভোটের উদ্দেশ্য ছিল সেনা প্রধান থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেয়া প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাসন ক্ষমতার বৈধতা দেয়া। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তাঁর নীতি ও কর্মসূচীর প্রতি জনগণের আস্থা আছে কি না, সে বিষয়ে দেশের জনগণের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল এই গণভোটে। “হ্যাঁ” অথবা “ন্যা” সূচক চিহ্নে ভোট দিতে বলা হয়। এই গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়। এই গণভোটের মাধ্যমে জেনারেল জিয়াউর রহমান তাঁর অনুসৃত নীতি ও ১৯ দফা কর্মসূচীর প্রতি জণগণের আস্থা অর্জন করে। এই প্রথম গণভোটে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৮৪ লাখ। এই গণভোটে ৮৮.১ শতাংশ ভোটার ভোট দেয়। “হ্যাঁ” এর পক্ষে ভোট পড়ে ৯৮.৯ শতাংশ এবং “না” এর পক্ষে ভোট পড়েছিল ১ দশমিক এক শতাংশ। “হ্যাঁ” ভোট বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়।
দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় সামরিক শাসক জেনারেল হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের আমলে ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দের ২১ মার্চ। তাঁর উপর জনগণের আস্থা যাচাই করা ছিল এ গণভোটের উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের নীতি ও কর্মসূচী এবং স্থগিত সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের ওপর জনগণের আস্থা আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। এই গণভোটের ব্যালট পেপারে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের ছবি যুক্ত করা হয়। “হ্যাঁ” বা “না” পদ্ধতিতে গণভোট হয়। এরশাদের প্রতি আস্থা থাকলে এরশাদের ছবিসহ “হ্যা” বাক্সে এবং আস্থা না থাকলে “না” বাক্সে ভোট দেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এই গণভোটে ভোট পড়েছিল ৭২ দশিমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে “হ্যাঁ” ভোট পড়েছিল ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং “না” ভোট পড়েছিল ৫দশমিক ৫ শতাংশ। “হ্যাঁ” ভোট বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়।
তৃতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর। স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ৬ ডিসেম্বর সেনা শাসক হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই সরকারের অধীনে তিন মাসের মধ্যে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে দলটি সরকার গঠন করে। দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরশাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী “তিন জোটের রূপ রেখা” অনুযায়ী ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দের ৬ আগষ্ট জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি বিল পাস হয়। জাতীয় সংসদে গৃহীত সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠার পর সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকা বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সম্মতি দিবেন কি না, সে প্রশ্নে দেশব্যাপী গণভোটের আয়োজনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই তৃতীয় গণভোটে ৩৫ দশমিক ২শতাংশ ভোট পড়ে। “হ্যাঁ” ভোট পড়ে ৮৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়। অপরদিকে “না” ভোট পড়ে ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এই গণভোটে “হ্যাঁ” বিজয়ী হওয়ায় দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়।
২০২৬ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারির গণভোট ঃ
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মোঃ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান সংশোধনসহ ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার ফলে গণভোটের প্রশ্ন সামনে আসে। জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকে অধিকাংশ দলের মতামত অনুযায়ী জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কারের বৈধতা দিতে গণভোটের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় সরকার গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার ২০১১ খ্রিস্টাব্দে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিসহ গণভোটের বিধান বাতিল করে দেয়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ডিসেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর বাতিলের মামলায় হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি এবং গণভোট ব্যবস্থাপুনর্বহাল করে রায় দেয়। ফলে আবারও গণভোটের বিধান ফিরে আসে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ২৫ নভেম্বর,২০২৫ খ্রি. উপদেষ্টা পরিষদের সভায় গণভোট অধ্যাদেশ অনুমোদন করে।
২০২৬ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে একই দিনে সরকার গণভোট অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়। এই গণভোট “হ্যা” অথবা “না” পদ্ধতিতে হবে। যে বা যারা জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়ন চায়, তারা “হ্যাঁ” চিহ্নে ভোট দিবে। অপর দিকে যারা জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়ন চায় না, তারা“ না” চিহ্নে ভোট দিবে।
এই গণভোট হবে জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়নের সোপান। গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-জনতা এই গণভোটে “ হ্যাঁ ” কে জয়যুক্ত করবে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত জনআকাঙ্খার পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে। স্বৈরাচারের পুণরুত্থানের পথ রুদ্ধ হবে। দেশ টেকসই গণতন্ত্রের পথ ধরে এগিয়ে যাবে। এটাই গণঅভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশের জনআকাঙ্খা। এই গণভোটের মাধ্যমে জনআকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে । বাংলাদেশের কোন গণভোটে “হ্যাঁ” পরাজিত হয়নি। এবারও হবে না। ইনশাআল্লাহ।
লেখক ঃ ড. মোঃ এনায়েত হোসেন , শিক্ষাবিদ,গবেষক, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী।
Posted ৬:০৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।