গুলনাহার | সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট
রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন জোয়ার সাহারা মৌজাস্থিত খিলক্ষেত পূর্ব নামাপাড়া মাইলস্টোন স্কুলের সামনে রাজউকের অনুমোদিত নকশা বিচ্যুতি করে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ভবন মালিক মইনুল হক গং এর।ভবন মালিক মইনুল হক গং১৩ ১/২(সাড়ে তের)কাঠা জমিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক উত্তরা জোন ২/২ এর অধীনে ( জি+ ৯)১০তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন গ্রহণ করে। সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায় ভবন মালিক রাজউক থেকে যে অনুমোদন পেয়েছে তার চেয়ে আরো বেশি করেছে প্রতি তলায়।
যেকোনো ধরনের ইমারত বা প্রকল্প নির্মাণে আবশ্যিক অনাচ্ছাদিত স্থান,সীমানা হইতে সেটব্যাক ভূমি আচ্ছাদন Far ইত্যাদি সংক্রান্ত বিধি সমূহ অনুসরণ করতে হবে। প্রতিটি ইমারতের সম্মুখে, পার্শ্বে এবং পশ্চাদে সেটব্যাক বা উন্মুক্ত স্থান থাকতে হবে। রাস্তার প্রশস্ত যাই থাকুক না কেন, বিদ্যমান রাস্তার কেন্দ্র হইতে ৪.৫মিটার অথবা প্লটের সীমানা হইতে ১.৫মিটার দূরত্বের মধ্যে যা অধিক(রাস্তার ভবিষ্যতবর্ধিত করণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বাদ দিয়ে)তার চাইতে কম দূরত্বে কোন ইমারত নির্মাণ করা যাবে না।
১৩১/২কাঠা জমিতে ভবন নির্মাণের সময় সম্মুখে ১.৫মিটার পশ্চাতে ২.০০মিটার এবং প্রতি পাশে ১.২৫মিটার জায়গা ছাড়তে হবে। শুধু তাই নয় রাজউকের ভবন নির্মাণের নিয়ম অনুযায়ী রাস্তা থেকে পরিমাণ মতো জায়গা ছেড়ে ভবন নির্মাণের বিধান থাকলেও মইনুল হক গং রাজউকের সেই নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে রাজউকের বিদ্যমান ইমারত নির্মাণ আইন তথা বিল্ডিং কন্সট্রাকশন অ্যাক্ট ১৯৫২ টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৩ ও ঢাকা মহানগর ইমারত( নির্মাণ, উন্নয়ন,সংরক্ষণ, অপসারণ) বিধিমালা ২০০৮ বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ সংশোধনী ইমারত নির্মাণ আইন ২০০৮ এবং মহানগর ইমারত বিধিমালা ২০২৩ আইনের বিল্ডিং কন্সট্রাকশন অ্যাক্ট ১৯৫২ও১৯৫৩ এর বিধিবিধান সমূহ সুস্পষ্টভাবে লংঘন করে ভবনটি নির্মাণ করছে। বর্তমানে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক ভবনে ডেভিয়েশনের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
প্রত্যেকটা মোবাইল কোর্টে ডেভিয়েশনকৃত অংশ মূল ভবন থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।এবং সেই সাথে বিদ্যুতের মিটার এবং গ্যাসের লাইন বিছিন্ন করা হচ্ছে। কিন্তু ভবন মালিক মইনুল হক গং ভবনটিতে এমন ভাবে ডেভিয়েশন করেছে যা অনুমোদিত নকশা ব্যত্যয় করে নির্মাণ করছে নিজের ইচ্ছামতো। চতুর দিকে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী যে পরিমাণ সেটব্যাক ছাড়ার কথা সে পরিমাণ জায়গা না ছেড়ে ভবনটির নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।ভবনটিতে রাজউকের তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড লাগানো হয়নি। ইমারতের নির্মাণ কাজ শুরুর ১৫ দিন পূর্বে ফরম৩০৭ এর মাধ্যমে এবং অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী চূড়ান্ত মাটি খননের পূর্বে রাজউক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বিধান থাকলে মালিকপক্ষ তা করে নাই। মালিকপক্ষ নির্মাণাধীন ইমারতের চারদিকে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই ভবনের কাজ করছে। সরে জমিনে অনুমোদিত নকশার সাথে কোন প্রকার মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না ভবনটির নির্মাণ কাজে।ভবনটি নির্মাণ হচ্ছে ওয়ার্কিং প্ল্যানে।
Posted ৫:১৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।