নিজস্ব প্রতিবেদক: | সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী গোপালগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসন থেকেই জয় পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থীরা। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, গোপালগঞ্জ-২ আসনে একেএম বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাচ্ছেন এস এম জিলানী।
নির্বাচন কমিশনের হলফনামা দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এসব প্রার্থীর মধ্যে মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী, একেএম বাবর এমবিবিএস ডিগ্রিধারী এবং এদের মধ্যে এস এম জিলানী স্বশিক্ষিত। যদিও তিনি সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।
গোপালগঞ্জ–১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী একাংশ)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা ধানের শীষ প্রতীকে ৬৯ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) প্রার্থী মোঃ কাবির মিয়া ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৩২৯ ভোট।
১৯৯৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই আসনে টানা ছয়বার সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের মুহাম্মদ ফারুক খান।
গোপালগঞ্জ–২ (সদর ও কাশিয়ানী একাংশ)
এ আসনে জয়ী হয়েছেন ডা. কে এম বাবর আলী। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৪০ হাজার ৪৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু (হরিণ) পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এই আসনে ১৯৮৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা আটবার সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
গোপালগঞ্জ–৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া)
এ আসনে জয় পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী। টুঙ্গিপাড়ার সন্তান জিলানী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক (স্বতন্ত্র, ঘোড়া) পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট।
শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মভূমির এই আসনে ১৯৮৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা আটবার নির্বাচিত হয়েছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৯৮৪ সালে জেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে গোপালগঞ্জ ছিল আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র প্রভাবের কেন্দ্র। ১৯৯১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনেই নৌকার প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ–৩ আসন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচনে গোপালগঞ্জের ভোটাররা নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জেলায় মোট ভোটার ছিলেন ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬১৮ জন। ৩৯৭টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
Posted ১০:১৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।