আব্দুর রহমান মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার:
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ প্রিন্ট
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শুভাঢ্যা খালটি এখন যেন এক বিশাল ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন ধরে খালের সংস্কার ও খনন কাজ বন্ধ থাকায় এই চরম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গোলামবাজার রোড সংলগ্ন খালের অংশটি এখন প্লাস্টিক বর্জ্য, পলিথিন এবং গৃহস্থালির আবর্জনায় পুরোপুরি ঢেকে গেছে।
আজ শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খালের কাজ বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে গোলামবাজার রোডের ফুটপাতগুলো দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকানপাট। এসব দোকানের সমস্ত বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা সরাসরি খালে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। একশ্রেণীর অসচেতন মানুষ রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বড় বড় বস্তাভর্তি ময়লা এই খালে ফেলে যাচ্ছে। ফলে খালটি এখন তার স্বাভাবিক অস্তিত্ব হারিয়ে একটি উন্মুক্ত ডাস্টবিনে রূপ নিয়েছে।
খালের পচা ময়লা-আবর্জনা থেকে নির্গত তীব্র ও অসহ্য দুর্গন্ধে আশেপাশের জনজীবন সম্পূর্ণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দুর্গন্ধের তীব্রতা এতই বেশি যে, সংলগ্ন বাড়িঘরের মানুষ—বিশেষ করে নারী ও শিশুরা ঘরের জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না। চব্বিশ ঘণ্টা ঘরের জানালা বন্ধ করে এক দমবন্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা এই বর্জ্যের কারণে এলাকায় মশা-মাখির উপদ্বব ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয়দের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
গোলামবাজার রোডটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু খালের পাড় ও রাস্তার কালভার্ট সংলগ্ন এলাকাটিতে দিন-রাত অবাধে অটোচালক, রিকশাচালক ও পথচারীরা মূত্রত্যাগ করছেন। এর ফলে পুরো রাস্তা জুড়ে এক তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে সাধারণ পথচারীদের নাক চেপে ধরে চলাচল করতে হয়।
পাশাপাশি, রাস্তার ওপরেই ময়লার স্তূপ জমে থাকা এবং যত্রতত্র অটো-রিকশা পার্কিং করে রাখার কারণে মূল সড়কটি একদম সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নোংরা, কাদা ও পিচ্ছিল পরিবেশের কারণে এই ব্যস্ত সড়কে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অটো বা রিকশা দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পথচারীরা সবসময় এক অজানা আতঙ্ক বুকে নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—এই নরকযন্ত্রণা দেখার কি কেউ নেই? প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকা এবং খালের উন্নয়ন কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই আজ লাখো মানুষকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত এই ময়লা অপসারণ করা না হলে এবং খালের কাজ পুনরায় শুরু না হলে আগামীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অবçalves গোলামবাজার রোডের ফুটপাত থেকে সব ধরনের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা, রাতে খালে ময়লা ফেলা বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং শুভাঢ্যা খালের সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করে কেরানীগঞ্জবাসীকে এই চরম দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ।
Posted ০১:০১ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]