ক্রীড়া প্রতিবেদক:
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ প্রিন্ট
কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে তখন শুধু অপেক্ষা। একটি গোলের অপেক্ষা। একটি মুহূর্তের অপেক্ষা। একটি শিরোপার অপেক্ষা।
গ্যালারিজুড়ে হাজারো সমর্থক। কারও হাতে পতাকা। কারও কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা। কারণ, ঘড়ির কাঁটায় তরতর করে ছুটে চলছিল সময়।
ম্যাচের গতিপথ ছিল ড্রয়ের দিকে। কিন্তু বড় দলগুলো ঠিকই সুযোগ কাজে লাগাতে জানে। বসুন্ধরা কিংসও তাই করল। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে ডি বক্সে ফাহিমকে ফেলে দেন আবাহনীর দুই ডিফেন্ডার। রেফারির বাঁশি বাজতেই স্টেডিয়ামে শুরু হয় গর্জন। পেনাল্টি নিতে দাঁড়ান ডরিয়েলটন গোমেজ। চাপ ছিল। স্বপ্ন ছিল। ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান ডরিয়েলটন। আর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয় গ্যালারি। সমর্থকদের চিৎকারে তখন কাঁপছে পুরো স্টেডিয়াম। খেলোয়াড়দের চোখেমুখেও স্বস্তি। তবে বসুন্ধরা কিংসের ক্ষুধা তখনো শেষ হয়নি। তিন মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সোহেল রানা। বক্সের ভিতর থেকে তার বুলেট গতির শট যেন শিরোপায় শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। তারপর শুধু অপেক্ষা শেষ বাঁশির। সেই বাঁশি বাজতেই মাঠে শুরু হয় উৎসব। গ্যালারি থেকে সমর্থকরা ছুটে আসেন খেলোয়াড়দের দিকে। কেউ জড়িয়ে ধরছেন। কেউ কাঁদছেন আনন্দে। কেউ মোবাইলে বন্দি করছেন ইতিহাসের মুহূর্ত।
২-০ গোলের জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শিরোপা নিশ্চিত করে বসুন্ধরা কিংস। এটি তাদের ষষ্ঠ লিগ শিরোপা। একসময় টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। গত মৌসুমে সেই ধারায় ছেদ পড়ে। চ্যাম্পিয়ন হয় মোহামেডান। এবার আবার ট্রফি ফিরল কিংসের ঘরে। ১৭ ম্যাচ শেষে বসুন্ধরার পয়েন্ট এখন ৩৮। সমান ম্যাচে ফর্টিস এফসি ও আবাহনীর পয়েন্ট ৩৪। গতকাল ম্যাচের শেষ দিকে আবাহনীও ফিরতে চেয়েছিল। এমেকা মাঝমাঠ থেকে একক নৈপুণ্যে কয়েকজনকে কাটিয়ে শট নিয়েছিলেন। কিন্তু বল চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে যায় আবাহনীর স্বপ্নও। দিনটি হয়ে যায় শুধু বসুন্ধরা কিংসের।
Posted ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]