নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ প্রিন্ট
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে ‘হত্যাচেষ্টার’ অভিযোগ উঠেছে মো. নুরুদ্দিন রাসেল (৩৩) নামে একজনের বিরুদ্ধে।এই রাসেল একজন প্রতারক,নারী লোভী,মাদকাসক্ত ছেলে বলে অভিযোগ করে তার স্ত্রী ।মাদকের টাকা জোগাড় করতে সে নানা নারীকে ভালবাসার ফাঁদে ফেলতো,তাঁরপর টাকা পয়সা,মান সম্মান নষ্ট করে পালাতো।এমনই এক ভুক্ত ভোগি নারী সাংবাদিক বিগত রোববার (১৯ জানুয়ারি) তাঁর (রাসেলের) মারধরে আহত ভুক্তভোগী রূপনগর থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।অভিযুক্ত নুরুদ্দিন রাসেল চট্টগ্রামের মীরসরাই থানার পূর্ব মঠবাড়িয়া গ্রামের মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে গাজীপুর জেলা টঙ্গীতে বাস করেন তিনি।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মিরপুরের বাসিন্দা পেশায় সাংবাদিক এক মহিলার সঙ্গে ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ৮ লাখ টাকা কাবিনে রাসেলের বিয়ে হয়। ওই সময় ঐ নারী সাংবাদিকের পরিবার রাসেলকে স্বর্ণের আংটি, চেইন, হাত ঘড়ি উপহার হিসেবে দেয়। অভিযুক্ত রাসেল কিছুদিন ব্যবসা করলেও বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতেই থাকা শুরু করেন। এমনকি, স্ত্রীর ভরণপোষণ বাবদ সংসারে কোনো খরচ দিতেন না।
বিয়ের কমাস পর রাসেল ব্যবসার কথা বলে লিমার কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। লিমা অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে হয়। দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকলে একসময় লিমা পরিবার থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৫ লাখ টাকা স্বামীকে এনে দেন। এতেও সন্তুষ্ট করা যায়নি। কিছুদিন পর আবারও বাকি ৫ লাখ টাকার চাপ দিতে থাকেন। অস্বীকৃতি জানালে ফের মারধর করেন। এরিমধ্যে একাধিকবার হত্যারও চেষ্টা করেন— অভিযোগে বলা হয়। অভিযোগে আরও তুলে ধরা হয়, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি রাত আনুমানিক আড়াইটায় রাসেল রুমে প্রবেশ করে স্ত্রীকে গলা চেপে শ্বাসরুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। মহিলা অসুস্থ হয়ে সেদিনই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ সময় তাকে জানানো হয়, যৌতুকের বাকি টাকা না দিলে তাকে তালাক দেবেন রাসেল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্ত্রীকে নির্যাতনের পর গা-ঢাকাদেয় নারীলোভী রাসেল।
ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি মামলার অভিযোগে বিস্তারিত বলেছি। শত অত্যাচার সহ্য করেও সংসার করতে চেয়েছি। কিন্তু দিন দিন স্বামীরূপী এই অমানুষের নির্যাতন বেড়েই চলছিল। আমাকে মেরে ফেলারও চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’এ ব্যাপারে ডিএমপির রুপনগর থানায় নারী ও শিশু নিযাতন মামলা/এজাহার হয়েছে যার নং ৯ তারিখ ১৯/১/২০২৫।আবার সিএমএম কোর্টেও মামলা করেন ভুক্তভোগি। রুপনগর থানার মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মেহরুল ও ওসি।তাঁরা প্রতিদিন নানা কৌশলে, নানা জায়গায় তাকে ধরার চেষ্টা করেন।ধৃত রাসেল গাঢাকা দিয়ে থাকে।রুপনগর থানার ওসি ও মিরপুর জোনের ডিসি বিশেষ তৎপরতায় এক প্রকার বাধ্য হয়ে সিএমএম কোর্টের ১২ নাম্বার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন রাসেল।মাননীয় আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল ওহাব উভয় পক্ষের আইনজীবীর কথা শুনে রাসেল কে জেলহাজতে পাঠান।মিরপুর জোনের ডিসি বলেন “আমরা পুলিশ এখন জনগণের বন্ধু ও অপরাধীদের ঘুম কেড়ে নিতে চাই। আসামী জেলে গেছেন,বাদী নিশ্চয়ই সুবিচার পাবে”।রুপনগর থানার ওসি জানান “আমরা শুরু থেকেই মামলাটির ব্যাপারে আন্তরিক ছিলাম,আসামী ধরার ব্যাপারে তৎপর ছিলাম।এখন সুবিচারের ব্যাবস্হা করা হবে পুলিশের পক্ষ থেকে”। মামলার বাদী বলেন আমি ন্যায় ও ন্যায বিচার চাই এই কুলাংগার যাতে আর কোন মেয়ের জীবন নষ্ট করতে না পারে এটাই আমার চাওয়া।
Posted ০২:৪৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]