আব্দুর রহমান মোল্লা
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট
তপ্ত রোদে পুড়ছিল তামাটে আকাশ, আর ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত ছিল প্রাণ। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আকাশ ভেঙে নামল কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। আজ বিকেলে কেরানীগঞ্জের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যাওয়ার পর শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। ধূসর ধুলিকণা মাখা জনপদে এই বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিয়েছে, যা কেরানীগঞ্জবাসীকে দিয়েছে দীর্ঘশ্বাস ফেলার সুযোগ এবং এক চিলতে প্রশান্তি।
গত কয়েকদিন ধরে কেরানীগঞ্জের তাপমাত্রা ছিল অসহনীয়। বিশেষ করে চুনকুটিয়া, কদমতলী, জিনজিরা এবং রুহিতপুরের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে গরমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছিল। আজ দুপুরের পর থেকেই আকাশের মেজাজ বদলাতে শুরু করে। এরপর শুরু হয় কাঙ্ক্ষিত সেই রিমঝিম শব্দ। বৃষ্টির পরশ পেয়ে মুহূর্তেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। তপ্ত পিচঢালা পথ থেকে ওঠা গরম ভাপ নিমিষেই উধাও হয়ে এক শীতল হাওয়া বইতে শুরু করে।
বৃষ্টি নামার সাথে সাথেই ঘরের কোণে বন্দি থাকা মানুষগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। কাউকে কাউকে দেখা গেছে ছাদে বা খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টির ঝাপটা গায়ে মেখে নিতে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের আনন্দ ছিল বাঁধভাঙ্গা। জিনজিরা এলাকার এক বাসিন্দা হাসিমুখে বলেন, “ভাই, গরমে জানটা কয়লা হয়ে যাচ্ছিল। এই বৃষ্টি যেন আল্লাহর রহমত হয়ে নামল। এখন শান্তিতে একটু ঘুমানো যাবে।”
এই বৃষ্টি কেবল সাধারণ মানুষের জন্যই নয়, বরং স্থানীয় কৃষকদের জন্যও বয়ে এনেছে সুখবর। খরাপ্রবণ ক্ষেতগুলো বৃষ্টির পানি পেয়ে সতেজ হয়ে উঠেছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৃষ্টি ফসলের জন্য সঞ্জীবনীর মতো কাজ করবে।
দীর্ঘ দাবদাহের পর কেরানীগঞ্জে এক পশলা বৃষ্টি জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। ধুলোবালি কমে পরিবেশ হয়েছে নির্মল, আর মানুষের মনে ফিরেছে প্রশান্তি। প্রকৃতির এই শীতল উপহারে কেরানীগঞ্জবাসী এখন কেবলই বৃষ্টির ছন্দে মেতে আছে।
Posted ০৬:৪৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]