নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫ প্রিন্ট
নরসিংদীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী নাজির মোঃ ইকরাম হোসেন এবং মোসাঃ হোসনা আক্তার নামের এক নারীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন ধর্ষণের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছেন, অন্যদিকে সহকারী নাজির ইকরাম হোসেন তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, মানহানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে পূর্বেই থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
হোসনার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি:
জানা যায়, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে নরসিংদী সদর মডেল থানায় দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি নম্বর: ১৪৯৭) ইকরাম হোসেন অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর জেলা শিল্পকলা একাডেমির এক অনুষ্ঠানে মোসাঃ হোসনা আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর হোসনা তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং একপর্যায়ে কর্মস্থলে এসে বারবার দেখা করার চেষ্টা করেন ও বিয়ের প্রস্তাব দেন।
জিডিতে ইকরাম দাবি করেন, অনুসন্ধানে তিনি জানতে পারেন, হোসনা আক্তার পূর্বে পাঁচটি বিয়ে করেছেন এবং প্রতিটি সম্পর্ক থেকে ২০-৩০ লক্ষ টাকা করে হাতিয়ে নিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর তারিখে নরসিংদী মডেল থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা (মামলা নম্বর: ২৮, ধারা: ৩৬৫/৩৮৫/১১৪/৫০৬) রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় হোসনা তাকে এবং তার স্ত্রীকে ফোনে হুমকি দেন, বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং প্রতিনিয়ত মোবাইলে বিরক্ত করেন। ইকরাম বলেন, আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যে কোনো সময় আমাদের ক্ষতি হতে পারে।
সহকারী নাজিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা:
অন্যদিকে, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাধবদী এলাকার ওই নারী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। গত সোমবার (২৩ জুন) বিচারক মো. আলী আহসান মাধবদী থানাকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয় বাদীর বাবা একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা। তার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হুইলচেয়ারের আবেদন করেন তিনি। এ সূত্র ধরে সহকারী নাজির ইকরাম হোসেন তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং পরে বিয়ের প্রলোভনে ৯ মার্চ মাধবদীর একটি আবাসিক হোটেলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন নারীটি।
মামলায় আরও বলা হয়, ইকরাম তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নেন, পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। বাদী জানান, থানায় গেলে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তদন্তের দাবি:
পাল্টাপাল্টি অভিযোগের এ ঘটনাটি নরসিংদীতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সুশীল সমাজ ও স্থানীয়রা স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
(সংবাদটি দুটি পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং উভয় অভিযোগকারীকে বক্তব্যের জন্য পাওয়া যায়নি বিধায় তাদের বক্তব্য উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি)
Posted ০৮:৫৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
dainikbanglarnabokantha.com | Shanto Banik
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]