ফাহিম ফারহান | রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট
“বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ সংযোজন: কারিগরি, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণ” শীর্ষক একটি কারিগরি সেমিনার আজ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির কৌশলগত গুরুত্ব, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি একজন ফুলব্রাইট স্কলার, বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)-এর সাবেক ভিজিটিং প্রফেসর এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ, যিনি পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডস বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি মিশ্রণে পারমাণবিক বিদ্যুতের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নিরবচ্ছিন্ন বেসলোড বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সেমিনারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রিঅ্যাক্টর নিরাপত্তা এবং ৩এস কাঠামো—সেফটি, সিকিউরিটি ও সেফগার্ডস নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (VVER-1200, জেনারেশন-III+) উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, অন্তর্নিহিত ও প্যাসিভ সেফটি সিস্টেম এবং ঝুঁকি প্রশমন ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি, বড় ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার ক্ষেত্রে গ্রিড নির্ভরযোগ্যতা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অংশে লেভেলাইজড কস্ট অব ইলেকট্রিসিটি (LCOE), অর্থায়ন কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা মত দেন যে, আধুনিক পারমাণবিক প্রযুক্তি, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক তদারকি, গ্রিড প্রস্তুতি এবং দৃঢ় নিরাপত্তা সংস্কৃতির সমন্বয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, কার্বনমুক্তকরণ এবং টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
এই সেমিনারটি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে প্রমাণভিত্তিক আলোচনা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিইআরসি’র তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
Posted ৮:১২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Fahim Farhan
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।