রবিবার ১২ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিকল্পনা কমিশনে প্রকৌশলীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬   প্রিন্ট  

পরিকল্পনা কমিশনে প্রকৌশলীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদে শ (আইইবি) এর পুরকৌশল বিভাগের উদ্যোগে Inauguration of APMCE2026 & Success and failure of projects from project management viewpoint: Bangladesh and International Context শীর্ষক সেমিনার ১১ জুলাই ২০২৬ খ্রি. রোজ শনিবার সকাল ১০:০০ ঘটিকায় শহীদ প্রকৌশলী ভবন, আইইবি সদর দফতর, রমনা, ঢাকায় কাউন্সিল হলে অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মীর শাহে আলম এমপি,প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। তিনি বলেন, এ ধরনের গবেষণার ফলাফল সরকার নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে। তাই গবেষণালব্ধ সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকারের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রকৌশল বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর অনেক প্রকৌশলী প্রকৌশল পেশায় না থেকে প্রশাসনিক পেশার প্রতি অধিক আগ্রহী হচ্ছেন। এর ফলে দেশ ও সরকার উভয়ই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ একজন দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি করতে সরকারকে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি ও বিনিয়োগ করতে হয়। প্রকৌশলীদের যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের সময় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। একটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবেশগত প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ উপযোগিতা বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। *দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের প্রস্তুত করা ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর পর এমন ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংশোধন বা পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়, যাঁরা প্রকৌশল পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। ফলে অনেক সময় প্রকৌশলগত বাস্তবতা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। তাই পরিকল্পনা কমিশনে প্রকৌশলীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রকৌশলীদের সাফল্য ও অবদান যথাযথভাবে প্রচার না করে অনেক সময় শুধুমাত্র ব্যর্থতার ঘটনাগুলোই বেশি আলোচিত হয়। অথচ দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থপতিদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ থাকবে, ভবন নকশা প্রণয়নের সময় প্রাকৃতিক আলো ও বায়ু চলাচলের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন। এমন নকশা করা উচিত যাতে দিনের আলো সর্বাধিক ব্যবহার করা যায়। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য গড়ে উঠবে এবং বাসিন্দাদের জন্য স্বাস্থ্যকর কর্ম ও বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত হবে। প্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে প্রকৌশলীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৌশলগত সিদ্ধান্ত প্রকৌশলীদের হাতেই থাকা উচিত। এর মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং টেকসই জাতীয় উন্নয়ন বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল , উপাচার্য, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর। তিনি বলেন, আইইবি’র পুরকৌশল বিভাগ এবং ডুয়েট এর পুরকৌশল বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আজকের এপিএম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমাদের যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি চিন্তার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একটি প্রকল্প শুধু নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এর স্থায়িত্ব, রক্ষণাবেক্ষণ, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজনীয়তাও বিবেচনায় রাখতে হবে। পরিকল্পিত ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গিই টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি। শিল্পখাত এবং একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় ও সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী গবেষণা এবং শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের মাধ্যমেই সময়োপযোগী প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং বাস্তবমুখী সমাধান তৈরি করা সম্ভব। এই সমন্বয় যত শক্তিশালী হবে, আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তত বেশি কার্যকর, টেকসই এবং জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু), প্রেসিডেন্ট, আইইবি এবং চেয়ারম্যান, রাজউক, অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. আবু তায়েব, বিভাগীয় প্রধান, পুরকৌশল বিভাগ ডুয়েট।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান, সম্মানী সাধারণ সম্পাদক, আইইবি। তিনি বলেন, আমাদের দেশের অধিকাংশ ভবন এখনও আধুনিক ভূমিকম্প সহনশীল মানদণ্ড অনুযায়ী নির্মিত নয়। বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ভবিষ্যতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাপানের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ দেশের উন্নত প্রযুক্তি, নকশা ও নির্মাণ-অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে নিরাপদ ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে। পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও আমাদের নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। বর্তমানে বড় পরিসরের কেন্দ্রীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক ছোট পরিসরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। দেশের সড়ক অবকাঠামো পরিকল্পনায়ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক সড়ক দুই লেন বা একক ক্যারেজওয়ে হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে, যা অদূর ভবিষ্যতেই যানবাহনের চাপ সামাল দিতে অক্ষম হয়ে পড়ে। তাই নতুন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যানবাহনের প্রবাহ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নগরায়ণ বিবেচনায় রেখে ন্যূনতম চার লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। এতে ভবিষ্যতে বারবার সড়ক প্রশস্ত করার প্রয়োজন কমবে, সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে এবং নিরাপদ ও দক্ষ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (খোকা) , নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি ও চেয়ারম্যান, পুরকৌশল বিভাগ, আইইবি। উক্ত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন, প্রকৌশলী মো. আয়নুল কবির, ভাইস-চেয়ারম্যান, পুরকৌশল বিভাগ, আইইবি এবং সঞ্চালনায় ছিলেন, প্রকৌশলী নেসার উদ্দিন, সম্পাদক, পুরকৌশল বিভাগ, আইইবি।

উক্ত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, ভাইস-প্রেসিডেন্ট, (এসএন্ডডব্লিউ), আইইবি, প্রকৌশলী এ.টি.এম. তানবীর-উল হসান (তমাল) ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) আইইবি, প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল, সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক, (প্রশাসন ও অর্থ) আইইবি, প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ ওসমানী, সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক, (এসএন্ডডব্লিউ), আইইবি, প্রকৌশলী কে. এম. আসাদুজ্জামান, সম্মানী সম্পাদক, ঢাকা কেন্দ্র, আইইবিসহ কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, প্রকৌশল বিভাগসমূহের নেতৃবৃন্দ, প্রকৌশল চ্যাপ্টারদ্বয়ের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থার প্রকৌশলীবৃন্দ।

Facebook Comments Box

Posted ০৩:৩৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

dainikbanglarnabokantha.com |

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
সম্পাদক : রুমাজ্জল হোসেন রুবেল
বাণিজ্যিক কার্যালয়

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮

ই-মেইল: [email protected]