বিশেষ প্রতিনিধি
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ প্রিন্ট
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের আবুরী গ্রামের বাসিন্দা মো. আনারুল ইসলাম আবুরী-মাগুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদে আবেদন করতে গিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ যাচাইয়ে বিপাকে পড়েছেন। তিনি যে স্নাতক (বি.এ. পাস) সাময়িক সনদ জমা দিয়েছিলেন, সেটির তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত রেকর্ডে পাওয়া যায়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আবুরী-মাগুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভাপতি পদে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আহ্বান করা হয়। সেই প্রক্রিয়ায় মো. আনারুল ইসলাম নিজেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৩ সালের বি.এ. (পাস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দাবি করে একটি সাময়িক সনদ (Provisional Certificate) দাখিল করেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সনদটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠালে গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০২৮২৪৭৪ অনুসন্ধান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত রেকর্ডে ওই শিক্ষার্থীর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যাচাইয়ের জন্য পাঠানো সাময়িক সনদে যে তথ্য রয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড, নম্বরপত্র ও মূল সনদ জমা দিয়ে অধিকতর যাচাই করা যেতে পারে। পাশাপাশি জাল বা বিকৃত কাগজপত্র ব্যবহার করে সনদ সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে, বিদ্যালয় থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো সভাপতি পদের প্রার্থীদের তালিকায় মো. আনারুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.এ. (পাস) উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাই প্রতিবেদনের পর তার জমা দেওয়া সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হওয়ার উদ্দেশ্যে কেউ যদি ভুয়া বা যাচাইয়ে অসঙ্গতিপূর্ণ শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করেন, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা হোক।
এ বিষয়ে মো. আনারুল ইসলামের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
প্রসঙ্গত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ দাখিল করা সকল তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হয়ে থাকে। এ ঘটনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাই প্রতিবেদনের পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
Posted ১১:১৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Shanto Banik
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]