নুরুল ইসলাম সেলিম, কক্সবাজার
বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ প্রিন্ট
রামুতে ফলজ ও বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছ কেটে বাড়িঘর উচ্ছেদ করার জন্য রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাবাসীর মধ্যে। সরেজমিনে তদন্ত করে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় ভুমিহীন, হতদরিদ্র, অসহায়, স্থানীয় কিছু লোকজন রামু রাবার বাগানের পূর্ব পাশে লালুর ঘোনা বুড়ির জুম এলাকায় রিজার্ভ ফরেস্ট ও রাবার বাগানের পরিতাক্ত যৌথ খালি জায়গায় গিয়ে বাড়ি ঘর নির্মাণ করে ১৯৯০ সাল থেকে অর্থাৎ দীর্ঘ ৪৫ বছর পর্যন্ত বসবাস করে আসতিছে, বর্তমানে প্রায় ৪৫ টি বাড়িঘর, একটি মসজিদও রয়েছে ঐ এলাকার। স্হানিয় লোকজন পাহাড়ে আম, কাঁঠাল, নারিকেল, লেবু, লিচু, সজেদা, মাল্টা, পেয়ারা, আমরা, খেজুর, জলপাই, জাম ও ঔষধিগাছ সহ প্রায় ৫ হাজারের অধিক ফলজ ও বনজাতের গাছ রোপন করেছে স্থানীয় লোকজন। এলাকাবাসীরা জানান – বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার বনজ গাছ রয়েছে যাদের বর্তমানে এক একটি গাছের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মত। বিশ্বময় ,জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন সময়ে সরকারের উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করা হয়েছে।
রামু রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ রিজার্ভ ফরেস্টের জমিটি একক দাবী করলেও মূলতঃ জায়গাটি রাবার বাগান ও বনবিভাগের যৌথ পাহাড়ি জায়গায় অবস্থিত। তাই রাবার বাগানের একক দাবী করে হাজার হাজার ফলজ ও বনজ গাছ কেটে বাড়িঘর উচ্ছেদ করার জন্য উদ্যোগ নিলে পাহাড়ে বসবাসরত অসহায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায় এক হাজারের অধিক বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছ কেটে ফেলেছে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ। সেই বিষয়ে রামু রাবার বাগানের( বাংলাদেশ শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন) উপ -ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি উদ্যতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মোবাইলে বা সাক্ষাতে আমি আপনার কাছে বক্তব্য দিতে পারি না, তারপরও এতটুকু বলি কোন পাবলিকের বাসা বাড়ি রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ বা কোন কিছু করে নাই। আপনি যে বিষয়ে বলছেন রামু উপজেলা প্রশাসন থেকে যাবতীয় সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যদি বিস্তারিত জানতে চান তাদের কাছ থেকে জানতে পারবেন বলে জানান।
রাবার বাগান ও বন বিভাগের যৌথ মালিকানাধীন পাহাড়ি খালী জায়গায় বসবাসরত স্থানীয় ভুক্তভোগী সুরত আলম,মোহাম্মদ কালু,নজরুল, চমুদা খাতুন,নুর বাহারসহ অনেকে জানান- আমরা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে রাবার বাগান ও বনবিভাগের মালিকানাধীন যৌথ খালি পাহাড়ে খালি জায়গায় বসবাসরত আছি। আমাদের মাথা গোজাঁর কোন জায়গা নেই। পাহাড়ে আমরা প্রায় ৫ হাজারের অধিক ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ রোপন করে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপ কে স্বাগত জানিয়ে অনেক কষ্ট করে এই গাছগুলো রোপন করেছি। আমাদের কোথাও এক ইঞ্চি মাথা গুজার জায়গা নেই। আমরা বিভিন্ন ভাবে জানতে পারাচ্ছি রাবার বাগান ও বন বিভাগের মালিকানাধীন যৌথ জায়গা রামু রাবার বাগানের কতৃপক্ষ তাদের একক জায়গা দাবী করছে, আমাদের রোপন কৃত ফলজগাছ কেটে, আমাদের বাড়ীঘরসহ আমাদের কে উচ্ছেদ করবে।
রামু রাবার বাগানের কতিপয় কর্মচারীগন প্রতিনিয়ত আমাদের হুমকি দিচ্ছে। বাগান কতৃপক্ষ আমাদের অনুমতি বিহীন ১হাজারের মত গাছ কেটে ফেলেছে। অনেক সরকার গেছে কিন্ত আমাদের কে কখনো উচ্ছেদ করার মত পরিকল্পনা নেইনি। এই ফলজ গাছ থেকে ফল আরোহন করে জীবিকা নির্বাহ করি।
কতিপয় ব্যক্তিগন আমাদের বসবাসরত পাহাড়ে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে বাগান কর্তৃপক্ষকে কু- পরামর্শ দিয়ে উচ্ছেদ করার পায়তারা ও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।
আমরা সরকারের কাছে সুষ্ঠু সমাধান চাই। এবং আমাদের দীর্ঘদিনের অজিত শ্রমের ফলজ ও বনজ গাছ গুলো রক্ষার্থে সার্বিক সহযোগিতাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের মত সবুজ বেষ্টনী গড়ে পাহাড়ে থাকার স্বপ্ন বাস্তবায়নের হস্তক্ষেপ কামনা করচ্ছি।
চট্টগ্রামের বাংলাদেশ বন ও শিল্প করপোরেশনের (বশিউক) রাবার বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ এ এম শাহাজাহান সরকারের সাথে
০১৭১৯ ০০৩৩২০ নম্বরে যোগাযোগ করে বক্তব্য জানার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ না করে ফোন কেটে দেন তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
Posted ০১:২৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
dainikbanglarnabokantha.com | Fahim Farhan
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]