নবকণ্ঠ ডেস্ক
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ প্রিন্ট
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জরুরি সংস্কার কাজ এবং এর ব্যয় বরাদ্দকে কেন্দ্র করে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাবরক্ষক দিলীপ কুমার সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তার একটি বক্তব্য গোপনে ভিডিও ধারণ এবং তা কাটছাঁট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কেআইবি কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশে জরুরি সংস্কার কাজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এরই প্রেক্ষিতে ইঞ্জিনিয়ার হাবিব ও স্টোর কিপার আমজাদ তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেন। তবে সেই কাজের মান সাধারণ কৃষিবিদ ও নেতৃবৃন্দের আশানুরূপ না হওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ৩১ মে প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি কর্মসূচিকে সামনে রেখে কৃষিবিদ রিজভী, সৈকত ও মাসুমকে পুরো কাজের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। কেআইবির প্রশাসকও জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালনার নির্দেশ দেন।
আর্থিক লেনদেন প্রসঙ্গে হিসাবরক্ষক দিলীপ কুমার সরকার তার বিবৃতিতে বলেন, ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় চলমান সংস্কার কাজ যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য আমি পর্যায়ক্রমে অগ্রিম বাবদ চার লাখ টাকা প্রদান করি। এই খরচের যাবতীয় বিল ও ভাউচার আমার কাছে সম্পূর্ণ সংরক্ষিত রয়েছে। এতে কোনো ধরনের আর্থিক অসংগতি নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতেও কেআইবির মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে জরুরি প্রয়োজনে মৌখিক নির্দেশনায় কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তীতে বিল-ভাউচার যাচাই সাপেক্ষে তা সমন্বয় করা হয়েছে।
লিখিত বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, মূল বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান ও কৃষিবিদ আনিসের প্ররোচনায় কৃষিবিদ ফয়সাল তার অজান্তে গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি অসৎ উদ্দেশ্যে এডিট বা কাটছাঁট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
তিনি উল্লেখ করেন, অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি অবিলম্বে এই অপপ্রচার বন্ধের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতির শেষে হিসাবরক্ষক বলেন, তাকে কোনো ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে বা অস্ত্র প্রদর্শন করে জোরপূর্বক কোনো টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনেই নিয়মমাফিক এই অর্থ অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে দিলীপ কুমার সরকার এশিয়া পোস্টকে বলেন, গত ৩০ মে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি উপলক্ষে কিছু সংস্কার কাজের জন্য প্রশাসকের অনুমতি নিয়েই অগ্রিম তিন দফায় চার লাখ টাকা দিয়েছি। অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা নেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সম্পাদক ও অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) সদস্য শাহাদাত হোসেন বিপ্লব এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু কৃষিবিদ অনবরত আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
Posted ০৮:০০ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Shanto Banik
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]