আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রজেক্ট প্রকল্পের পাঁচ বছর মেয়াদী শেষে দ্বিতীয় পর্যায়ে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্ব-পদে চাকরি পুনর্বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান। রোববার দুপুরে গাজীপুর নগর ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন, পরে তারা সিটি কর্পোরেশনের কর্তৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রজেক্ট প্রকল্পের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। মানববন্ধনে তারা বলেন,স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা মোতাবেক পুনরায় তাদের চাকরি বহাল থাকার নির্দেশ থাকলেও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন তা মানতে নারাজ বলে দাবি করেন। তাদেরকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে পুনরায় নিয়োগ দিতে চাচ্ছেন। যেটি বাংলাদেশের কোন সিটি কর্পোরেশন করেননি। তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের সবগুলো সিটি কর্পোরেশন যে নিয়মে চালাবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনও এই নিয়ম বল ভাত রাখতে হবে। স্মারকলিপিতে দাবী করা হয়, আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রজেক্ট, দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পটির মেয়াদ জুন/২৫ মাসে শেষ হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মীদের নিয়ে পরবর্তী প্রকল্প শুরু হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পটি চলমান রাখার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানানো হয়।এতে আরো বলা হয়, আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রজেক্ট-২য় পর্যায় প্রকল্পটি সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সরাসরি তত্ত্ববধানে পরিচালিত হয়। ২০১৪ সাল থেকে প্রকল্পটি পার্টনার এনজিও এর মাধ্যমে গাজীপুর সিটি করপোরেশন পার্টনার এরিয়া-১,২,৩ হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
প্রকল্প এরিয়ায় ৩টি প্রকল্প অফিস ৩টি নগর মাতৃসদন ও ৭টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র অবস্থিত কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতি মাসে হাজার হাজার নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে কম মূল্যে ও বিনা মূল্যে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন একটি বিশাল জনবহুল এলাকা। তাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবার চাহিদা নগর মাতৃসদন ও নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে পূরন করে আসছে।এতে আরো জানানো হয়, গত কোভিড-১৯ কালীন সময়ে প্রকল্পের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী সম্মুখ সারির করোনা যোদ্ধা হিসেবে সামনের সারিতে কাজ করেছে। প্রকল্পের ৩টি প্রকল্প অফিসে ১৫ জন, ৩টি নগর মাতৃসদনে ৯৬ জন ও ৭টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১১২ জনসহ সর্বমোট ২২৩ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সার্বক্ষনিক সেবা প্রদানে নিয়োজিত আছেন।
কিন্তু ৩০শে জুন/২৫ প্রকল্পটির মেয়াদ সমাপ্ত হয়ে যাবে। মন্ত্রনালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা মোতাবেক আগামী ১লা জুলাই/২৫ হতে পরবর্তী প্রকল্প শুরু হওয়া পর্যন্ত বর্তমানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিয়ে স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য আবেদন জানানো হয়।স্মারকলিপিতে আরো জানানো হয়, বর্তমান প্রকল্পের অধীন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সমাপ্তির পর পরবর্তীতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য স্বাস্থ্যসেবা হতে (এনজিও/হাসপাতাল) ৫০% আয়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে সৃজিত কোডের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে ২৫% বরাদ্দ এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিল/রাজস্ব আয়ের ১% ও সাসটেনন্যাবিলিটি ফান্ড হতে ২৫% অর্থের সংস্থান করার নির্দেশনা রয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, গাজীপুর সিটি করর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মাদ রহমত উল্লাহ মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মনগড়া যেন তেন পদ সৃষ্টি করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তিনি তার একক স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে দুর্নীতি, নিয়োগ বানিজ্যের অসৎ উদ্দেশ্যে থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধংস করতে চাচ্ছেন।প্রকল্পে বর্তমানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী উল্লেখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নিকট দাবী জানান।