মোঃ আবু সাইদ সরদার, সাতক্ষীরার প্রতিনিধি :
শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩ প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ৫৩ মিনিটে সাতক্ষীরার একজন স্বনামধন্য প্রেস ব্যাবসায়ীর মোবাইল ফোনে (০১৯৭০-৪৫৭৮৮৭) এই নম্বর থেকে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে বলা হচ্ছে আমি সাব-ইন্সপেক্টর মনির বলছি, আপনার ছেলের নাম কি আবির (ছদ্মনাম), তখন তিনি উত্তর দিলেন হ্যাঁ, এরপর সাব-ইন্সপেক্টর পরিচয়দাতা ব্যাক্তিটি বললেন, আপনার ছেলেকে ৫০পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে। একই সাথে বাবু নামে আরও একটি ছেলেকে আটক করা হয়েছে। তারা এখন আমাদের হেফাজতে আছে। এই নিন আপনার ছেলের সাথে কথা বলুন।
এরপর অপর একজন কাঁদো কাঁদো কন্ঠে ভাঙ্গা গলায় বলল, বাবা আমার কোন দোষ নেই, বাবু আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। স্যারকে কিছু টাকা দিলে আমাকে এখনি ছেড়ে দেবে। স্যারের এই নম্বরে বিকাশ করা আছে। বাবা তুমি আমাকে বাঁচাও বলেই ফোনটি কেঁটে দিলো। প্রথমে বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেননি ঐ ব্যাবসায়ী, বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয় তার। পরে ছেলের মোবাইলে নম্বরে ফোন করে নিশ্চিত হলেন তার ছেলে আসলেই আটক হয়েছে কিনা! কারণ তিনি জানতেন তার ছেলে এখন দোকান চালাচ্ছে। তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় ফোন দিয়ে নিশ্চিত হলেন, এই নামে কোন পুলিশ কর্মকর্তা থানাতে নেই। ঐ নম্বরটি কোন পুলিশ কর্মকর্তার নয়।
আসলে এটি ছিল একটি প্রতারক চক্র। একই অভিজ্ঞতা হয়েছে সাতক্ষীরা সদরের এক মধু ব্যাবসায়ী মানিক হোসেনের। কিছুদিন একই ধরনের একটি নম্বর থেকে বিএসটিআই কর্মকর্তা পরিচয়ে তাকে ফোন করা হয়। বলা হয় এখনই আপনার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালাবে। আমরা এখন খুলনারোড মোড়ে অবস্থান করছি। আপনি যদি বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পাঠান তাহলে আপনার প্রতিষ্ঠানে অভিযান হবে না। বিষয়টি নিয়ে তার সন্দেহ হলে খুলনার বিএসটিআই অফিসে ফোন দিয়ে জানতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
চক্রটির বিরুদ্ধে কখনও পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, লাইন্সেস আবেদনকারী, চাকুরি প্রার্থীদের কাছ থেকে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এভাবেই প্রতিনিয়ন সাতক্ষীরার বিভিন্ন গ্রাম ও শহরের সহজ-সরল মানুষদের বোকা বানিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্রটি। এদের প্রতারণার জালে আটকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অনেকে। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করেন না। তবে বেশ কিছু মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার পর বিষয়টি আস্তে আস্তে সামনে আসছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান জানান, এরকম বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। দ্রুত এই প্রতারক চক্রের সদস্যেদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো- সাবধান!!! সতর্ক এবং সচেতন হোন। সম্মানিত সাতক্ষীরা বাসী। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আপনাদেরকে সতর্ক এবং সচেতন হওয়ার জন্য এই মুহূর্তে কয়েকটি মেসেজ দিচ্ছি। নিশ্চয়ই আপনারা তা মেনে চলবেন। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ০১৭৭৪৬৮০৩৪৯ মোবাইল নম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা অন্য কোন অফিসার পরিচয়ে আপনাদের নিকট ফোন দিয়ে বলছেন যে আপনাকে নাশকতার মামলা বা অন্য কোন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে। বিকাশে টাকা পাঠান। অনেকেই হয়ত মামলার আসামি আছেন কিংবা মামলার আসামি হবেন এমন দুশ্চিন্তায় আছেন বা পরিবারের অন্য কোন সদস্য মামলায় ফেঁসে যাবে এই ভয়ে বিকাশে টাকা দিচ্ছেন। আপনাদের এই মর্মে সাবধান এবং সতর্ক করা হচ্ছে যে সাতক্ষীরা সদর থানা কিংবা অন্য কোন থানা পুলিশ আপনার নিকট কোনভাবেই টাকা দাবি করছে না। কখনো সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ এ ধরণের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নয়। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখেছি এটি একটি সঙ্ঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। আমরা এদের ধরবার জন্য কাজ করছি। আপনারা ফাঁদে পড়ে কখনো কাউকে বিকাশে কিংবা অন্য কোনভাবে টাকা দিবেন না। এ ধরনের ফোন পেলে তাৎক্ষণিক আমাদের নিম্ন বর্ণিত নম্বরে যোগাযোগ করুন। সতর্ক থাকুন! ভালো থাকুন, নিরাপত্তায় থাকুন।
সাতক্ষীরা থানা পুলিশ তথা সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সার্বক্ষণিক আপনার পাশে আছে। শুভেচ্ছান্তে- ওসি সাতক্ষীরা ফোন: ০১৭৬১৯০৯৯৯০, ০১৩২০১৪২১৭৯, ০১৩২০১৪২১৮০
Posted ০২:৩৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]