খুলনা ব্যুরোঃ
বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩ প্রিন্ট
ডিএনএ পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট এবং প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর অবশেষে ধর্ষিতাকেই বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছে ধর্ষক তৌহিদুর রহমান সৈকত। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী বিধান দাস।
এদিকে, ধর্ষণের ফলে ভূমিষ্ঠ শিশু পেয়েছে পিতৃ পরিচয়। বিষয়টি নিয়ে নবজাতক কন্যার ভবিষ্যত নিয়ে তার মা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। আইনজীবীরা এ বিষয়টিকে ন্যায় বিচারের সফলতা বলে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে গত ৪ এপ্রিল খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল ২ -এর বিচারক মো: রফিকুল ইসলাম শুনানীকালে আসামি সৈকতকে হয় বিয়ে, না হয় কারাগার- এ দুটি অপশন দিয়ে আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি অ্যাডভোকেট জেসমিন আরা জলি।
এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী বিধান দাস বলেন, ডিএনএ রিপোর্টে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। শিশুর সংগে আসামির ডি এন এ রিপোর্টে শতভাগ মিল পাওয়া গেছে। আসামি তার কন্যা সন্তানকে স্বীকার করে নিয়েছে।এতে শিশুটির পিতার পরিচয় সঠিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়েছে। গত ৪ এপ্রিল আদালত ডিএনএ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ভিকটিমকে বিয়ের নির্দেশ দেন আসামি সৈকতকে। একই সংগে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে বিবাহ সম্পনের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পাঁচ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।
আসামি তৌহিদুর রহমান সৈকত খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামের (৯নং ওয়ার্ড পংকোজিনি বসু রোড) মোঃ শফিউল ইসলামের পুত্র। তিনি একজন মাহিন্দ্রা চালক।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, আসামি সৈকত তার মাহিন্দ্রায় ওই নারী যাত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ধর্ষণ করেন। এ অভিযোগে ২০২১ সালের ১১ আগষ্ট ফুলতলা থানায় মামলা দায়ের করেন ওই নারী নিজেই। এ মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। এ ঘটনার পর ওই নারী গর্ভবতী হন এবং তিনি একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। কিন্তু আসামি সৈকত ধর্ষিতাকে বিয়ে এবং কন্যার পিতৃ পরিচয় স্বীকার না করায় গত বছরের ২৬ জুলাই সংশ্লিষ্টদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের আদেশ দেন খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২নং আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ রফিকুল ইসলাম।
সে অনুযায়ী বাদী ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে গত বছরের ১৬ আগষ্ট নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন করে তা ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। ডি এন এ রিপোর্টে নবজাতকের পিতা সৈকত এটা প্রমাণ হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে করোনার কারণে লকডাউন চলাকালে ফুলতলা থেকে চিকিৎসার জন্য ওই নারী মাহিন্দ্রায় চড়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসা শেষে একই মহিন্দ্রায় বাড়ি ফেরার পথে নির্জন স্থানে গাড়ি রেখে পদ্মা ফেলে দিয়ে সড়কের উপরেই তাকে ধর্ষণ করেন চালক তৌহিদুর রহমান। এ সময় তিনি মোবাইল ফোনে ওই দৃশ্য ভিডিও ধারন করেন, যা প্রচারের ভয় দেখিয়ে পরবর্তীতে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। যে কারণে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। সম্প্রতি তার একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
Posted ১১:২৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]