সোমবার ৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করতে হবে’ আলোচনা সভায় রুয়েট উপাচার্য –

মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫   প্রিন্ট  

দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করতে হবে’  আলোচনা সভায় রুয়েট উপাচার্য –

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে জুলাই আন্দোলনের যে চেতনা ও উদ্দেশ্য তা ধারণ করতে হবে’। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পুনর্জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১০ টায় উপাচার্য রুয়েটের প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পুনর্জাগরণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এর পর জুলাই আন্দোলনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও ২৪ জুলাই গণহত্যা বিষয়ক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা সহ আন্দোলনে আহত ও অংশগ্রহণকারীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
এসময় তিনি বলেন, ‘আন্দোলন হলেই বিজয় আসে না। ফ্রান্স বিপ্লবের নেতা নেপোলিয়ান বোনাপাট বলেছিলেন, খারাপ মানুষদের জন্য পৃথিবীকে যতটা না ভুগতে হয়েছে তার চাইতে বেশি ভুগতে হয়েছে যারা অন্যায় দেখেও চুপ থেকেছে। খারাপ কোন শাসকগোষ্ঠী যখন কোন দেশের ওপর চেপে বসে, তারা যখন অন্যায় নিপীড়ন চালাতে থাকেন, তাদের কারণের চাইতে আমরা যাদেরকে ভালো মানুষ বলে মনে করি তারা প্রতিবাদী না হয়ে ওঠার কারণে নিপীড়করা আরও বেয়াড়া হয়ে ওঠে। গত দেড় দশক ধরে আমরা দেখেছি, কথা বলতে না দেয়ার সংস্কৃতি। কর্তৃত্ববাদী সরকারকে সরানো সম্ভব হচ্ছিলো না কারণ, ছাত্র-জনতার যে ক্ষোভ তা সংগঠিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। ক্ষোভগুলোকে সংগঠিত করার জন্য নেতৃত্বের যে দরকার ছিল, তার ঘাটতি ছিল। তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের সেই ঘাটতি পুরণ হয়। তাদের বীরত্বের মাধ্যমেই আমরা অর্জন করেছি এই বিজয়। দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে জুলাই আন্দোলনের যে চেতনা ও উদ্দেশ্য ছিল তা ধারণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পুনর্জাগরণ’ আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ, ফলিত বিজ্ঞান ও মানবিক অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদের জিলানী ও পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল সহ জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ আহম্মদ চৌধুরী সহ বিভিন্ন অনুষদের ডীন, সকল পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, দপ্তর ও শাখা প্রধানগণ সহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, বেলা ১১ টায় পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, সোয়া ১১ টায় জুলাই ২৪ গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে অতিথিবৃন্দ, শিক্ষকমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ (জুলাই গল্প বলা) ও জুলাই ২৪-এ আহত যোদ্ধাদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান।

Facebook Comments Box

Posted ০৫:১১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

dainikbanglarnabokantha.com |

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
সম্পাদক : রুমাজ্জল হোসেন রুবেল
বাণিজ্যিক কার্যালয়

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮

ই-মেইল: [email protected]