বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

>>

গবাদি পশুর খামারে কোটি টাকার স্বপ্ন দেখাছে

এ. এম. উবায়েদ, নিজস্ব প্রতিবেদক :   |   রবিবার, ১১ জুলাই ২০২১   |   প্রিন্ট

গবাদি পশুর খামারে কোটি টাকার স্বপ্ন দেখাছে

গবাদি পশুর খামারে কোটি টাকার স্বপ্ন দেখাছে


করোনা মহামারীতে নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়ে লগডাউনে ঘরে বসে পরিকল্পনা করলেন নেয়ামত পুরের রৌহা গ্রামে গবাদি পশু পালন করে, এরশাদ । প্রাথমিক ভাবে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে উপজেলার নেয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামে ২০টি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু হয় এরশাদের জেসি এগ্রোর । বাড়িতেই করোনার চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাওড়ের কয়েক একর জমিতে এরশাদ ভুট্টা চাষ করলেন । ধীরে ধীরে বিভিন্ন জায়গা থেকেও পশু সংগ্রহ করায় মনোযোগী হলেন। কয়েক একর জমির ভুট্টা গাছ কেটে টুকরো করে সাইলেজ করে অর্গানিক পদ্ধতিতে লালন-পালন শুরু করলেন গবাদি পশুগুলো। এভাবেই শুরু এরশাদ উদ্দিনের জেসি এগ্রোর। জেসি এগ্রোর বয়স প্রায় দুই বছর হতে চলল, বর্তমানে জেসি এগ্রোতে দেশিজাত ছাড়াও ব্রাহামা, শাহীওয়াল, হারিয়ানা, গয়াল, নেপালি, ইন্ডিয়ান প্রায় ২৫০টি গবাদি পশু রয়েছে। খামারে ১৫০টি ষাড়, ৪০টি মহিষ ও ৬০টি গাভী রয়েছে। এখানে লাল, খয়েরি, সাদা ও কালো রঙের বিভিন্ন জাতের ষাড় রয়েছে। এগুলো প্রায় ছয় মাস থেকে আঠার মাস ধরে পোষা হচ্ছে। উদ্যোক্তা এরশাদ উদ্দিন জানান, পশু পালনের প্রধান শর্ত খাদ্য খরচ কমানো। আমি আমার খামারে প্রাকৃতিক পরিবেশে অর্গানিক খাবারের মাধ্যমে এই পশুগুলোকে লালন পালন করে আসছি। ভুট্টা চাষ করে আমি প্রতি কেজি খাবার ৩-৫ টাকায় দিতে পারছি কিন্তু বাজার থেকে এই খাবার ক্রয় করতে গেলে কেজি প্রতি ২০-২৫ টাকা খরচ পড়ে।

তিনি জানান, কোরবানির জন্য সুস্থ, সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান অর্গানিক খাবারে গড়ে তোলা পশুর চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। এ কথা চিস্তা করেই জেসি এগ্রো ফার্মের যাত্রা। আসছে কোরবানির ঈদে ২৫০টি গরু-মহিষের মধ্যে প্রায় দেড়শতটি পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। অনলাইনেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অগ্রিম বিক্রির জন্য ভালো সাড়া পাচ্ছি এবং গরু ও মহিষের বুকিং পেয়েছি। আশা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে খামারের পশু বিক্রি করে ইনশাঅল্লাহ কোটি টাকা মুনাফা হবে । উদ্যোক্তা এরশাদ উদ্দিন বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষিত বেকার যুবকদের চাকুরির পিছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। নেত্রীর কথার সাথে সুর মিলিয়ে করে আমিও বলব শিক্ষিত বেকার যুবকেরা যেন চাকুরির পিছনে না ছুটে ছোট আকারে খামার গড়ে তোলেন এতে করে শিক্ষিত যুবকেরা উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন। এতে নিজে লাভবান হওয়ার পাশপাশি মানুষের কর্মসংস্থানও করা সম্বব। হাতে কলমে প্রশিক্ষনের জন্য শিক্ষিত বেকার যুবকদের প্রয়োজনে ট্রেনিং করাতে এবং আমি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বেকারদের যথাসাধ্য চেষ্টা করব। খামারটিতে ভুট্টা দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি প্রাকৃতিক খাবার, সাইলেজ খেতে দেওয়া হয় গবাদি পশুদেরকে। কৃষকদের কাছ থেকে গাছ সহ ভুট্টা কিনে খামারেই বানানো হয় এ পশুখাদ্য। ফলে এসব প্রাণি লালনপালনেও খরচ পড়ছে ৩-৫ টাকা যা বাজারের খাবরে দামের চাইতে কেজি প্রতি ১৫-২০ টাকা কম।

স্থানীয় এলাকার কয়েকজন শিক্ষত যুবকেরা জানান, এরশাদের এই খামার দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন তারা। অনেকে খামার পরিদর্শন করে কীভাবে শুরু করা যায়, তারও পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। খামারে স্থানীয় প্রায় এক ডজন যুবকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এলাকায় আগে ভুট্টা চাষ তেমন হতো না, এখন পশু খামারকে ঘিরে কৃষকরা ভুট্টা চাষেও আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে খামারটি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি খামারটি পরিদর্শন করেছি, খুব সুন্দর একটি খামার। আমাদের পক্ষ থেকে খামারের সার্বিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি খামারের কর্মীদেরকেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অর্গানিক পদ্ধতিতে দেশীয় শংকরজাতের গরু-মহিষ লালনপালন লাভজনক। পাশাপাশি এগুলোর মাংসও মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে নিরাপদ ।

Facebook Comments Box

Posted ৩:০৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১১ জুলাই ২০২১

dainikbanglarnabokantha.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

দেনা
(924 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক

রুমাজ্জল হোসেন রুবেল

বাণিজ্যিক কার্যালয় :

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

design and development by : webnewsdesign.com

nilüfer escort coin master free spins