অনলাইন ডেস্ক
রবিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রিন্ট
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) আইন ২০১৮ সংশোধনের উদ্যোগকে ঘিরে আবারও বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গত সেপ্টেম্বর (২০২৫) ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে সর্বসাধারণের মতামত আহ্বান করে। সংশোধনের খসড়া পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়—প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) প্রাথমিকের বই ছাপানোর দায়িত্ব দিতে এনসিটিবির আইন কাঁটাছেড়ার তোড়জোড় চলছে।
বর্তমানে এনসিটিবি প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, এবতেদায়ি, কারিগরি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বই ছাপানোর কাজ করে আসছে। তবে বিগত সরকারের সময় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, প্রাথমিকের বই ছাপাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সে অনুযায়ী আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও গত বছরের ৫ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রস্তাবটি ফেরত আসে। এবার আবার নতুন করে এ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এ প্রচেষ্টা কি কোনো বিশেষ মহল বা সিন্ডিকেটকে লাভবান করার কৌশল?
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মূল কাজ হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন। অথচ বর্তমানে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো বাংলা-ইংরেজি পড়তে না পারা, গ্রামীণ স্কুলে শিক্ষার্থী সংকট এবং অভিভাবকদের সরকারি প্রাথমিকের বদলে কিন্ডারগার্টেন বা ইংলিশ মিডিয়ামে সন্তানদের পাঠানো—এসব গুরুতর সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে অধিদপ্তর এখন বই ছাপানোর দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরণের উদ্যোগ মূলত শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যুক্তি দিচ্ছেন—বই ছাপানোর জন্য বাজেট বরাদ্দ তাদের মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে এনসিটিবিকে পরিশোধ করতে হয়। তাই সরাসরি এ কাজ করলে অর্থ সাশ্রয় হবে। কিন্তু সমালোচকদের আশঙ্কা, বই ছাপানোর দায়িত্ব গেলে অধিদপ্তরে টেন্ডারবাজি ও প্রভাবশালী মহলের দাপট বাড়তে পারে। এতে বর্তমানে বিদ্যমান তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উদাহরণ টেনে অনেকেই বলছেন—তারা কখনও বই ছাপানোর দাবি তোলেনি। তবে যদি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বই ছাপানোর দায়িত্ব পায়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য অধিদপ্তরও একই দাবি তুলতে পারে। ফলে পাঠ্যবই প্রকাশনার কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনসিটিবির ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়বে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এনসিটিবির কাজে ঘাটতি থাকলে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন ও আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেয়া উচিত। প্রয়োজনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কারিকুলাম প্রণয়ন ও বই প্রকাশনায় যুক্ত করা যেতে পারে। কিন্তু আইন কাঁটাছেড়া করে দায়িত্ব পাল্টানো হলে সেটি উল্টো বুমেরাং হতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—শিক্ষার মান উন্নয়নের স্বার্থে নাকি বিশেষ কোনো মহলের স্বার্থে এনসিটিবি আইন কাঁটাছেড়া করা হচ্ছে ।
Posted ০২:০৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
dainikbanglarnabokantha.com | Fahim Farhan
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]