শান্ত বণিক, বিশেষ প্রতিনিধি
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ প্রিন্ট
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট বাস্তবায়নাধীন “মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম”-এর ষষ্ঠ পর্যায়ের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৬ শেষ হলেও সপ্তম পর্যায়ের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রশাসনিক আদেশ এখনো জারি হয়নি। এতে দেশের ৬৪ জেলার ৭,৪০০ কেন্দ্র শিক্ষক এবং ৩৩০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটির সপ্তম পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি)-তে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিধান রাখা হলেও পূর্ববর্তী পর্যায়গুলোর মতো অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনিক আদেশ এখনো দেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ হিসেবে পরিচালিত এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মন্দিরকে কেন্দ্র করে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্কদের নৈতিক, ধর্মীয় ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বৃদ্ধি, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা এবং নিরক্ষর বা স্বল্পশিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতা শিক্ষা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি মাদক, বাল্যবিবাহ, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক কুসংস্কারবিরোধী সচেতনতা তৈরিও এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলায় ৭,৪০০টি শিক্ষা কেন্দ্রে বাংলা, ইংরেজি, প্রাক-গণিত, হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা এবং জাতীয় দিবস ও নাগরিক সচেতনতা বিষয়ে পাঠদান করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে শিক্ষকরা সপ্তাহে পাঁচ দিন প্রতিদিন আড়াই ঘন্টা পাঠদান করেন এবং মাসিক ৫ হাজার টাকা সম্মানী পান।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, কেন্দ্র শিক্ষকদের ৮০ শতাংশের বেশি নারী হওয়ায় প্রকল্পটি নারীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ২০০২-০৩ অর্থবছরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে ২১ জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সরকারি অর্থায়নে এটি দেশের সব জেলায় সম্প্রসারিত হয়।
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক আদেশ জারির সিদ্ধান্ত হয়নি। এতে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকল্প কর্মকর্তা বলেন, এই প্রকল্পই ৩৩০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৭,৪০০ শিক্ষকের পরিবারের একমাত্র জীবিকার উৎস। ৩০ জুন ষষ্ঠ পর্যায় সফলভাবে শেষ হলেও ১ জুলাই থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় সবাই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম-এর অষ্টম পর্যায়ে ডিপিপি অনুমোদনের আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হয়েছিল। একইভাবে মন্দিরভিত্তিক প্রকল্পের চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ পর্যায়েও এমন আদেশ জারি করা হয়েছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক আদেশ জারি না হলে মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হাজারো শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
Posted ০৭:০৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Shanto Banik
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
| শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ||||
| ৪ | ৫ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | |
| ১১ | ১ | ১৩ | ৪ | ১৫ | ১৬ | ১ |
| ৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ |
| ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২ | ৯ | ৩০ | ৩১ |
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]