নবকণ্ঠ ডেস্ক
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ প্রিন্ট
দেশের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ‘অগ্রণী ব্যাংক’। একসময় যার সুনাম ছিল আকাশচুম্বী, সেই ব্যাংকটিই এখন অভ্যন্তরীণ কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও তাদের গড়া অশুভ সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ব্যাংকটির অডিট বিভাগের আড়ালে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও মেধাবী কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার ধ্বংসের এক মহোৎসব।
সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিযোগ, ব্যাংকটিতে যোগ্যতার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে নির্দিষ্ট একটি আঞ্চলিক সিন্ডিকেটের তোষণ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই অশুভ চক্রের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে ডিএমডি-৩ রুবানা পারভীন এবং ডিজিএম (অডিট) শামীম জোয়ার্দারের নাম। রুবানা পারভীন বর্তমানে ব্যাংকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিভাগ—এডমিন, আইটি ও অডিটের দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যাংকে আরও দুইজন অত্যন্ত যোগ্য ও সিনিয়র ডিএমডি থাকা সত্ত্বেও, রহস্যজনক কারণে রুবানা পারভীনকে এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অডিট বিভাগকে তারা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। নিজেদের পছন্দের অযোগ্য কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক শাখায় পদায়ন করা হচ্ছে, আর যারা এই সিন্ডিকেটের অন্যায় আবদার মানছেন না, তাদের অডিট আপত্তির জালে জড়িয়ে ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেওয়া হচ্ছে। হতাশাগ্রস্ত একজন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা জানান, “যাদের কাছে ন্যূনতম মানবিকতা বা ব্যাংকিং নীতিমালা নেই, তারাই এখন ব্যাংকের কর্ণধার। এই সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।”
অভিযোগ রয়েছে অডিটে একই ধরনের বিষয় যা কোনো শাখায় সাধারণ আপত্তি আবার অন্য শাখায় গুরুতর আপত্তি হিসেবে দাখিল করে মেধাবী ও পরিশ্রমী কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার নষ্ট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এই পুরো সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছে এক শক্তিশালী ‘খুলনা কানেকশন’। ব্যাংকের এমডি, ডিএমডি রুবানা পারভীন, জিএম ইখতিয়ার উদ্দিন এবং ডিজিএম শামীম জোয়ার্দারসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সবাই খুলনা ডিভিশনের বাসিন্দা। অভিযোগ উঠেছে, পুরো অগ্রণী ব্যাংক এখন এই খুলনা ডিভিশনের কর্মকর্তাদের কাছে জিম্মি। এমডি সাহেব অন্য যোগ্য ও গুণী জিএম-ডিএমডি থাকা সত্ত্বেও কেবল রুবানা পারভীন ও তার ঘনিষ্টজনদের সব ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিচ্ছেন। কেন তিনি অন্ধ হয়ে আছেন এবং পুরো ব্যাংককে আঞ্চলিকতার গণ্ডিতে আটকে ফেলছেন, তা নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে ব্যাপক কানাঘুষা চলছে।
নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন শাখার অনিয়ম সংক্রান্ত অডিট আপত্তি থাকলেও সেগুলোর সুষ্ঠু সমাধান না করে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি আড়ালে থেকে যাচ্ছে। যারা এই সিন্ডিকেটকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে, তাদের অডিট আপত্তি ফাইল থেকে অনায়াসেই মুছে ফেলা হচ্ছে বা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। অথচ, সাধারণ ও সৎ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলের জন্যও অডিট আপত্তির খড়গ নামিয়ে আনা হচ্ছে।
ব্যাংকের সম্পদ অকার্যকর বা খেলাপি করার পেছনেও এই অসাধু কর্মকর্তাদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পছন্দের লোকদের লোন দিয়ে তা খেলাপি হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে অডিট আপত্তির মুখে পড়লে অর্থের বিনিময়ে তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকের মুনাফা ক্রমাগত কমছে এবং শ্রেণিকৃত লোনের পাহাড় জমছে।
ব্যাংকটিকে এই অসাধু সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা না করলে অচিরেই এটি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের আর্থিক বিভাগের কাছে কর্মকর্তাদের একটাই দাবি—অবিলম্বে অডিট বিভাগের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এবং ব্যাংককে আঞ্চলিক কোন্দল ও স্বজনপ্রীতির হাত থেকে মুক্ত করা হোক।
তবে এসব বিষয়ে অভিযুক্তদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পেলে গুরুত্ব সহকারে পরবর্তী পর্বে প্রকাশ করা হবে।
(পর্ব-০২) চলবে…..
Posted ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Shanto Banik
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]