কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, শংকায় রয়েছে ভোটাররা ঝুঁকির মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
শনিবার, ১১ মে ২০২৪ প্রিন্ট
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা তাদের গণসংযোগ, পথসভা ও ভোটাদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা অব্যাহত রেখেছেন। অন্যদিকে ভোটাররা শংকায় রয়েছেন, একাধিক প্রার্থী দাবি করছেন উপজেলার আমবাড়ীয়া, কুর্শা, মালিহাদ ও সদরপুর এই ৪টি ইউনিয়ন রয়েছে ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে।
এবারের মিরপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে মোট ৯ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩জন এ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম (দোয়াত কলম), কামাল হোসেন (আনারস) এবং শরিফুল ইসলাম লিটন (মোটর সাইকেল) প্রতীকে, ৩ জন ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার (তালা), মাসুদুর রহমান মাসুদ (টিউবওয়েল), সোহাগ আহম্মেদ (উড়োজাহাজ) এবং শাকিলুর রহমান বিটু (টিয়া পাখি) ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ২ জন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন (হাঁস) এবং এ্যাডভোকেট মর্জিনা খাতুন (কলস) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।
এবারের ৬ষ্ট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে মিরপুর উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ২লাখ ৮০ হাজার ৩’শ ৫৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১লাখ ৪১’হাজার ৩’শ ৮৩ জন এবং মহিলা ভোটার ১লাখ ৩৮’হাজার ৯’শ ৭২ জন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরজমিনে গিয়ে জন প্রতিনিধি ও ভোটারদের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, ভোট উৎসব মুখর করতে হলে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ভোট দেয়ার পরিবেশ তৈরি না হলে সিংহভাগ ভোটার ভোট কেন্দ্রেই যাবেনা। ইতিমধ্যেই কতিপয় প্রার্থী জনমনে আতংক সৃষ্টি করে নানা ধরনের হুমকী-ধামকী দিচ্ছে।
এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্ণিং কর্মকর্তা বিবি করিমুন্নেছা’র সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা থাকবে, কোথাও কোন প্রকার আচরণ বিধি লংঘন হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামিলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম জানান, ভোটের মাঠের পরিবেশ ঠিকই আছে, তবে মিরপুর পৌরসভা ও ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন এ এলাকা দুটি ঝুঁকিপুর্ণ মনে করছি। অন্যদিকে অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়মিলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন’র সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থী আমার সাধারন ভোটারদের তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন হুমকী ও প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে এবং এমনও কথা বলা হচ্ছে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে কোন লাভ হবেনা। কিভাবে ভোট নিয়ে বিজয়ী হতে হয় তার ব্যবস্থা করা আছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভোট বিশ্লেষকের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে আইন-শৃংক্সখলা বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় বর্তমান সরকারের উৎসব মুখর ভোট গ্রহনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।