বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩ প্রিন্ট
গরমের তীব্রতা যেন আর কাটছেই না। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। নেই বাতাস, নেই বৃষ্টি, ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার বাতাস যেন লু-হাওয়া। ঘরের বাইরে বেরুলেই সূর্যের প্রখর তাপে ঘেমে নেয়ে একাকার। তীব্র খরতাপের কারণে হতদরিদ্র দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষের আয়-রোজগার ব্যাপকহারে কমে গেছে। দিনমান বাড়ছে কষ্ট-দুর্ভোগ। গরমে অসুস্থ হয়ছে পড়ছে শ্রমজীবী মানুষ, শিশু ও রোজদাররা। সূর্য দহনে প্রাণীকূলও শীতল পরশের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠছে। আগুনঝরা আবহাওয়ায় সাধারণ মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বৃষ্টির জন্য মানুষের মধ্যে যেনো হাহাকার পড়ে গেছে। কিন্তু সেই কাঙ্খিত বৃষ্টি মিলছে না।
কয়েকদিন ধরে আকাশে কোথাও কোথাও মেঘের দেখা মিললেও হচ্ছে না তেমন বৃষ্টি। প্রকৃতি যেন ছাড়ছে তপ্ত নিঃশ্বাস। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তির ছিটেফোঁটাও নেই। সূর্য দহনে পুড়ছে গোটা শহর। কাঠফাটা রোদে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দুপুরে জেলার পথ-ঘাট খাঁ খাঁ করছে। ওষ্ঠাগত গরমে মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরাও হাঁসফাঁস করছে। প্রচণ্ড গরমে সবার ত্রাহি অবস্থা। শহর-বন্দর কিংবা গ্রাম কোথাও স্বস্তি নেই। টানা কয়েকদিনের দাবদাহে জনজীবনে নেমে এসেছে সীমাহীন দুর্ভোগ।
অস্বস্তিকর গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে মানুষের জীবনযাত্রা। নাগেরবাজার এলাকার আব্দুল্লাহ নামে এক রিকশাচালক বলেন, প্রচণ্ড গরমে রিকশা চালাতি পারছি না। হাঁপায়ে উঠছি। পেট আছে বইলে বের অই। সূর্যডা যেন গলে গলে শরীরে পড়ছে। দেহেন কেমন ঘামাইয়ে গেছি। আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তি বলেন, প্রচণ্ড গরমে কাজ-কর্ম করা খুব কঠিন হয়ছে যাচ্ছে। গরমে রাতে ঠিকমতো ঘুমানোও যাচ্ছে না। তার মতো বেশ কয়েকজন শ্রমিকও বলেন, অনেকক্ষণ রোদে বা গরমে কাজ করতে বিশেষ করে মাঠে বা কারখানায় ও রাস্তায় ঘাটে কাজ করা যাচ্ছে না। সূর্যের তাপে চামড়া পুরে যাচ্ছে।
তারা বলেন, কয়েকদিন বৃষ্টি না হওয়ায় প্রচণ্ড খরতাপে ঘর থেকে বের হতে হিমশিম খাচ্ছে শ্রমিক দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া সব শ্রেণির মানুষ। সামান্য স্বস্তির ও একটু শীতল পরিবেশের জন্য কাজের ফাঁকে তারা ছুটছে গাছের ছায়াতলে। রেলরোডের আলমগীর হোসেন বলেন, এ বছর গ্রীষ্মের শেষ সময়েও প্রচণ্ড তাপদাহ। এর কারণে তীব্র গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে চাহিদা বেড়ছে ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ও ফ্রিজের। তবে এসির যে পরিমাণ চাহিদা তা আমরা দিতে পারছি না। বিশেষ করে দেড় টন এসির চাহিদা বেশি। জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, তীব্র গরমে কাবু হচ্ছে শিশুরা। ডায়রিয়া, ভাইরাস জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা। হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় কর্তব্যরতদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
Posted ০১:৪০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]