বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোয় ৬শ’ হেক্টর বোরো ফসলের আবাদ ব্যাহত

মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩   প্রিন্ট  

বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোয় ৬শ’ হেক্টর বোরো ফসলের আবাদ ব্যাহত

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি প্রবাহমান খালে বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে একটি প্রভাবশালী মহল। শত শত কৃষকের এখন ৬শ’ হেক্টর বোরো ধানের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সোমবার ওই মাঠে বাঁধটি অপসারনের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ছোট কুমারখালী গ্রামজুড়ে চিংড়াখালী বলেশ্বর নদীর প্রবাহমান তালতলা খালের প্রশাখা কুমারখালী খাল। এ খালটির একদিকে পলিপড়ে ভরাট হয়ে গেছে। অন্যদিকে গত দুই সপ্তাহের পূর্বে ওই গ্রামের মিন্টু হাওলাদার ব্যক্তিসার্থে খালে বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে রেখেছেন। যে কারনে কুমারখালী, বৌলপুর, কিছমত বৌলপুর এ ৩টি মৌজায় বোরো ধানের প্রায় ১ হাজার বিঘার বড় ফসলের মাঠে পানি প্রবেশে বাঁধা হওয়ায় পুরো মাঠ ফেটে এখন চৌচির হয়ে পড়েছে। এতে ৩ গ্রামের ৮ শতাধিক কৃষক এখন তাদের জমিতে পানি তুলতে না পারায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বোরো ধানের বীজতলা মরে যাওয়ার সম্ভাবনায় আতংকে রয়েছে তারা। মাঠের মধ্যে বিভিন্নস্থানে বোরো বীজ হলুদ রং ধারন করে শুকিয়ে যাচ্ছে বীজতলা। হাজার হাজার টাকা ব্যায় করে কৃষক তাদের বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারবে কিনা এ নিয়ে শংশয় রয়েছেন তারা।

ওই ফসলী মাঠের জমির মালিক আব্দুর রহিম ফকির, নোমান খন্দকার, শহিদ ফকির, বাবু হাওলাদার, মারুফ শিকদার, ছালাম ফকির, সাইদ ফকির, শহিদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান সহ একাধিক কৃষকরা বলেন, বছরে শুধুমাত্র বোরো ধানের ফসল ফলায় তারা। যা থেকে চাহিদা মিটিয়ে ৫০ থেকে ৫৫ মন ধান বাজারে ধান বিক্রি করে পুরো বছর পরিবারের সংসার চলে তাদের। কৃষকের বিঘাপ্রতি জমিতে খরচ হয়েছে ২০/২৫ হাজার টাকা। এখন বাঁধের কারনে প্রথম গোনে মাঠে পানি তুলতে পারেনি। এ গোনেও যদি পানি তুলতে না পারে তাহলে আর ফসল হবে না। রেকর্ডীয় খাল কিভাবে বাঁধ দিয়ে এ ভোগান্তি করেছে আমাদের। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অবহিত করেও কোন সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে মিন্টু হাওলাদার বলেন, ৪ বছর ধরে আমার জমি থেকে পানি তুলেছে। রেকর্ডীয় খালটি উত্তর পাসে। এ বছর আর পানি তুলতে দিবো না।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আকাশ বৈরাগী জানান, বোরো মৌসুমে কৃষক মাঠে পানি দিতে না পারলে বীজতলা সম্পূন্ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফসল হবে না। ওই গ্রামের বিষয়টি তিনি অবহিত নন। তবে, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পাঠানো হবে। বৃদ্ধমান সমস্যার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

Posted ০৯:৩৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

dainikbanglarnabokantha.com |

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
সম্পাদক : রুমাজ্জল হোসেন রুবেল
বাণিজ্যিক কার্যালয়

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮

ই-মেইল: [email protected]