শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এডাস্টে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে গণমুখী ও অবৈতনিক করার লক্ষ্যে শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করতে চেয়েছিলেন: পলক

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২২   প্রিন্ট  

বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে গণমুখী ও অবৈতনিক করার লক্ষ্যে শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করতে চেয়েছিলেন: পলক

২৪ নভেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ঢাকা: অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব
সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি এর স্থায়ী ক্যাম্পাসে নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে
নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও
যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কেক ও ফিতা কেটে রোবোটিক্স, মেকাট্রনিক্স এন্ড অটোমেশন
ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শুভ উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

শিক্ষার্থীদের আইসিটি ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন ও দক্ষ মানুষ হওয়ার আহবান
জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে
বর্তমান সরকার ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডিজিটাল সেন্টারের
মাধ্যমে স্মার্ট উদ্যোক্তা তৈরির কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত
রাখতে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আমি বিশ্বাস
করি আগামীতে তথ্য-প্রযুক্তি, ক্রিয়েটিভিটি, ক্রিটিক্যাল থিংকিং, প্রবলেম
সলভিং, কমিউনিকেশন স্কিল এমনকি নতুন নতুন রোবট তৈরিতে সহায়তা করবে অতীশ
দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি যুদ্ধ
বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করার জন্য শিক্ষাকে সবচেয়ে
শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন যে বঙ্গবন্ধু পবিত্র
সংবিধানে ৭২ এর চৌঠা নভেম্বর অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং
চিকিৎসা- এই পাঁচটি মৌলিক অধিকারকে সংরক্ষিত করে রেখে গেছেন। বঙ্গবন্ধু
আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে তার দূরদর্শিতা দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন যে একটি
রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি নাগরিককে যদি পাঁচটা মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা যায়
তবে সেই রাষ্ট্র একটি আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। ৫০ বছর পর জাতিসংঘ
এসডিজি লক্ষ্য যারা নির্বাচন করেছেন তারা বঙ্গবন্ধুর সেই কোর ফিলোসোফিকে
অনুসরণ করেন এবং বর্তমানে বিশ্বের ২০০ রাষ্ট্র যে উদ্দেশ্য অর্জন নিয়ে
কাজ করছে, বঙ্গবন্ধু ৫০ বছর আগেই পবিত্র সংবিধানে সেই দর্শন রেখে গেছেন।
পলক আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে গণমুখী এবং অবৈতনিক করার পাশাপাশি
বিজ্ঞানমনস্ক ও সোনার বাংলা গড়ার হাতিয়ার এবং সোনার মানুষ গড়ে তোলার জন্য
একটি শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করতে চেয়েছিলেন। তিনি সেই শিক্ষা নীতি প্রণয়নের
দায়িত্ব দিয়েছিলেন একজন বিজ্ঞানী ডঃ কুদরাত-এ-খুদা কে, যেন বাংলাদেশের
প্রতিটি সোনার সন্তানেরা বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষ হয় এবং
তারা যেনো সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী তথ্য ও প্রযুক্তি গত উন্নয়নের একটি চিত্র তুলে ধরেন। তিনি
উদ্যোক্তাদের জন্য আইসিটি বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা
সম্পর্কে ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী পলক তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ বর্তমান
বিশ্বে সকল ক্ষেত্রে মানব সম্পদের চাহিদার বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন আমাদের
গার্মেন্টস্ সেক্টরে আগামীতে প্রচুর পরিমাণে রোবট প্রয়োজন হবে।
তথ্য-প্রযুক্তিতে ভবিষ্যতে প্রচুর সুযোগ তৈরি হবে।

পলক বলেছেন অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়কে আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে
প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন ১০৭ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫টি
বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ীভাবে অনুমোদন পেয়েছে। যার মধ্যে অতীশ দীপঙ্কর হচ্ছে
সে গর্বিত একটি প্রতিষ্ঠান।

সবশেষে, আমাদের অর্জিত শিক্ষাকে পৃথিবীতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে
শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে হবে বলে তিনি তরুণদের পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি
অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান লিয়াকত
সিকদার, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.
মো. হাবিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বেসরকারি
বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক মো. ওমর ফারুখ।

উন্নত বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে
অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন এডাস্ট চেয়ারম্যান লিয়াকত
সিকদার। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে তার সাথে খাপ খাইয়ে
নিতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান
তিনি।

ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে একটি সঠিক ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেছে
নেওয়া দরকার। আশা করি এই বিশ্ববিদ্যালয় তোমাদের নৈতিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক
জনশক্তি গঠনে উচ্চ শিক্ষা প্রদান করবে বলে মন্তব্য করেন ডুয়েট উপাচার্য
অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান।

শুধু দক্ষ প্রকৌশলী বা গ্রাজুয়েট নয় পাশাপাশি মানবিক গুনাবলীতে গুণান্বিত
হয়ে দেশ মাতৃকার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান এডাস্ট
উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে নাচ, গান, আবৃত্তি, অভিনয়, নাটক ও কৌতুকসহ
মনোজ্ঞ পরিবেশনা তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের
শিক্ষার্থীরা। উৎসবমূখর এই অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর
ইউনিভার্সিটির বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা
নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, এডভাইজর, এইএমসি এডভাইজর, বিভাগীয়
প্রধান, কো-অডির্নেটের, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী, অবিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের
পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে পুরো ক্যাম্পাস।

Facebook Comments Box

Posted ০৯:০০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২২

dainikbanglarnabokantha.com |

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
সম্পাদক : রুমাজ্জল হোসেন রুবেল
বাণিজ্যিক কার্যালয়

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮

ই-মেইল: [email protected]