মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ার মিরপুরের তালবাড়ীয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে সাইফুল গংদের লাখ লাখ টাকার চাঁদা আদায়

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪   প্রিন্ট  

কুষ্টিয়ার মিরপুরের তালবাড়ীয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে সাইফুল গংদের লাখ লাখ টাকার চাঁদা আদায়

কুষ্টিয়ার মিরপুরের তালবাড়ীয়ায় অবৈধভাবে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে সাইফুল গংরা লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করছে বলে একটি অসমর্থিত সুত্র জানিয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বিগত সরকারের পতনের পরই তালবাড়ীয়ার মখফর কবিরাজের ছেলে সাইফুল কবিরাজ, মুসা মন্ডল, আরজু বিশ্বাস, ফারুক প্রামাণিক, মিন্টু বিশ্বাস ও মতিয়ার মেম্বররা একটা গ্রুপ তৈরি করে ঘাটের কয়েক কোটি টাকার বালু বিক্রি করে দেয়। ৫ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে পুঁজি করে তারা বালুর ঘাটের দখল নেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এসব অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসায় ৪ নভেম্বর রাতে বালু খেকো সাইফুল ও তার ভাইকে সেনাবাহিনী আটক করে নিয়ে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। অন্যদিকে, গত ৫ নভেম্বর মিরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) মেসকাতুল ইসলাম তালবাড়ীয়া ধুলটমহালে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ এর অধীনে মোবাইল কোর্টের অভিযানে সাইফুল বাহিনীর অন্যতম দুই হোতাকে ১লক্ষ করে মোট ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করে। এরা হলো-নওদা তালবাড়ীয়া গ্রামের রুহুল আমিন এর ছেলে জিকো খান এবং রানাখড়িয়া গ্রামের মৃত গোলজার হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম।

এবছরের বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে তালবাড়ীয়া, বহলবাড়ীয়া ও বারুইপাড়া ইউনিয়নের (আংশিক) প্রায় ৪/৫ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ী সহ আবাদী মাঠ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। যার ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকার লোকজন ব্যাপক তৎপর হওয়ার পরও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কুখ্যাত সাইফুল গংরা হীনস্বার্থ চরিতার্থের জন্য টাকার নেশায় পাগল হয়ে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে। তাদের এই অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে এলাকাছাড়া অথবা শাররীক লাঞ্চনার শিকার হতে হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যখন বালু ভর্তি কার্গোগুলো নদীর কূলে এসে ভীড়ে তখন ব্যাপক ঢেউয়ে নদী ভাঙ্গনের মাত্রা বেড়ে যায়। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হওয়ার ফলে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের বসত বাড়ী, আবাদী জমি ও পরিবেশ হুমকীতে। এসব ব্যাপারে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিবি করিমুন্নেছা’র সাথে মুঠো ফোনে আলাপ হলে তিনি জানান, বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞাত আছি যার কারণে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। তবে সেটি আর কঠোরভাবে নেয়া হবে।

 

Facebook Comments Box

Posted ০১:১৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪

dainikbanglarnabokantha.com |

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
সম্পাদক : রুমাজ্জল হোসেন রুবেল
বাণিজ্যিক কার্যালয়

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮

ই-মেইল: [email protected]