মোঃ আলতাফ হোসেন বাবু, বিভাগীয় চিফ রাজশাহী
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ প্রিন্ট
রাজশাহী পুলিশ লাইনস এর পিওএম কনফারেন্স হলে “বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৭ বাস্তবায়ন” এর অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ধারাবাহিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর এই কর্মশালায় রাজশাহী বিভাগ/রেঞ্জের ৮৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ একত্রিত হন।
কর্মশালায় আতিয়া হুসনা, অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (অর্থ), পুলিশ সদর দপ্তর সকল সম্মানিত অতিথিকে তাদের মূল্যবান সময়ের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন “বাংলাদেশ পুলিশ একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৮,০০০ নারী পুলিশ সদস্য কর্মরত।
এ সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সক্ষমতা ও নেতৃত্ব উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিপিডব্লিউএন শুরু থেকেই এ যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজকের কর্মশালা তারই ধারাবাহিকতা।” বিপিডব্লিউএন প্রতিনিধিবৃন্দ বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনার মূল ক্ষেত্রগুলো, কর্ম-জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার উপায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তি-সহায়তায় জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবেলার উপায় নিয়ে আলোচনা করার জন্য বেশ কয়েকটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন পরিচালনা করেন।
ইউএন উইমেন প্রতিনিধি কর্মশালায় জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি কার্যক্রম এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
১৪ ই জুন ২০২৬ ইং তারিখ উক্ত অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি, উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), রাজশাহী রেঞ্জ, বাংলাদেশ পুলিশ, পুলিশ কর্মশালার উদ্বোধন করেন এবং তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “নারী কর্মকর্তাদের তাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে। পেশার প্রতি আন্তরিক দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকারবোধ ছাড়া প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা অর্জন সম্ভব নয়।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানকেও তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।” ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর প্রতিনিধি জনাব লায়লা জাসমিন বানু উপস্থিত অতিথিদের ও বিপিডব্লিউএন এর কর্মকর্তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম। সমষ্টিগত প্রচেষ্টায় এই বিপিডব্লিউএন এর কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৭ বাস্তবায়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রথম কৌশলগত পরিকল্পনায় আপনাদের অর্জনই তার প্রমাণ। “ ইউএন উইমেন এবং বিপিডব্লিউএন নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করে আসছে, যার মধ্যে বাংলাদেশে নারী ও মেয়েদের জন্য জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং এবং ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) সেবা শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত।
অংশগ্রহণকারীরা মুক্ত আলোচনা চলাকালীন যৌন হয়রানির অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, বিদ্যমান যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিগুলো পুনরুজ্জীবিতকরণের উপর গুরুত্ব দেয়া সহ বাহিনীর সকল সদস্য এ সম্পর্কে জানানোর কথা বলেন। এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা প্রযুক্তি-নির্ভর সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধির সুপারিশ করেন। উল্লেখ্য যে, ইউএন উইমেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিপিডব্লিউএন-এর সঙ্গে কাজ করছে। বর্তমানে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইউএন উইমেনের বাংলাদেশে চলমান “এন্ডিং সেক্সুয়াল অ্যান্ড জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্স ইন পাবলিক স্পেসেস, ওয়ার্কপ্লেসেস অ্যান্ড ইন টারশিয়ারি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস ইন বাংলাদেশ (ESGBV)” প্রকল্পে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিপিডব্লিউএন অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে যুক্ত। তথ্য সুত্রে জানা যায় যে, আরএমপি পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনার মোঃ ফয়েজুল কবির উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
Posted ০৫:১২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]