টি এম এ হাসান, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০২৩ প্রিন্ট
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী বাজারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নয়নঝুলি খালের বহুলী বাজার অংশের সর্বশেষ অংশটুকুও অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। খালের পিছনে একটু জায়গা কিনে সরকারি নয়নঝুলি খালের বাজারের সর্বশেষ অংশটুকুও অবৈধভাবে দখলে নিয়ে মাটি ভরাট করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছেন পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করা বহুলীর স্থানীয় প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন ও সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র নার্স রেবেকা সুলতানা। স্থানীয় ভূমি অফিস একাধিকবার বাধা দিলেও এর তোয়াক্কা করেননি তারা। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে।
বৃহস্পতিবার (৪ মে) দুপুরের দিকে সরেজমিনে বহুলী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বহুলী বাজার থেকে রায়গঞ্জের আঞ্চলিক সড়কের ডান পাশে বাজারের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নয়নঝুলি খালে চলছে মাটি ভরাটের কাজ। ট্রাকযোগে বালু মাটি এনে সেগুলো দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে খালটি। শুধু তাই নয়, আটকে যাচ্ছে পাশেই থাকা সেতুর সংযোগও। বিষয়টি অসহায়ের মতো তাকিয়ে দেখছেন স্থানীয়রা। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই দখল ও মাটি ভরাটের কাজ করছেন সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রেবেকা সুলতানা। তবে তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় নিরুপায় সবাই।
ভরাটকৃত জায়গার সামনের হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল মোমিন বলেন, যারা জায়গা কিনেছে তারাও এখানকার স্থানীয়। আমাদের কি বলার আছে বলেন। বিষয়টি স্থানীয় ভূমি অফিসের দেখার কথা। তারপরও জায়গাটি ভরাট হয়ে গেলে রাস্তায় পানি জমবে, জনগণের ভোগান্তি হবে।
বহুলী গ্রামের ফরজ আলী নামের ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধ বলেন, আগে নয়ন ঝুলি খাল দিয়ে নৌকা চলছে। ১৫ বছর আগেও এখান দিয়ে বিলের সব বৃষ্টির পানি নেমে গেছে। আর এখন এই নয়নঝুলি খাল অবৈধ দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই বিলে পানি জমে সব ধান তলিয়ে যায়। সর্বশেষ বাজারের এই অংশটুকুও দখল হয়ে গেল। এখন বৃষ্টি হলে বাজারের পানিটুকুও গড়ার জায়গা থাকবেনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জায়গার ভরাটকারী মো. রুহুল আমিন বলেন, আমি পিছনে জায়গা কিনেছি। পিছনের জায়গায় যেতে আমাকে তো সামনে ভরাট করতেই হবে। তবে সামনে দখল করছিনা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আপনি সামনের পুরো অংশ সহ ভরাট করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি পিছনের জায়গার মালিক হিসেবে সামনের অংশে অস্থায়ী কোনও স্থাপনা করতেই পারি। তাহলে স্থানীয় ভূমি অফিস কেন নিষেধ করেছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি।
এ ব্যাপারে বহুলি ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নাজমা খাতুন বলেন, আমি তাদেরকে একাধিকবার মাটি ফেলতে নিষেধ করেছি। ভেবেছিলাম তারা শুনবে। আমি এখনই আবার লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিচ্ছি। কিন্তু আপনি কেন আপনার উর্ধতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি জানাননি এমন প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দেননি এই কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে বহুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন শেখ বলেন, বাজারের নয়নঝুলি খালের সর্বশেষ অংশ এটি। এটা বন্ধ হয়ে গেলে বহুলি হাট ও বাজারের পানি নিষ্কাশনে আর কোনও পথ থাকবেনা। তারা যা করছে তা অন্যায় করছে। আমি স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাকে এটা বন্ধ করার ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম রকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি আপনার নিকট থেকেই জানলাম। আমি এখনই খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ঢাকা আমি এখনই বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি
Posted ১১:২৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০২৩
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]