মোঃ আব্দুল আজিজ
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ প্রিন্ট
কুড়িগ্রামের বিচ্ছিন্ন ও সীমান্তবর্তী উপজেলা রৌমারী ও রাজিবপুরে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শনে নদীপথে সফর করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কুড়িগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী।
দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম জেলা সদর থেকে রৌমারী ও রাজিবপুরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নদীপথ। সড়ক যোগাযোগের সরাসরি সুবিধা না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে স্পিডবোট বা নৌযানে করেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন করা অনেক সময়ই চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।
সফর শুরুর সময় স্পিডবোটে নদী পাড়ি দেওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে নির্বাহী প্রকৌশলী লিখেন, “মনে হচ্ছে আটলান্টিক পাড়ি দিচ্ছি। দোয়া করবেন। গন্তব্য রৌমারী-রাজিবপুর।” তাঁর এই মন্তব্য সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছাতে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাপথের বাস্তব চিত্রই তুলে ধরে।
জানা গেছে, সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে সফরকালে তিনি রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার এলজিইডির চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক, সেতু, কালভার্ট এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের মান, কাজের গতি এবং স্থানীয় জনগণের সুবিধা-অসুবিধাও পর্যবেক্ষণ করবেন।
সফর প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “সরকার আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি সেই দায়িত্ব নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করে আসছি। উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করছি। জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরাঞ্চল ও সীমান্তঘেঁষা এই দুই উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদীর স্রোত, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করেই সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করতে হয়। ফলে এ ধরনের সফর শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই নয়, অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণও হয়ে ওঠে।
এলজিইডি সূত্র জানায়, রৌমারী ও রাজিবপুরে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, যোগাযোগ অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং জনদুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করা হচ্ছে।
নদীবেষ্টিত দুর্গম জনপদে সরকারি কর্মকর্তার এমন সরেজমিন উপস্থিতি স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
Posted ০১:১৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]