শান্ত বণিক, বিশেষ প্রতিনিধি
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ প্রিন্ট
জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ উপকরণের অভাবে নরসিংদী সদর উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার (ইউপিইটিসি) দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান না হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটি বর্তমানে ভেলানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে অবস্থিত একটি ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। একই প্রাঙ্গণে বিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকায় অনেকেই এটিকে বিদ্যালয়ের অংশ মনে করেন। ফলে সাধারণ মানুষ সহজে এটি একটি সরকারি দপ্তর হিসেবে শনাক্ত করতে পারেন না। সংশ্লিষ্টদের মতে, উপজেলা কমপ্লেক্সে দপ্তরটি স্থানান্তর করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে রয়েছেন ইন্সট্রাক্টর ফেরদৌসী বেগম। তিনি এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর রিতা বেগম—এই দুইজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়েই পুরো অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সহকারী ইন্সট্রাক্টর পদটি শূন্য রয়েছে। এছাড়া নৈশ প্রহরী ইকবাল হোসেন ২০১৮ সালে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে ওই পদটিও কার্যত শূন্য রয়েছে।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোরও ঘাটতি রয়েছে। প্রশিক্ষণ কক্ষের সংস্কার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা, আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, কম্পিউটার এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ ডিসি ফিডারে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া অফিস কক্ষের সংকটও রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারের জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানে মাত্র একটি বাথরুম রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ ও সুপেয় পানিরও কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রটিতে শুধুমাত্র চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর সাব-কম্পোনেন্টের আওতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের (SEND) শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিষয়ক “একীভূতকরণের কৌশল: শিখন-শেখানো এবং মূল্যায়ন” শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইন্সট্রাক্টর ফেরদৌসী বেগম বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ করতে ইউপিইটিসিগুলোর বিদ্যমান সমস্যার দ্রুত সমাধান সময়ের দাবি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের জনবলের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিদাওয়াও সরকারের বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
সংশ্লিষ্টরা দ্রুত শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, উপজেলা কমপ্লেক্সে দপ্তর স্থানান্তর, প্রশিক্ষণ কক্ষ আধুনিকায়ন, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Posted ০৩:১৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Shanto Banik
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]