মোঃ আলতাফ হোসেন বাবু, বিভাগীয় চিফ রাজশাহী
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ প্রিন্ট
রাজশাহী মহানগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সভাকক্ষে অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি, কার-মাইক্রো, হিউম্যান হলার, মিশুক ও লেগুনা মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি)পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
গত ১০/৬/২০২৬ ইং তারিখ রোজ মঙ্গলবার সভায় মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা অধিযাচনকৃত যানবাহনের চালকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় কমিশনার মহোদয়ের দৃষ্টিগোচর করেন। এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, পুলিশ নির্ধারিত নীতিমালা ও বিধিবিধানের আওতায় পরিচালিত হয়; ফলে সব বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তবে উত্থাপিত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং যৌক্তিক সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।
এছাড়াও তিনি মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, যত্রতত্র যানবাহনের স্ট্যান্ড স্থাপন করে সড়কে যানজট সৃষ্টি করা যাবে না। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এমন কার্যক্রম পরিহার করে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, রোগী ও তাদের স্বজনদের যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখোমুখি হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকতে হবে।
তথ্যসূত্রে জানা যায়,সভায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় দুটি সেবাকাউন্টার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। প্রস্তাবিত কাউন্টার দুটির একটিতে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির প্রতিনিধি এবং অপরটিতে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ কমিশনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রোগী ও তাদের স্বজনরা নির্ধারিত ভাড়ায়, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে সহজেই অ্যাম্বুলেন্স সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
গোরহাঙ্গা রেলগেট মহানগরীর অন্যতম যানজটপ্রবণ এলাকা উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, এ এলাকার যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে সিএনজি স্ট্যান্ড পরিচালনাকারী প্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি সিএনজি মালিক পক্ষকে নির্ধারিত পোশাকধারী স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিধি নিয়োগের আহ্বান জানান, যারা ট্রাফিক পুলিশের সহায়ক হিসেবে কাজ করবেন। এতে সিএনজি চলাচল সুশৃঙ্খল হওয়ার পাশাপাশি যানজট নিরসন ও সার্বিক যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা জনস্বার্থে গৃহীত এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স); অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম চলতি দায়িত্বে); উপ-পুলিশ কমিশনার (ফোর্স); উপ পুলিশ কমিশনার সিটিএসবি, আরএমপি’র মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ও সিটিটিসি)সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
Posted ০৩:২৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]