রবিবার ২৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানী ডেমরায় সিটি টোলের নামে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি

বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০২৩   প্রিন্ট  

রাজধানী ডেমরায় সিটি টোলের নামে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি

রাজধানী ঢাকার প্রবেশমুখে ডেমরা-রামপুরা-বনশ্রী ও সুলতানা কামাল সেতু হয়ে রুপগঞ্জ অন্যদিকে কোনাপাড়া-ডেমরা-যাত্রাবাড়ী প্রধান সড়কে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এমন সিটি টোলের নামে চাঁদাবাজদের বিশৃঙ্খলা।

এই দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন টোলের নামে চাঁদাবাজি হচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় ও স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগ দায়িত্বরত পুলিশের মদদে নীল/হলুদ রংয়ের রশিদ দিয়ে সিটি টোলের চাঁদা তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জড়িত ব্যক্তিদের দাবি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্রপোরেশন থেকে বছর ব্যাপী ইজারাভিত্তিক টোল আদায়ের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে বাস্তবে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা সিটি কর্রপোরেশনের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে নির্দিষ্ট অর্থের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি জোঁড়পূর্বক চাঁদা আদায় করছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী হতে ডেমরা-রামপুরা-বনশ্রী সড়ক ও ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় স্হানীয় রাসেল সিএনজি পাম্প ও হাজী হোসেন প্লাজা মার্কেট সংলগ্ন রাস্তায় দুই-তিনটি দলে ভাগ হয়ে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সিটি টোলের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন চাঁদাবাজরা।

যাত্রীবাহী লেগুনা, সিএনজি, অটোরিকশা, বাস, মালবাহী ট্রাক, অবৈধ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন থেকেই আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। অভিযোগ রয়েছে,প্রতিদিন সকাল সন্ধা হতে গভীর রাত পর্যন্ত সিটি টোলের দৈনিক চাঁদার তোলার পাশাপাশি মাসিক হিসেবেও চাঁদা আদায় করচ্ছে সিটি টেলের চাঁদাবাজরা।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন টোল প্রদানকারী পণ্যবাহী লরির চালক মিনহাজুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন পণ্য নিয়ে রাতের বেলা স্টাফ কোয়ার্টার দিয়ে ডেমরা-রামপুরা-রূপগঞ্জ সড়কে ঢুকলেই গাড়ি প্রতি ২০০ থেকে ৮০০ টাকা জোঁর করে রেখে দেয় চাঁদাবাজেরা,এদিকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তখন চাঁদাবাজরা আমাদের গাড়িতে হামলা করে গ্লাস ভেঙে দেয় গাড়ির পণ্য ছিঁনিয়ে নেয় এবং আমাদের মারধর করে।

বিশেষ করে বড় বড় কাঠের লরি বা ট্রাক পিকআপ এলেই টাকা দিতে হয়। এতে করে সড়কে সাধারণ জনগণের চলাচলের বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে বসে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের।

এভাবে চাঁদা নেওয়া যায় কি না, তা জানতে ডেমরায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি টোলের সাব ইজারাদার শরিফ আহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক বাংলার নবকন্ঠকে বলেন, ‘তিন চাকা সাদৃশ্য যেকোনো যানবাহন থেকে ১০ টাকা সিটি টোল আদায় করার অনুমতি রয়েছে। একই সঙ্গে ছোট সব প্রকার যানবাহন ও যাত্রীবাহী বাস কিংবা মালবাহী ট্রাক থেকে ৩০ টাকা টোল আদায়ের অনুমতি রয়েছে বলেই জানি।

প্রকাশ্যে দেখা যায়, ছোট পিকআপ থেকে ৩০ টাকা, যাত্রীবাহী বাস থেকে ৬০ টাকা, বড় গাড়ি থেকে ৬০ টাকা, সিএনজি থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রাতে ও দিনে বড় পণ্যবাহী ট্রাক-লরি ও যানবাহন থেকে ২০০ থেকে ৮০০ পর্যন্ত টাকা নেওয়া হয়। এই টাকার একটা অংশ স্হানীয় থানা-ট্রফিক পুলিশ পায় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্টাফ কোয়ার্টার সিএনজি স্ট্যান্ড থেকেও ২০০ টাকা করে দিতে হয় থানা-পুলিশকে। ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিতে হয় আলাদা করে। তা ছাড়া, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা যাত্রীবাহী বাস থেকে দৈনিক ১২০-১৫০ টাকা চাঁদা তুলে পুলিশকে ম্যানেজ করেন। ডেমরা টু চনপাড়া চলাচলকারী সিএনজি থেকে ৫০ টাকা ও নন্দীপাড়া টু স্টাফ কোয়ার্টার চলাচলকারী সিএনজি থেকে ৫০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। আর ইজিবাইক নামানো বাবদ ৫ থেকে ১০ হাজার রুট ভেদে দিতে হয় প্রভাবশালীদের। আর প্রতি মাসে থানার জন্য প্রতিটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, অটোরিকশা ও মিশুক বাবদ ৫০০ টাকা করে দিতে হয়।

এমনকি এক রুটের গাড়ি অন্য রুটে ঢুকলেই দিতে হয় বাড়তি চাঁদা। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে লাইনম্যানরা ২০ থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা তুলে থাকেন।

ডেমরায় সারুলিয়ায় আন্তজেলা ট্রাক ইউনিয়ন অফিসের নামে দূর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক-লরি থেকেও চাঁদাবাজি করছে, স্থানীয় ডেমরা বাস চালক জুয়েল বলেন, ‘চাঁদার কারণে আমরা ভাড়াও বেশি নিই। দিন শেষে আমাদের আয়ও কমে যায়।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্রপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালাহ্ উদ্দিন আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এভাবে চাঁদা আদায়ের ফলে রাস্তায় যানজট বাড়ে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি দুঃখজনক। তারা আমাদের কথা শোনে না।

ডেমরা ট্রাফিক জোনের টিআই মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, সিটি টোল এবং অন্যান্য যানবাহন থেকে ট্রাফিক পুলিশকে টাকা দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা। গভীর রাতে ট্রাফিক ডিউটি না থাকার সুযোগ নিয়ে চাঁদাবাজরা এসব করছে।

ওয়ারী জোনের পুলিশের ডিসি মোঃ জিয়াউল আহসান তালুকদার বলেন, প্রায়ই আমরা চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করছি ও সংশ্লিষ্ট থানা মামলা রুজু হলে তখন আমরা আদালতে পাঠাই। আমি স্থানীয় সকল সংশ্লিষ্ট থানা অফিসার ইনচার্জদের নির্দেশনা দিয়েছি চাঁদাবাজ যে হোক তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য অস্পষ্ট সকল থানার অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া আছে।

Facebook Comments Box

Posted ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০২৩

dainikbanglarnabokantha.com |

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
সম্পাদক : রুমাজ্জল হোসেন রুবেল
বাণিজ্যিক কার্যালয়

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮

ই-মেইল: [email protected]