বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় বিবর্তনঃ ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্র: অধ্যক্ষ ড. মোঃ এনায়েত হোসেন 

সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫   প্রিন্ট  

Default Image

পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে বিবর্তন একটি গতিশীল প্রকিয়া। শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আবর্তিত হয়।  এ দেশে কখন কিভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রচলন হয় তা ব্যাপক গবেষণার দাবি রাখে। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যক্তি পর্যায়ে সামাজিকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।কালক্রমে এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় বিবর্তন লক্ষ্য কা যায়। ভারত বর্ষে মুসলিম শাসন প্রবর্তনের ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে  বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়। সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছিল ইসলামী শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য। মুসলিম শাসনামলে  তিন কেন্দ্র যথাঃ মক্তবও মাদ্রাসা, মসজিদ ও মঠ এবং ব্যক্তিগত বাড়ি থেকে শিক্ষাকে ছড়িয়ে দেয়া হতো। হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষা পরিচালিত হতো মন্দির ও মঠ কেন্দ্রিক।  স্থানীয় শিক্ষানুরাগী,সমাজ সেবী,দানবীর বিত্তশালীদের অর্থ সহায়তায়  এ সব শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। মুসলমানদের শিক্ষা মসজিদ সংলগ্ন মক্তবে মৌলবি সাহেবদের দ্বারা পরিচালিত হতো। কোন কোন ধনী ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজেদের বাড়ির বৈঠক খানায় তাদের নিযুক্ত মৌলবি সাহেবদের দ্বারাও প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষা প্রদান করতেন।

এডাম্স রিপোর্টে জানা যায়,হিন্দুদের জন্য ছিল পাঠশালা ও মুসলমানদের জন্য মক্তব। হিন্দুদের উচ্চ শিক্ষার জন্য টোল স্কুল ছিল। [উইলিয়াম এডাম্স রিপোর্ট]। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দের উড্স এডুকেশন ডেসপাস থেকে জানা যায়, ইংরেজ সরকার তাদের প্রয়োজনে এ দেশবাসীকে শিক্ষা দান করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে অনুভব করে। এর ফলে তাদের  সরকারি কাজের জন্য উপযুক্ত লোকের অভাব পুরণ হবে।  এ লক্ষ্যে তারা বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকে উৎসাহিত করার জন্য অর্থ সাহায্য দেবার প্রস্তাব করে। ১৮৮২খ্রিষ্টাব্দের হান্টার কমিশন সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উপর বিশেষ জোর দেয় এবং স্থানীয় সরকারী তহবিল থেকে প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে অর্থ খরচ করার সুপারিশ করে।  মিউনিসিপাল ও লোকাল বোর্ডগুলোকে প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে পৃথক তহবিল গঠন করার নির্দেশ দেয়া হয়। ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাশ হয়। এ সময় জেলা স্কুল বোর্ড গঠন করে তার হাতে শিক্ষা পরিচালনার ভার দেয়া হয়। জেলা বোর্ডসমুহকে শিক্ষা কর ধার্যের ক্ষমতা দেয়া হয়। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দের সার্জেন্ট কমিশনের রিপোর্টেজানা যায়, ৬-১৪ বছর বয়সের শিশুদের অবৈতনিক বাধ্যতামুলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয় এবং শিক্ষকদের চাকরি ও প্রশিক্ষণের উন্নতি করার তাগিদ দেয়া হয়।
১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোন মাত্রা সংযোজিত হয়নি। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে আতাউর রহমান শিক্ষা কমিশন ১৪ বছর বয়স্ক সকল  বালক বালিকার জন্য সার্বজনীন  বাধ্যতামুলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রস্তাব করে। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের শরিফ কমিশনেও প্রাথমিক শিক্ষার তেমন কোন অগ্রগতি  লক্ষ্য করা যায় না।বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ড.কুদরত-ই খুদা শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দেশেখ মুজিবৃর রহমানের সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারি করে। প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করনের পর এ শিক্ষা স্তরে পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন সুচিত হয়। শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করা হয়। তারা সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা পেতে শুরু করেন।  স্থানীয় জনগণের উপর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর  পরিচালনার কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ সীমিত হয়ে আসে।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রাথমিক শিক্ষা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার এই স্তরে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে একটি  অলংকারিক স্কুল পরিচালনা কমিটি আছে। এই সরকারি স্কুলগুলো মূলত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের তত্তাবধানে পরিচালিতও নিয়ন্ত্রিত হয়।

এ দেশে ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকে সমাজের বিত্তশালীরা স্থানীয়ভাবে বেসরকারি পর্যায়ে মাধ্যমিক শিক্ষা বিস্তারে বড় অবদান রাখেন। আমাদের আজকের বাংলাদেশ ব্রিটিশ শাসন আমলে কোলকাতা প্রেসিডেন্সির অধীন ছিল। এ অঞ্চলের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্তানদের লেখা পড়ার তাগিদে বিত্তশালী হিন্দুদের অর্থ সহায়তায় সাধারণ ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগষ্ট পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ববাংলা বা পূর্বপাকিস্তানে মুসলিম সমাজের বিত্তশালীরা ব্যাপকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও বিত্তশালীদের অর্থ সহায়তা,দান-অনুদানে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো।মাধ্যমিকও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় সরকারি অনুদানের সুচনা হয় স্বাধীনতার পরই।

১৯৭৪ সালে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারিকরণের সময় শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষাপটে  বেসরকারি মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষকদের ক্ষেত্র বিশেষেসরকারি কোষাগার থেকেএকশো থেকে দুশো টাকা  ভাতা দেয়া শুরু হয়। ১৯৭৯খ্রিষ্টাব্দে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চাকরির শর্ত বিধি প্রণয়ন করে সরকার। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই  বেসরকারি স্কুল কলেজের শ্ক্ষিকদের সর্বপ্রথম জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করেন।  প্রাথমিক পর্যায়ে  বেসরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে বেতন স্কেলের ৫০% ভাগ অনুদান হিসেবে ভাতা পেতে শুরু করেন। এমপিওভুক্ত [গড়হঃযষু চধুসবহঃ ঙৎফবৎ] এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের [স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা] শিক্ষক কর্মচারী পর্যায়ক্রমে সরকারি কোষাগার থেকে ১০০ভাগ বেতন পাচ্ছেন। ১৯৮০ খ্রি. থেকে এম.পি.ও পদ্ধতি শুরু হয়। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা প্রেসিডেন্ট হোসেন মোহাম্মাদ এরশাদ সরকারের [১৯৮২-১৯৯০]আমলে ৭০%, বেগম খালেদা জিয়ার  সরকারের [১৯৯১-১৯৯৬] আমলে ৮০%, শেখ হাসিনা সরকারের [১৯৯৬-২০০১] আমলে ৯০% এবং বিএনপি-জামাত চার দলীয় জোট সরকারের [২০০১-২০০৬]  আমলে ১০০% ভাগে উন্নীত হয়।

এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এর পরিচালনার দায়িত্বও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উপর ন্যস্ত করা হয়। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে সরকার বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার অনুমতি প্রদান করে। অপরিকল্পিতভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় সরকার ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ অক্টোবর যত্রতত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।  শিক্ষককর্মচারি নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে। শিক্ষক কর্মচারিদের চাকরিচ্যুত করা বা হয়রানি করা সহ তহবিল তছরূপের অভিযোগ হরহামেসাই পাওয়া যায় কমিটির সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে। অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কারণে শিক্ষায় ধস নামে।

এই প্রেক্ষিতে নিয়োগ বাণিজ্য রোধ কল্পে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে,২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়। যাকে সংক্ষেপে ঘঞজঈঅবলা হয়। এটি শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন,২০০৫ এর ১নং ধারা অনুযায়ী এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয়। উক্ত আইনের ১০নং ধারায় এনটিআরসিএকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের তালিকা প্রণয়ন, নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়।  এই আইনের ২১ ধারা বলে বিধিমালার মাধ্যমে এনটিআরসি এ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ করে যোগ্য শিক্ষকদের তালিকা প্রণয়ন করে এবং প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করে। প্রত্যয়ন পত্রের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি শিক্ষক নিয়োগ প্রদানের দায়িত্ব পায়। এই পদ্ধতি নিবন্ধন  ও প্রত্যয়ন প্রাপ্ত চাকরি প্রার্থীদেরকে নিয়োগে ঘুষ প্রদান ও হয়রানি মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়। এ পদ্ধতিতেও পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে  শিক্ষক নিয়োগ দানের অভিযোগ ওঠে। নিবন্ধনধারী প্রার্থীদের প্রতিযোগিতামুলক পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই প্রক্রিয়া একটি প্রহসনে পরিনত হয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে সরকার ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা পরিবর্তন করে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করে। পরিপত্র নং ১০৮১। এই পরিপত্রের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পর্যায়ে (শিক্ষক-প্রভাষক-টিচিং স্টাফ) শূণ্য পদে মেধার ভিত্তিতে  শিক্ষক নিয়োগ প্রদানের সুপারিশ প্রদানের ক্ষমতা এনটিআরসিএকে প্রদান করা হয়। এনটিআরসিএ এর  সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি সুপারিশ প্রাপ্ত শিক্ষককে নিয়োগ পত্র প্রদানের দায়িত্ব পায়। এইভাবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে পরিচালনা কমিটির  একচ্ছত্র ক্ষমতা খর্ব হয়।বেসরকারি শিক্ষকদের অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলির কোন ব্যবস্থা না থাকায় একবার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করলে বেসরকারি শিক্ষকমন্ডলী জীবনের শেষ পর্যন্ত একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে বাধ্য হন। বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রণালয় ১৯ ডিসেম্বর,২০২৪  খ্রি. তারিখে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত এম.পি.ও শিক্ষক বদলী নীতিমালা ২০২৪ জারি করে। এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা এ বদলীনীতিমালার ফলে  পদ শূণ্য থাকা সাপেক্ষে নিজ জেলায় বদলির সুযোগ পাবেন। নিজ জেলায় পদ শূণ্য না থাকলে  অন্য কোন জেলায় বদলী হতে পারবেন।  তবে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের আগে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদেরকে বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। বেসরকারি শিক্ষকদের সার্বজনীন বদলীর দাবী অপূরণই রয়ে যায়। নিজ জেলার বাইরে বাসস্থান থেকে অনেক দুরে চাকরি করছেন অনেক বেসরকারি শিক্ষক।  চাকরি জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তারা নিজ এলাকায় বদলি হতে চান।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  অশিক্ষক পদে কর্মরত ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারি নিয়োগে সরকার ২৮ সেপ্টেম্বর,২০২৫ খ্রি. নতুন নীতিমালা জারি করে। এখন থেকে পরিচালনা কমিটি আর আগের মতো  এ সব পদে কর্র্মচারি নিয়োগ দিতে পারবে না।মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিপ্তরের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি  নিয়োগ সুপারিশ কমিটি বেসরকারি  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক ব্যতীত এমপিওভুক্ত শূণ্য পদে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারি নিয়োগের লক্ষ্যে  নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করেমেধা অনুযায়ী ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ করবে। নিয়োগ সুপারিশ কমিটির নিকট হতে সুপারিশ প্রাপ্তির পর সে আলোকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি / গভর্ণিংবডি এক মাসের মধ্যে সুপারিশ প্রাপ্ত প্রার্থীকে নিয়োগ পত্র প্রদান করবে।

গত ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫খ্রি.তারিখে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এনটিআরসিএ এর মাধ্যমে অধ্যক্ষ,উপাধ্যক্ষ,প্রধান শিক্ষক,সহপ্রধান শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করে রিপোর্ট প্রদান করবে। এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ,উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক,সহ প্রধান  শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা আর কমিটির হাতে থাকছে না। এ সব পদে সরকার নিয়োগ দিবে।এ বিষয়ে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে গত ৫ অক্টোবর,২০২৫ খ্রি. শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এক পরিপত্র জারি করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ,উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহসুপার এনটিআরসিএ এর মাধ্যমে নিযোগের সরকারি সিদ্ধান্তের কথা  জানিয়েছে। একই সাথে পরবর্তী নির্দেশ প্রদান না করা পর্যন্ত এ সব পদে নিয়োগ কার্যক্রম  বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার।

অপর দিকে গত ৩১ আগষ্ট,২০২৫ খ্রি. তারিখে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে পরিবর্তন এনে গেজেট প্রকাশ করে। এখন থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সরকারি কর্মকর্তাগণ মনোনয়ন পাবেন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সরকাারি কর্মমর্তা দায়িত্ব পেলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ জবাবদিহির আওতায় আসবে।বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালায় ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের যে ধারা সূচিত হয়েছে তা অত্যন্ত ইতিবাচক।  সরকারের এসব পদক্ষেপ বেসরকারি শিক্ষক সমাজের জন্য স্বস্তির বার্তা বাহক। এই পরিবর্তনে বেসরকারি শিক্ষা  প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধিত হবে এবং মর্যাদাপুর্ণ টেকসই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। শিক্ষার মান ও শিক্ষার পরিবেশের উন্নতি ঘটবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি ও দলীয়করণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত হবে।

উচ্চ শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯২ খ্রি. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ করে দেশে বেসরকারি পর্যায়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি প্রদান করে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন(ট.এ.ঈ) প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক দায় সরকার বহন করে না।

আমাদের দেশের সাধারণ  শিক্ষা ধারার স্কুল, কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় পরিবর্তন আসলেও দারসে নিজামিয়া বা কওমী ঘরনার মাদ্রাসা ও মসজিদ কেন্দ্রিক মাক্তাব শিক্ষালয়গুলো এখনো সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও সামাজিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়।রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীনে তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা অক্ষুন্ন রেখেদারসে নিজামিয়া শিক্ষা ধারাকে আধুনাকায়ন করে এ ধারার জনশক্তিকে  জনসম্পদে  পরিণত করে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সময়ের অন্যতম দাতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার। রাষ্ট্র সকল ধারার, সকল স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা বিধান করবে। এটাই জাতির প্রত্যাশা।

Facebook Comments Box

Posted ০২:৫৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

dainikbanglarnabokantha.com |

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
সম্পাদক : রুমাজ্জল হোসেন রুবেল
বাণিজ্যিক কার্যালয়

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮

ই-মেইল: [email protected]