রবিবার ২৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেমরা ডগাইর মৌজায় আদালতের ডিক্রী প্রাপ্ত জমিতে ভূমিদস্যুদের আগ্রাসন

মঙ্গলবার, ০২ মে ২০২৩   প্রিন্ট  

ডেমরা ডগাইর মৌজায় আদালতের ডিক্রী প্রাপ্ত জমিতে ভূমিদস্যুদের আগ্রাসন

রাজধানীর ডেমরা থানার অন্তভুক্ত ডগাইর মৌজায় আদালতের ডিক্রী প্রাপ্ত জমিতে উচ্ছেদ হওয়া ব্যাক্তিদের পক্ষে ভূঁয়া কাগজপত্র তৈরি করে ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে অবৈধ ভাবে বিক্রির পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে আনোয়ার হোসেন,পানবাবু ও আবুল কালাম নামে তিন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে।

অবৈধভাবে ঐ জমিতে দখল ও বিক্রির চেষ্টা করায় ভুক্তভোগী মোঃ সামসুদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন ও আলমাস নামে তিন ভুক্তভোগী ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল ২০২২ তারিখে ঢাকা-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জ ও সহকারি কমিশনার ভূমি ( এসি ল্যান্ড), ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর ৬৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর,ও ডিএসসিসি ৬৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ডেমরা পুলিশ ফাঁড়ি সাব-ইন্সপেক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ঐ জমির প্রকৃত মালিক মতিন ভূঁইয়া ঢাকার সাব- জজ চতুর্থ আদালত থেকে ডিক্রী প্রাপ্ত হয়ে ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে নিষ্কন্টক অবস্থায় জমিটি ভুক্তভোগী মোঃ সামসুদ্দীন, দেলোয়ার হোসেন ও আলমাস এর নিকট বৈধ-পক্রিয়ায় হস্তান্তর করেন।এই ক্রয়কৃত সম্পত্তি অবৈধ ভাবে বিক্রির পাঁয়তারা করছে ভূমিদস্যু চক্রটি।

উল্লেখ্য থাকে যে আব্দুল মতিন ভূঁইয়া গং ইতিপূর্বে সম্পত্তি ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সম্পত্তি রক্ষা করতে ১৯৯৬ সালে ঢাকার সাব-জজ আদালতে মামলা করেন । ঢাকার সাব-জজ চতুর্থ আদালতের মামলা নং ১১০/১৯৯৬ ‌সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ দখলদারদের ক্রয় সঠিক না থাকায় আদালত আব্দুল মতিন ভূঁইয়া গং এর পক্ষে ২০০১ সালে ডিক্রী দেন একই সঙ্গে একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা সহ ডাক-ঢোল পিটিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণ করে দখল বুঝিয়ে দেয়।এসময় ম্যাজিষ্ট্রেটের সাথে পুলিশ, সরকারি ভূমি কর্মকর্তা- কর্মচারী, স্থানীয় লোকজন সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন বিষয়টি মীমাংসিত থাকার পর সম্প্রতি ভূমিদস্যুদের পক্ষে ভাড়াটিয়া মাস্তান আনোয়ার হোসেন ও বাবু ওরফে পানবাবু,আবুল কালাম গং ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমি দখল করে অবৈধভাবে বিক্রির পাঁয়তারা করছে।

এ ঘটনাটির বিষয়ে স্থানীয় ডিএসসিসি ৬৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কে লিখিত ভাবে জানানো হলে শনিবার ২৯ এপ্রিল অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন বাবু( পান বাবু) ও কালাম কে বিবাদী করে একটি স্থানীয় সালিশের প্রথম দফায় নোটিশ করা হয়।

সরেজমিনে জানা গেছে, ডগাইর মৌজার সিএস ও এস.এ ১৪৩৯ আর.এস-২০০৬ সিটি জরিপ ৬৬২৬নং দাগের ৪৩ শতাংশ জমির মধ্যে ১৪ শতাংশ জমি সেমিপাকা টিঁনশেড সহ খরিদ করেন মোঃ সামসুদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন ও আলমাস নামে তিন জন।
ঐ জমির দক্ষিণ অংশে ৬৬৩৪ দাগে বিবাদীরা জমি খরিদ করেন। কিন্তু তাদের খরিদ সঠিক না থাকায় দুই পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলাটি যায়। আদালতে নালিশী সম্পত্তি নিয়ে একটি মোকদ্দমা করলে ২০০১ সালে রায় পান। অথচ আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে গায়ের জোরে ভূঁয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমিটি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে তারা।

এই বিষয়ে এলাকার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভূমি দস্যুরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের ভয়ে সহজে কেউ মুখ খোলে না।

অভিযোগকারী সামসুদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন জানান, দখলকারীদের দখলীয় জমির দাগ ঠিক নেই। তাদের দলিল একদাগে আর দখল করে রয়েছে আরেক দাগে।

গায়ের জোরে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে জমিটি আত্মসাৎ করতে চায় ভূমিদস্যুরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়ে ভূমিদস্যু আনোয়ার হোসেন বাবু ও আবুল কালাম কে বিবাদী করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ৬৫ নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর সামসুদ্দীন ভূঁইয়া সেন্টু নোটিশ করায় তার প্রতিও নানা আপত্তিকর কথা বলে দম্ভ দেখান তারা।

ভূমিদস্যু আনোয়ার হোসেন দৈনিক বাংলার নবকন্ঠ কে বলেন, কাউন্সিলর আমাদের কিছু করতে পারবে না। আমরাও কম পাওয়াফুল নই।

Facebook Comments Box

Posted ০৬:৫৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ মে ২০২৩

dainikbanglarnabokantha.com |

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
সম্পাদক : রুমাজ্জল হোসেন রুবেল
বাণিজ্যিক কার্যালয়

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮

ই-মেইল: [email protected]