কামরুল হাসান জীবন, নওগাঁ
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ প্রিন্ট
২৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে নওগাঁ সদর থানা এলাকায় একই দিনে প্রতারণা ও রাসায়নিক স্প্রে (কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’) প্রয়োগের মাধ্যমে দুইটি পৃথক ঘটনায় স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
প্রথম ঘটনায়, নওগাঁ শহরের চুরিপট্টি এলাকায় নওগাঁ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সামনে সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ফাতেমা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধাকে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগের মাধ্যমে অচেতন করে। পরে কৌশলে তাকে একটি রিকশায় তুলে নিয়ে তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল এবং নগদ ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এরপর তাকে অচেতন অবস্থায় ডিগ্রীর মোড় সংলগ্ন ময়লা ফেলার স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
অপর ঘটনায়, একই দিন দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে লিটন ব্রিজের মাঝামাঝি এলাকায় এক বৃদ্ধ দম্পতিকে স্বর্ণের বার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতারকরা রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ করে তাদের সম্মোহিত করে জোরপূর্বক ৬ আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ দুই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁ সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গত ২৭ জুন গভীর রাতে নওগাঁ শহরের ৯টি হোটেলে একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে নওগাঁ রেস্ট হাউস হোটেলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন—
১. মো. আব্দুল হাই (গাইবান্ধা)
২. মো. এরশাদ আলী (গাইবান্ধা)
৩. বাবলু (গাইবান্ধা)
৪. মো. কালাম (নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর)
গ্রেফতারকৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন যে, আরও দুই-তিনজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তারা ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্বর্ণের বার দেখিয়ে প্রতারণা এবং রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগের মাধ্যমে বৃদ্ধ দম্পতির স্বর্ণের কানের দুল হাতিয়ে নিয়েছিল।
তদন্তে আরও জানা যায়, দ্বিতীয় ঘটনায় চুরি হওয়া কানের দুল আসামি এরশাদ নওগাঁ স্বর্ণপট্টি বাজারের মুহিদ জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করে। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা আসামি এরশাদের দেখানো মতে মো. জাহাঙ্গীরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চোরাই স্বর্ণ কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, কানের দুল গলিয়ে ফেলা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গলানো অবস্থায় ৪ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, মো. জাহাঙ্গীর এর আগেও নওগাঁ স্বর্ণপট্টিতে চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রথম ঘটনার স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য টাকা-পয়সা তাদের পলাতক সহযোগীদের কাছে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধী ও পলাতক সহযোগীদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Posted ০৩:১৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮
ই-মেইল: [email protected]