• শিরোনাম

    ২ ঘণ্টায় ঢাকায় গিয়ে অফিস করবে শরীয়তপুরবাসী ॥ ব্যবসা-বানিজ্যেও দুয়ার খুলবে ॥

    মিজানুর রহমান মোস্তফা ,শরীয়তপুর॥ | শনিবার, ১৮ জুন ২০২২ | পড়া হয়েছে 51 বার

    ২ ঘণ্টায় ঢাকায় গিয়ে অফিস করবে শরীয়তপুরবাসী ॥ ব্যবসা-বানিজ্যেও দুয়ার খুলবে ॥
    apps

    পদ্মা সেতুর উদ্বোধন আগামী ২৫ জুন। আর স্বপ্নের এই সেতু দিয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে শরীয়তপুরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলা। যদিও ঢাকা খুবই কাছে শরীয়তপুর জেলা। পদ্মা সেতু তৈরী করার সময় তাদেও বাপ দাদা জায়গা- জমিন সবই দিয়েছে। তাই তাদের আবেকটা উৎফুল্ল বেশী। শরীয়তপুরের নাওডোবা থেকে শরীয়তপুর জেলা শহর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক খুবই সরু। তবে পদ্মা সেতুর সংগে সংযোগ সড়ক প্রসস্ত না থাকার কারনে তেমন কোন সুফল পাবে না শরীয়তপুর জেলার মানুষ। তবুও সেতু চালু হওয়ার পর রাজধানী ঢাকাতে কর্মরত শরীয়তপুররাসীর মানুষ নিজ বাড়ি থেকেই অফিস করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে শরীয়তপুর থেকে ঢাকা যেতে ৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। তবে সেতু খুললে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীতে পৌঁছাতে পারবেন শরীয়তপুরবাসী।
    জানা যায়, ঢাকার খুব কাছাকাছি হলেও র্দীঘদিন ধরে শরীয়তপুর বাসীরা শরীযতপুর থেকে মাঝিরঘাট পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগতো। তার পর মাঝিরঘাট থেকে মাওয়া পৌঁছাতে লঞ্চ, ফেরী ও করে মাওয়ায় যেতে ১ ঘন্টা ২০ মিনিট সময লাগতো। সেখান থেকে বাসে করে ঢাকায় পৌঁছাতে আরো দেড় ঘন্টা সময় রাগতো। এভাবে ৪ ঘন্টা লেগে যেতো। আবার সন্ধ্যার পর লঞ্চ ও স্পীরিট বোড বন্ধ থাকতো। পাশাপাশি আবহাওয়া খারাব থাকলে বন্ধ হয়ে যেতো লঞ্চ ও স্পীরিট বোড। এতে করে চরম বিডম্ভবনা ও দুভোগে পড়তে হতো শরীয়তপুর বাসীকে। পাশাপাশি ছিল দুর্ঘটনা। সেই বিড়ম্ভবনা আর দুর্ভোগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বহুর কাঙ্খিত পদ্মা সেতুর মাধ্যামে। শুধু তাই নয়, সেতু খুললে শরীয়তপুর থেকে প্রায় ২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছা যাবে বলে জানান তারা। এতে প্রায় ২ ঘণ্টার বেশি সময় বাঁচবে। পদ্মা সেতু শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের হওয়ায় জাজিরার লোকজন বাপ দাদার জায়গা জমি সব দিয়েছে। অথচ ২১ জেলার মানুষ যোগাযোগ সুবিধা পেলেও শরীয়তপুর বাসী তা পাইনি। শরীয়তপুরের নাওডোবা থেকে শরীয়তপুর জেলা শহর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক খুবই সরু। চলাচরের অনুপোযোগী হয়ে রয়েছে। আর প্রায় ২ ঘণ্টার বেশি সময় বাঁচবে। এতে করে ব্যবসা বানিজ্যসহ অথনৈতিক ব্যাপক প্রসার ঘটবে।
    শরীয়তপুর শহরের কে এম রাসেদুজ্জামান রিয়াদ, সহকারী শিক্ষক শাহে আলম খান, নাওডোবার মোকলেজ মিয়া বলেন, পদ্মা সেতু নির্মানের জন্য জাজিরার মানুষ বেশী বাপ দাদার ভিটে মাটি ছেড়ে দিয়েছি। পদ্মা সেতু হয়েছে তাতে আমরা আনন্দিত। কিন্তু পদ্মা সেতু থেকে শরীয়তপুরের সংগে সংযোগ সড়ক না থাকায় আমরা পদ্মা সেতুর সুফল পাচ্ছি না। তার পরও আমাদেও দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাগব হবে, তাতেই আমরা খুশি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।
    বিশিষ্ট সাংবাদিক কে এম রায়হান কবীর(সোহেল) বলেন, পদ্মা সেতু চালুর ফলে খুব কম সময়েই শরীয়তপুর বাসী ঢাকায় পৌঁছাতে পারবেন। বর্তমানে শরীযতপুর থেকে মাঝিরঘাট পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। তার পর মাঝিরঘাট থেকে মাওয়া পৌঁছাতে আরও প্রায় ৫০ মিনিট লাগে। স্বাভাবিক সময়ে ফেরি পার হতে লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা (লঞ্চে লাগে প্রায় ৫০ মিনিট)। পরে মাওয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে আরও এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় লাগে। সেতু খুললে শরীয়তপুর থেকে প্রায় ২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছা যাবে বলে জানান তারা। এতে প্রায় ২ ঘণ্টার বেশি সময় বাঁচবে।
    বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ আবদুর রহমান খান (দুলু) বলেন, পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গাসহ অন্যন্য সড়ক তৈরী করা হলেও যাতায়াত জন্য এখনো শরীয়তপুরের সড়কের কাজ শুরু করতে পারেনি। তার পরও ৪ ঘন্টা সময় ২ ঘন্টায় আমরা ঢাকা পৌছাতে পারবো। এতে ব্যবসা বানিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রশার ঘটবে।
    সংশ্লিষ্টরা জানান, পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। পৃথিবীর দীর্ঘতম সেতুর মধ্যে পদ্মা সেতুর অবস্থান ১২২তম। ইতোমধ্যে সেতুর সংযোগ সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। দুই প্রান্তেই চলছে এখন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি।এবং প্রস্তুতির কাজও শেষ পর্যায়ে। সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলবাসী।
    ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইলিয়াজ ঢালী বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকায় চাকরি করছি। যাতায়াতে ভোগান্তির কারণে বাড়িতে তেমন আসা হয় না। ফেরি ঘাটে এসে ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে আসাও খুব কঠিন হয়ে পড়ে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর বাড়িতে চলে আসবো। বাড়ি থেকেই অফিস করবো ভাবছি। ঢাকায় খরচও অনেক বেড়ে গেছে, সেতুর কারণে যাতায়াত সহজ হবে, খুব কম সময়েই বাড়ি থেকে ঢাকায় আসা-যাওয়া করা যাবে।

    শরীয়তপুর সদর উপজেলা চর পালং এলাকার আবুল বাশার বলেন, ঢাকার একটি কোম্পানিতে চাকরি করছি। বাড়িতে তেমন আসা হয় না। বাবা-মায়েরও বয়স হয়েছে। আমি একমাত্র ছেলে, বাড়িতে তাদের দেখাশোনা করারও কেউ নেই। পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণার পর থেকেই ভেবেছি, সেতু চালু হলে বাড়িতে চলে আসবো। বাড়ি থেকেই ঢাকায় অফিস করবো। শরীয়তপুর শহর থেকে মাত্র ২ ঘন্টায় ঢাকায় পৌঁছা যাবে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাড়ি থেকেই প্রতিদিন অফিস করবো।

    ব্যবসায়ী মুরাদ হোসেন বলেন, ঢাকায় গিয়ে একদিনে ফিরে আসা কঠিন হয়ে যেতো। এখন সকালে গিয়ে মালামাল কিনে বিকালের মধ্যেই চলে আসতে পারবো। তাছাড়া মালামাল কিনে ট্রাকে লোড করে দিলে দুই থেকে তিন দিন লাগতো পৌঁছাতে, ফেরিঘাটে এসে মাল আটকে থাকতো। এখন আর সমস্যা হবে না। সকালে মালামাল লোড দিলে, বিকালের মধ্যেই ট্রাক পৌঁছে যাবে।
    ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আবিদ খান বলেন, যাতায়াতে ভোগান্তির কারণে ঢাকায় থেকে পড়ালেখা করি। পদ্মা সেতু চালু হলে বাড়ি থেকেই ক্লাস করা সম্ভব হবে। ঢাকায় যে খরচ হয়, বাড়ি থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করলে তার চেয়ে খরচ কম হবে। এছাড়া সপ্তাহে ক্লাস হয় চার দিন। বাড়ি থেকে ক্লাস করতে তেমন সমস্যা হবে না। পরিবারের সদস্যদেরও সময় দিতে পারবো।
    জাজিরা উপজেলার সমাজ সেবক মোবারক আরী শিকদার বলেন, আগে অসুস্থ রোগীদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় ফেরিঘাটে আটকে থেকে অনেকেই মারা গেছেন। এখন এ কারণে আর কারও প্রাণ যাবে না আশা করি। এছাড়া লঞ্চ ও স্পিডবোটে পারাপারেরও অনেক দুর্ঘটনা হতো। সেতু চালু হলে আর কোনও অঘটন ঘটবে না। পাশাপাশি এই অঞ্চলের আর্থ সামাজিক অবস্থারও উন্নয়ন হবে বলে জানান তিনি।
    শরীয়তপুর সদও উপজেলার আটি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাসেল খান রিয়াদ বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে বাস চলাচলে এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা খুব সহজ হবে।
    নড়িয়া পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ বলেন, পদ্মা সেতুকে গিওে আমরা নতুন নতুন গাড়ী নামাবার চিন্তা করছি। তবে রাস্তা খুব সরু হওয়ার কারনে ঐ সকল গাড়ী চালানো কষ্ট হবে। তাই আমরা প্রত্যাশা করি আমাদেও রাস্থা গুরো দ্রুত প্রসস্ত করা হউক ।

    শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন ফোরলেনের কাজের জন্য জমি অধিগ্রহনের কাজ প্রায় শেষের দিকে । ১ম প্যাকেজের কাজ ইতো মধ্যে শুরু করা হয়েছে। অন্য দুটি এখনো টেন্ডার এখনো হয়নি।
    শরীয়তপুর-(পালং-জাজিরা)-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, সেতুর মাধ্যমে শুধু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগেরই অবসান হবে না, এই অঞ্চল তথা দেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এটি ভূমিকা রাখবে। সেতুর ওপর দিয়ে ২৫ জুন গড়াবে গাড়ির চাকা, ওই দিনের জন্য প্রহর গুনছেন এ অঞ্চলের মানুষ।

    বাংলাদেশ সময়: ১১:২৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৮ জুন ২০২২

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ