• শিরোনাম

    ১২টি পদে এক হাজার ১৯৪ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর

    অনলাইন ডেস্ক | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২০ | পড়া হয়েছে 58 বার

    নবকন্ঠ ডেস্ক: ১২টি পদে এক হাজার ১৯৪ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। সবচেয়ে বেশি লোক নেওয়া হবে অফিস সহায়ক (৫১৫) ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (৪৬৪) পদে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিগত নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি ও প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

    যেভাবে পরীক্ষা : নিয়োগ পরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) আসাদুজ্জামান বলেন, ২২ অক্টোবর ২০২০ আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হবে। এরপর যাচাই-বাছাই করে প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হবে। পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বর মাসে নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হতে পারে। যেসব পদে আবেদনকৃত প্রার্থী অল্পসংখ্যক হবে, সেসব পদের পরীক্ষা প্রথম দিকে হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে—যেসব পদে বেশিসংখ্যক প্রার্থী আবেদন করবেন, সেগুলোর পরীক্ষা হবে। যেসব পদে আবেদনকারী প্রার্থীর সংখ্যা কম, সেসব পদে শুধু লিখিত পরীক্ষা আর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে পদভেদে কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ‘স্ট্যান্ডার্ড অ্যাপটিচিউট টেস্ট’ নেওয়া হবে। বেশিসংখ্যক আবেদন জমা পড়া পদগুলোতে শুরুতে হবে বাছাই পরীক্ষা (প্রিলিমিনারি)। এরপর লিখিত পরীক্ষা, কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা পরীক্ষা (প্রযোজ্য হলে), স্ট্যান্ডার্ড অ্যাপটিচিউট টেস্ট (প্রযোজ্য হলে) ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    কোন পদে কতজন : হিসাবরক্ষক ২৫ জন, কম্পিউটার অপারেটর ৬৯ জন, সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর ২ জন, উচ্চমান সহকারী ৩১ জন, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর ১ জন, স্টোরকিপার ১ জন, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৪০ জন, অফিস সহকারী-কাম-ক্যাশিয়ার ২১ জন, হিসাব সহকারী-কাম-ক্যাশিয়ার ১৪ জন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ৪৬৪ জন, অফিস সহায়ক ৫১৫ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ১১ জন।

    আবেদনের যোগ্যতা : প্রতিটি পদে আবেদনের জন্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বয়সসীমা আলাদা। পদভেদে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ প্রার্থী থেকে শুরু করে স্নাতক (সম্মান), বিবিএ উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। বেশির ভাগ পদে যোগ্যতা হিসেবে চাওয়া হয়েছে কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা। পদভেদে আবেদনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বয়সসীমার শর্তাবলি জানা যাবে বিজ্ঞপ্তিতে।

    প্রার্থীর বয়সসীমা : প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর (১ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে) হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছর।

    আবেদনের নিয়ম : আবেদন করতে হবে অনলাইনে (http://eedmoe.teletalk.com.bd)

    ২২ অক্টোবর ২০২০ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে। আবেদনপত্র সাবমিটের পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে।

    – নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এই লিংকে : http://eedmoe.teletalk.com.bd/pdf/1203059154circular.pdf

    নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ

    পরীক্ষার প্রস্তুতি যে ধরনের

    কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, উচ্চমান সহকারী প্রভৃতি পদের পরীক্ষার প্রস্তুতি সাধারণত ২ ধরনের।

    প্রথমত, প্রচলিত অনান্য নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির মতো চাকরির প্রস্তুতিমূলক বই পড়তে হবে। দ্বিতীয়ত, কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তবে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর ও সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর—এই ২ পদের জন্য উপরোক্ত দুই ধরনের প্রস্তুতির পাশাপাশি কম্পিউটারের ব্যাবহারিক জ্ঞান ও সাঁটলিপি জানতে হবে।

    নিজেই করুন ‘সাজেশন’

    যেসব পদে পরীক্ষা দেবেন, সেসব পদ ও তদসংশ্লিষ্ট পদের বিগত বছরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে সেগুলো বুঝে বুঝে সমাধান করতে হবে। মুখস্থ করার বিষয়গুলো মুখস্থ করে ফেলতে হবে। প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে—পরীক্ষায় কোন ধরনের প্রশ্ন বেশি আসে, কোন টপিক থেকে প্রতিবছরই প্রশ্ন এসে থাকে। এসব ঠিকঠাক বিশ্লেষণ করে খাতায় টপিকভিত্তিক গুরুত্ব অনুসারে সাজানো যেতে পারে। এভাবে নিজের সাজেশন নিজেই সাজিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারেন।

    – কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তির বইয়ের প্রস্তুতি

    মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি বই। এ ছাড়া বাজারে প্রচলিত ভালো মানের একটি গাইড বই থেকে প্রস্তুতি নিলে কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তির প্রিলিমিনারির প্রস্তুতি ভালোভাবে নেওয়া যাবে। ব্যাংক, বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় আসা বিগত সালের প্রশ্নগুলো বেশি বেশি চর্চা করা যেতে পারে।

    – গণিতের ভিত্তি মজবুত করি

    গণিতের ভিত্তি মজবুত করার জন্য পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির বোর্ড বইয়ের অঙ্কগুলো অনুশীলন করা যেতে পারে। এতে গণিতের মৌলিক ভিত্তি মজবুত হবে। আর পরীক্ষার প্রস্তুতিও অনেকাংশে হয়ে যাবে। তারপর গাইড বই থেকে অল্প সময়ে অঙ্কের উত্তর বের করার টেকনিকও শেখা যেতে পারে।

    – ইংরেজিতে ভালো প্রস্তুতি

    ইংরেজির ক্ষেত্রেও মৌলিক জ্ঞান বাড়াতে হবে। ইংরেজিতে দুর্বলতা থাকলে পিসি দাসের বই পড়া যেতে পারে। আর যাঁরা ইংরেজিতে মোটামুটি দক্ষ তাঁরা বাজারের প্রচলিত ভালো মানের যেকোনো একটা গাইড বই থেকে বিগত সময়ে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো সমাধান করতে পারেন।

    – জব সলিউশন কাজে দেয়

    এই পদগুলোর পরীক্ষায় জব সলিউশন থেকে অনেক সময় হুবহু প্রশ্ন কমন আসতে দেখা গেছে। তাই বাজারের প্রচলিত ভালো মানের প্রকাশনীর একটি জব সলিউশন বই সংগ্রহ করতে পারেন। তবে জব সলিউশন বই সংগ্রহ করার সময় খেয়াল রাখবেন—সেই বইটিতে প্রশ্নের ব্যাখ্যাসহ সমাধান দেওয়া আছে কি না। জব সলিউশন থেকে প্রতিদিন বিগত বছরের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন বুঝে বুঝে সমাধান করুন। আর মুখস্থ করার বিষয় হলে মুখস্থ করে নিন।

    কম্পিউটারে ব্যাবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর কৌশল

    এই নিয়োগ পরীক্ষার বেশির ভাগ পদে যোগ্যতা হিসেবে কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা চাওয়া হয়েছে। যদি কম্পিউটার ব্যবহারে আপনার যথেষ্ট দক্ষতা না থাকে, তাহলে আজই কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষ হওয়ার জন্য লেগে পড়ুন। অফিশিয়াল কাজে সাধারণত এমএস (মাইক্রোসফট) ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট, ফটোশপ, বাংলা-ইংরেজি টাইপিং (টাইপিং স্পিড ভালো হতে হবে), প্রিন্ট, স্ক্যান, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ই-মেইল ইত্যাদি কাজে দক্ষ হতে হয়। টাইপিং স্পিড রাতারাতি হয় না। সামনে কোনো বাংলা-ইংরেজি পত্রিকা বা বই রেখে তা দেখে দেখে কম্পিউটারে টাইপ করার চেষ্টা করুন।

    টাইপিংয়ের জন্য আপনি কয়েকটি কৌশল অনুসরণ করতে পারেন। যেমন, মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে আপনি চাকরির প্রস্তুতির বিভিন্ন বিষয় নোট করতে পারেন। এর ফলে চাকরির তাত্ত্বিক পড়াশোনা বা প্রস্তুতিও হবে, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহারের খুঁটিনাটিও জানা হয়ে যাবে। আপনার প্রতি মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাবটা এক্সেলে রাখতে পারেন। এতে আয়-ব্যয়ের হিসাবটা রেকর্ড করা হয়ে যাবে, আর আপনার এক্সেলও শেখা হবে। বর্তমানে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে পড়ার সময় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশন দিতে হয়। কিন্তু আপনার ছাত্রজীবনে যদি এমনটা না হয়ে থাকে, তাহলে আপনি চাকরির প্রস্তুতির যেকোনো বিষয়ের নির্দিষ্ট টপিকের ওপর পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশনের স্লাইড তৈরি করতে পারেন।

    উল্লিখিত ব্যাবহারিক বিষয়গুলোর ভিডিও টিউটরিয়াল ইউটিউবে সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে। সেগুলো দেখে বাসায় মন দিয়ে চর্চা করলে অল্প সময়ে দক্ষ হয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এ ছাড়া চাইলে অনলাইনে কিংবা অফলাইনে এসব বিষয়ের ওপর কোর্সও করে নিতে পারেন।

    বাংলাদেশ সময়: ১০:২২ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২০

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ