• শিরোনাম

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফটকেই অবৈধ ডায়াগনষ্টিক, নীরব কতৃপক্ষ!

    টি,এম,এ হাসান, সিরাজগঞ্জ : | বুধবার, ২৫ আগস্ট ২০২১ | পড়া হয়েছে 63 বার

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফটকেই অবৈধ ডায়াগনষ্টিক, নীরব কতৃপক্ষ!

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফটকেই অবৈধ ডায়াগনষ্টিক, নীরব কতৃপক্ষ!

    apps

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে গড়ে উঠেছে নিরাময় ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এত নিকটে অবৈধ উপায়ে গড়ে ওঠা এই ডায়াগনষ্ঠিক সেন্টার কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছিলেন অনুমোদনও। যদিও তার মেয়াদ উর্তীর্ন হয়ে যাবার পরে আর পাননি নবায়ন। তবুও স্বাস্থ্য বিভাগকে ম্যানেজ করেই এই প্রতিষ্ঠানে চলছে চিকিৎসার নামে রমরমা বানিজ্য এমনই অভিযোগ সবার। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার চোখের সামনেই এই প্রতিষ্ঠানটি চললেও কেন ব্যাবস্থা নিচ্ছেন না সেই প্রশ্নও সবার মনে। তবে সিভিল সার্জন আশ্বাস দিয়েছেন প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেবার। এমনই নানা তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের মাত্র ৪থেকে ৫গজের মধ্যে গড়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। যা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্তত কয়েকশ মিটারের মধ্যে করা অবৈধ। এবং শুধু তাই নয়, চোখের সামনে সেবার নামে এমন ব্যাবসায়ীক প্রতিষ্ঠান খুলে বসলেও অদৃশ্য কারনে দেখেও দেখছেন না উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা। যা নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে নানান আলোচনা ও সমালোচনা। কিন্তু এবিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ সবাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডায়াগনষ্টিক ব্যাবসা্যী বলেন, এইভাবে সরকারি হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনেই হাসপাতালের মাত্র কয়েক গজের মধ্যে কোনও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার করার নিয়ম নেই। তিনি কিভাবে অনুমোদন পেলেন ও ব্যাবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন সেটা কতৃপক্ষ ভাল বলতে পারবেন। তবে যেহেতু স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিয়মিত পাশেই অফিস করেন ও সেই প্রতিষ্ঠানের সামনে দিয়েই যাতায়াত করেন সেহেতু তিনি অবশ্যই বিষয়টি জানেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সবাইকে ম্যানেজ করেই ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছেন এই প্রতিষ্ঠান। এমনকি হাসপাতালের ভিতরে এই ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের দালাল আছে জানিয়ে তারা বলেন, সেখান থেকে রোগীদের এখানে এসে পরীক্ষা নিরিক্ষা করানোর জন্যও বলে দেয়া হয়। সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির একসময় নিবন্ধন করা থাকলেও তার মেয়াদ চলে গেছে। পরবর্তীতে আর নবায়নও করা হয়নি। তবে নিরাময় ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পরিচালক মো. মাহাবুবুর রহমান লিটন নিকট দাবী করেন, আমার নিবন্ধন আছে এবং এসব বিষয় দেখার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ এবং উল্লাপাড়া হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক মালিক সমিতি আছে। আপনার প্রয়োজন হলে তাদের সঙ্গে কথা বলুন। এবিষয়ে উল্লাপাড়া হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক মালিক সমিতির সভাপতি ও উপজলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিবলী ইসলাম কবিতা বলেন, যেহেতু নির্দিষ্ট একটা জায়গার মধ্যে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার করা যাবেনা এরকম নিয়ম আছে সেক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জন যেহেতু আছেন তাদের বিষয়টি দেখা উচিত। তারা বিষয়টি কেন দেখছেন না এটা আমার বোধগম্য নয়। তারপরও আমি আমাদের সামনের মিটিংয়ে এই বিষয়টি উথ্যাপন করবো ও তাদের সেখান থেকে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটি সরিয়ে নিতে আহবান জানাবো। এবিষয়ে কথা বলার জন্য উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেনের কার্যালয়ে গেলে তিনি দেখা করতে রাজি হননি। পরে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সঙ্গেই সঙ্গেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পুণরায় একাধিকবার কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি। সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রাম পদ রায় বলেন, এটা সম্পুর্ন নিয়ম বহির্ভূত। এমনটা হয়ে থাকলে আমি অবশ্যই খোজ খবর নিয়ে দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহন করবো

    বাংলাদেশ সময়: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৫ আগস্ট ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ