• শিরোনাম

    সুন্দরগঞ্জে ছাত্রলীগ কর্মীর বাড়ি বিএনপি নেতার হামলায় লুটপাট ও ভাঙ্গচুড়।

    একেএম নূরুল আমিন, গাইবান্ধা জেলা  প্রতিনিধি।। | রবিবার, ০৬ জুন ২০২১ | পড়া হয়েছে 18 বার

    সুন্দরগঞ্জে ছাত্রলীগ কর্মীর বাড়ি বিএনপি নেতার হামলায় লুটপাট ও ভাঙ্গচুড়।

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ছাত্রলীগ কর্মীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। গত ৫ জুন ইউনিয়ন বিএনপি সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন। উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি কাপাসিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপি নেতার তান্ডবে ছাত্রলীগ কর্মী নুহু আলমসহ পরিবারের অন্তত ১০ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় শনিবার ( ৫ জুন) রাতে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রলীগ কর্মীর বাবা নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে বিএনপির নেতা শহীদুল ইসলাম সহ ১৫ জনকে আসামী করে  থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।  অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি শহিদুল ইসলামের সাথে ছাত্রলীগ কর্মী নুহু আলমের বাবা নজরুল ইসলামের দীর্ঘ দিন ধরে জমি নিয়ে মামলা চলছিল।    বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম ভূয়া দলীল তৈরী করে ছাত্রলীগ কর্মীর বসতবাড়ি দখল করার পায়তারা করছিল। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শনিবার সকালে শহিদুল ইসলাম তার ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে নজরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে  ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেএবং বাক্স ভেঙে সোনার চেন, গরু বিক্রির ৯০ হাজার টাকা সহ প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।  বাধা দিতে গেলে ভাড়াটিয়া বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত হয় ছাত্রলীগ কর্মী নুহু আলম, তার বাবা নজরুল ইসলাম, তার বড় ভাই খায়রুল আলম, তার চাচা মেহেরাজ আলী ও তার ভাবি মোর্শেদা বেগমকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। এসময় তাদের রক্ষা করতে গেলে বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম ছাত্রলীগ কর্মীর মা খোতেজা বেগমকে কুড়াল দিয়ে শরীর ও মাথায় চোট দিলে মাটিতে পড়ে গেলে তার শরীর মাছ ধরার টেঁটা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে জখম করে, পরে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।  খোতেজা বেগমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কা জনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসক। এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ কর্মীর বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নেতা শহিদুল আমার পৈত্রিক সম্পত্তি জোর দখল করার চেষ্টা করছে দীর্ঘদিন ধরে। আমার ছেলে ছাত্রলীগ করে জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে ভুয়া দলিল তৈরি করে আমার বসতবাড়ি দখল করার পায়তারা করছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় সালিশও হয়েছিল। কিন্তু তারা বৈধ কাগজ দেখাতে পারেনি। ছাত্রলীগ কর্মী নুহু আলম বলেন, আমি ছাত্রলীগ করি জন্য তারা আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিতো। এরপর আমাদের জমির দিকে নজর দেয়, শহিদুল। আমাদের যে জমি তারা কেনার দাবি করছে সে সংক্রান্ত কোন কাগজ দেখাতে পারেনি। মুলত তারা বিএনপি করে জন্য আমাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভেবে এমন হামলা চালিয়েছে। আমি এই হামলার বিচার চাই। কাপাসিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম বলেন, নুহু আলম ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। তার সাথে বিএনপি নেতা শহিদুলের জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। এর মধ্যে রাজনৈতিক ইস্যুও ছিলো নুহু আলমের সাথে। সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিএনপি নেতা তার ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে একজন ছাত্রলীগ কর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করবে এটা লজ্জাজনক। আমরা বিএনপি নেতার এমন হামলায় বিচার দাবি করছি। এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের মারামারি বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

    বাংলাদেশ সময়: ১০:০৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৬ জুন ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ