• শিরোনাম

    অন্তরার বিসিএস দেয়া হলোনা, স্বামী নিহত

    সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের রশিদপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা

    মো. মুন্না মিয়া, সিলেট | শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 132 বার

    apps

    সিলেট থেকে ঢাকায় বিসিএস পরীক্ষা দেয়ার জন্য ডা. আল মাহমুদ সাদ ইমরান খান ও ডা. শারমিন আক্তার অন্তরা যাচ্ছিলেন। চিকিৎসক ইমরানের স্ত্রী অন্তরা গতকাল শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ৪২তম বিসিএসের প্রিলিমিনারীর পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরীক্ষায় অংশ নিতে দুই কন্যা সন্তানের জননী স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের রশিদপুর নামক স্থানে ঢাকাগামী এনা পরিবহনের একটি গাড়ী ও সিলেটগামী লন্ডন এক্সপ্রেসের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক। এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তরার স্বামী ইমরান৷ গুরুতর আহ হয়েছেন অন্তরাও। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    জানা যায়, ইমরান সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র প্রভাষক আর স্ত্রী একই কলেজে ইন্টার্নি করছিলেন অন্তরা। তিনি ইন্টার্নির পাশাপাশি ৪২ তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার্থী ছিলেন। ডা. অন্তরার স্বপ্ন ছিলো বিসিএস ক্যাডার হয়ে মানুষের সেবা করবেন। অসহায় আর ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।

    এজন্য আজ শুক্রবার (২৬ ফেব্রয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য ৪২তম পরীক্ষা দেবার জন্য সকালে নিজ বাসা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়েছিলেন দুজন। বাসায় রেখে গিয়েছেন তাদের তিন ও সাড়ে চার বছরের দুই মেয়েকে।

    তবে শুক্রবার সকাল পৌণে সাতটায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রশিদপুরে এনা পরিবহন ও লন্ডন এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তছনছ হয়ে যায় তার স্বপ্ন। নিহত ইমরান সিলেট নগরের ফাজিলচিস্ত আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আমজাদ হোসেন খানের ছেলে।

    এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন ডা. ইমরানের মা ফরিদা খানম ও তার স্বজনরা। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। তাদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। সকালে যে ছেলেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিদায় দেওয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই মুত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না মা ফরিদা। একই অবস্থা ইমরানের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের। শোকে সতব্দ দুই পরিবারের সদস্যরা।

    নিহত ডা. ইমরানের বোন ডা, ইন্নরী খান বলেন, আমার ভাই তার তার স্ত্রীকে নিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে সকালে ঢাকা যাচ্ছিলেন। এনা পরিবহণের একটি বাসে রওয়ানা দেন তিনি। যাওয়ার সময় তার দুই মেয়েকে আমাদের কাছে রেখে গেছেন। সকাল সাড়ে সাতটায় খবর পেলাম তারা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

    ডা. ইমরানের শ্বশুর মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, আমার মেয়ে শারমিনও উইমেন্স মেডিকেলে ইন্টার্নি করছে। সে চিকিৎসকদের বিশেষ বিসিএসে অংশ নিতে স্বামীকে নিয়ে সকালে সিলেট থেকে রওয়ানা হয়েছে। এরপর সকালে খবর পেলাম সে মারা গেছে।

    তিনি বলেন, সকালে ঢাকায় রওয়ানা দেওয়ার আগে তাদের সাথে কথা হয়েছে। কিন্তু কিভাবে কি হলো আমরা বুঝতে পারছি না।

    এর আগে শুক্রবার সকাল পৌনে সাতটায় সিলেটের রশিদপুরে সিলেটগামী লন্ডন এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী এনা পরিবহণের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া গুরুতর আহত হন আরও অর্ধশতাধিক যাত্রী।

    বাংলাদেশ সময়: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ