• শিরোনাম

    সিরাজগঞ্জ কোভিড-১৯ হাসপাতালে রোগীদের অবাধ যাতায়াত, নেই আইসিইউ ব্যাবস্থা অপেক্ষা অক্সিজেন প্ল্যান্টের

     টি,এম,এ হাসান, সিরাজগঞ্জ: | বুধবার, ০৭ জুলাই ২০২১ | পড়া হয়েছে 60 বার

    সিরাজগঞ্জ কোভিড-১৯ হাসপাতালে  রোগীদের অবাধ যাতায়াত, নেই আইসিইউ ব্যাবস্থা অপেক্ষা অক্সিজেন প্ল্যান্টের
    apps

    কোভিড-১৯ (করোনা আক্রান্ত) রোগী ও তাদের স্বজনদের ইচ্ছে মতো বাইরে অবাধ যাতায়াতে উচ্চ ঝুকিতে ফেলছে সবাইকে। কোনও বাধা দিলেও মানছেন না রোগী ও তাদের স্বজনরা দাবি করছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ। আর এই অবাধ যাতায়াত ও অসেচতনতা হাসপাতাল স্টাফসহ সবাইকে ভয়াবহ অবস্থায় ফেলতে পারে। সোমবার (৫ জুলাই) সকালে জেলার একমাত্র কোভিড-১৯ হাসপাতাল সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) ইউনিট ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র। পাশাপাশি এই ইউনিটে দায়িত্বরত স্টাফরা বলছেন জনবল সংকটের কথা। অন্যদিকে হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় আইসিইউ ব্যাবস্থা না থাকায় গুরুতর রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা এই হাসপাতালে। হাসপাতালে ৪টি আইসিইউ বেড থাকলেও দুইটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এবং লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট না থাকার কারনে কাজে আসছেনা বাকি দুটিও। সকালে হাসপাতালে ঢুকতেই দেখা গেলো বিভিন্ন জায়গায় মানুষজন দাঁড়িয়ে বসে থাকলেও বেশিরভাগই মাস্ক নামিয়ে রেখেছেন মুখের নিচে।

    লিফটে দেখা হলো হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় রাজু সহ আরও দুজনের সাথে। এর মধ্যে একজন কোভিড-১৯ এর ভর্তি রোগী বলে ৫ম তলার কোভিড-১৯ ইউনিটে গিয়ে জানা গেলো। তিনি মাস্ক পড়লেও মুখ খোলা রেখে নামিয়ে রেখেছেন থুতনির নিচে। গিয়েছিলেন চা খেতে। নারী ইউনিটের ভিতরে যেতেই দেখা গেলো রোগীর পাশেই স্বজনরা বসে আছেন মাস্ক ছাড়াই। শুধু তাই নয়, এরা রোগীর কাছে আসা যাওয়া করছেন ইচ্ছে মতো। নেই কোনও নীয়ম নীতি। অন্যদিকে বারান্দা দিয়ে ঘুরছেন আরও কয়েকজন কোভিড-১৯ রোগী, বলছেন সারাদিন শুয়ে বসে থাকতে ভালো লাগেনা। এদিকে কোভিড ইউনিটে দায়িত্বরত নার্স রহিমা খাতুন বলেন, বর্তমানে ১৬জন করোনা রোগী ও ৯জন লক্ষন নিয়ে সর্বমোট ২৫জন চিকিৎসাধীন আছেন। এর বিপরীতে ৪জন ডাক্তার, ৪জন নার্স ও ৬জন ওয়ার্ডবয় কাজ করছেন। তবে আরও বেশি জনবল দরকার। এছাড়াও গুরুতর রোগীদের অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে ওয়ার্ডবয় রাজু বলেন, আমরা গত ৬মাস হলো কোনও বেতন পাইনা। শুধু ঈদের আগে ৫হাজার টাকা দেয়া হয়েছিল। তাছাড়াও মাঝে মাঝে একটু অক্সিজেনের সংকট দেখা যায় বলেও জানান তারা। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ৪টা আইসিইউ বেড থাকলেও ২টা দীর্ঘদিন হলে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও সারানোর কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এবং ভালো থাকা দুটিও লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট না থাকা ও অন্য রোগীদের জন্য রাখায় কোভিড-১৯ এর রোগীরা পাচ্ছেন না আইসিইউ সহযোগিতা। অন্যদিকে কতৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় কোভিড-১৯ রোগীরা ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া দরকার থাকলেও কতৃপক্ষের উদাসীনতায় ভয়াবহ ঝুকিতে পড়ছেন অন্যান্যরা। আরেকদিকে গর্ভবতী রোগীরা পড়েছেন মহা বিপদে। ডেলিভারির সময় হলেও রোগী করোনা আক্রান্ত হওয়ায় এই হাসপাতালে করা হচ্ছেনা অপারেশন, বলা হয়েছে অন্যত্র নিতে।

    এমনই অভিযোগ করে তাড়াশ থেকে এসে ভর্তি হওয়া রোগী শামিমা খাতুনের স্বামী। প্রতিবেদককে জানান এখানে পাচ্ছেন না স্ত্রীর অপারেশনের অনুমতিও। নারী ইউনিটে রোগীর একজন স্বজন মাস্ক ছাড়াই বসে আছেন রোগির পাশে। কাজীপুর থেকে আসা ব্যাক্তির পরিচয় জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি কলেজের সহকারী অধ্যাপক পরিচয় দিয়ে বলেন এভাবে থাকাটা ঠিক হয়নি। তবে হাসপাতাল যদি একটা নিয়ম বেধে দিতো তাহলে রোগো ও স্বজনদের এই অবাধ যাতায়াত ও স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হয়ে যেত। হাসপাতালের পরিসংখ্যানবীদ জেবুন্নাহার বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ১৬জন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি থাকলেও আজ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ১৬৭জন রোগী ভর্তি হয়ে সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৬জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও মারা গেছেন দুজন। এছাড়াও অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে ৩জনকে। তিনি আরও জানান, সিরাজগঞ্জে গত বছরের ২৬আগস্ট প্রথমে বাগবাটি ৩০শয্যা হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল হিসাবে চিকিৎসাসেবা দেয়া শুরু করলেও সেখানে ৬৪জন চিকিৎসা নেবার পরে এই হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়। এসকল বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, কোভিড-১৯ রোগীদের বাইরে বের হতে নিষেধ করলে তারা স্টাফদের সাথে আক্রমনাত্বক ব্যাবহার করেন। এছাড়াও স্বজন সহ সবার যাতায়াতে একতা নিয়ম করে দেয়াটা জরুরি। তিনি আরও বলেন, এখানে একটা লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট নির্মানের কাজ চলছে। এটা সম্পন্ন হলে অক্সিজেনের চাপ অনেক বেড়ে যাবে ও সমস্যা কেটে যাবে। জনবল সংকটের বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে বলেন এসকল সমস্যা কেটে যাবে। তবে যেহেতু করোনাক্রান্তদের জন্য আইসিইউ ব্যাবস্থা নেই তাই করোনা হাসপাতাল হিসাবে এটা কতোটা কাজ করতে পারছে ও সামনে আরও খারাপ অবস্থা হলে কি হবে জানতে চাইলে, সেক্ষেত্রে অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু না হওয়া পর্যন্ত গুরুতর রোগীদের এই হাসপাতাল থেকে খুববেশি চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

    এসকল বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা করোনা রোগী ও স্বজনদের অবাধ যাতায়াত বন্ধ করবো। এছাড়াও সামনে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হলে সেটা মোকাবেলায় এখন ৫০শয্যা ব্যাবহার করা হলেও আমরা আরও বাড়াবো। এছাড়াও লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজ সম্পন্ন হলে আইসিইউ গুলো চালু করবো। তবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সৌমিত্র বসাক বলেন, আমরা এসকল বিষয় নিয়ে হাসপাতালের তত্বাবধায়ককে সাবধান করবো। এছাড়াও লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু না হলে আসলে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ কাজে আসবেনা।

    বাংলাদেশ সময়: ৮:১৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৭ জুলাই ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ